Share |

অহিদ-রাবিনা নির্বাচনী লড়াই : একটি প্রশ্নবিদ্ধ প্রেস কনফারেন্স

আগামী ৩ মে ব্রিটেনে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে  জমজমাট হয়ে ওঠছে প্রার্থীদের প্রচার ও গণসংযোগ। প্রার্থী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন নিজ নিজ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে। ভোটারদের মন জয়ে নিজের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ভোটাররা কী চান তা-ও জেনে নিচ্ছেন। কিন্তু বাঙালিপাড়া লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের চিত্র ভিন্ন। এখানে নিয়মতান্ত্রিক ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি চলছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা যা দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।

টাওয়ার হ্যামলেটসে বাঙালি কমিউনিটির ভোট যে কোনো নির্বাচনে নির্ধারণের ভূমিকা পালন করে। এই সুবাদে বিগত নির্বাচনে সকল বাধা অতিক্রম করে আর এস্টাবলিশমেন্টের চোখ-রাঙানি উপেক্ষা করে বাঙালি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এই বাঙালিদের অসন্তোষ কামাই করে গদীনসীন এমপি তার আসন হারিয়েছেন তারও বহু আগে।

অহিদ ও রাবিনা এক সময়ের সহকর্মী। এটি বেশিদিন আগের কথা না হলেও তারা  এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছেন। ঘটনাক্রমে এটা হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে প্রতিদ্বন্দ্বীকে বেকায়দায় ফেলার কসরত ভোটাররা ভালো চোখে দেখবেন না।

এবারের মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই বাঙালি প্রার্থী অহিদ আহমদ ও রাবিনা খানের মধ্যকার ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা কমিউনিকে বিরক্ত-বিব্রত করেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাবিনা খানের সার্জারিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অহিদ আহমদের সদলবল উপস্থিতি এবং বাকবিতণ্ডা মিডিয়ার খোরাক যোগালেও এ ধরণের অপ্রত্যাশিত ঘটনা বাঙালি কমিউনিটির মান-মর্যাদা কমিয়েছে বৈ বাড়ায়নি।

গত শুক্রবার ‘টাওয়ার হ্যামলেটস রেসিডেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর ব্যানারে কতিপয় যুবক আহুত সংবাদ সম্মেলনটি প্রকারান্তরে একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। কমিউনিটির স্বার্থে তাদের ঐক্যপ্রচেষ্টা রাবিনা খানের অসহযোগিতার কারণে সফল হয়নি বলে তারা ঐ সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নসমূহের সন্তোষজনক জবাব দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। যেমন, প্রায় ছয় মাস আগের সমঝোতার উদ্যোগের ফলাফল কেনো তারা নির্বাচনের মাত্র চার সপ্তাহ আগে জনসমক্ষে তুলে ধরতে এলেন? বারাবাসীর পক্ষে দুই প্রার্থীকে এক করার এই গুরুদায়িত্ব তাদের ঘাড়ে কে তুলে দিয়েছে? এসব প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য জবাব সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এক পক্ষের নির্বাচনী লিফলেট বিতরণে যাদের কেউ কেউ হয়তো তারা কিভাবে নিজেদের নিরপেক্ষ দাবী করতে পারেন আর তাদের কাছে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন আশা করা যায় কিভাবে? সুতরাং ঐ প্রেস কনফারেন্স একপক্ষের প্রচারণা ও প্রতিদ্বন্দ্বীকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে সেই সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।

আমরা মনে করি, এই চর্চা পরিহার করা উচিত। বাঙালির ঐক্যের দোহাই দিয়ে এক পক্ষের সংগীত পরিবেশন করলে এর নেপথ্যের বার্তাটি সাধারণ মানুষের কাছে আর গোপন থাকে না বরং তা হাস্যকর হয়ে ওঠে।