Share |

কমিউনিটির ঐক্যের ডাক সাবেক লেবার নেতাদের : পিপল্স অ্যালায়েন্সে খালিস উদ্দিন

পত্রিকা রিপোর্ট 

লন্ডন, ৯ এপ্রিল : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার ও কাউন্সিলার খালিস উদ্দিন আহমদ রাবিনা খান সমর্থিত পিপলস অ্যালায়েন্সে যোগ দিয়েছেন। তিনি আসন্ন কাউন্সিল নির্বাচনে  পিপলস অ্যালায়েন্সের হয়ে লড়বেন। লেবার পার্টি থেকে সম্প্রতি বহিষ্কৃত খালিস উদ্দিন গত ৯ এপ্রিল সোমবার পূর্ব লন্ডনের নিডা হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন খালিস উদ্দিন। কাউন্সিলার খালিস গত ৮ বছর ধরে ব্রমলী নর্থ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্রমলী নর্থ নাগরিক ফোরাম। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব আফসর উদ্দিন। এ সংবাদ সম্মেলনে কমিউনিটির ঐক্যের ডাক দিয়েছেন টাওয়ার হ্যামলেটস লেবারের সাবেক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লেবার দলের সাবেক নেতা রাজন উদ্দিন জালাল বলেন, আমি একসময় লেবার পার্টির সদস্য ছিলাম। লুতফুর রহমান, রাবিনা খান কেউই শখ করে লেবার পার্টি ছাড়েননি। যিনি এখন টাওয়ার হ্যামলেটসের মুকুট পরে আছেন, তিনি আমাদের সোশ্যাল অর্গেনাইজেশনগুলো ধ্বংস করেছেন। আজকে শহীদ ভবন বন্ধ, গ্রান্ট নাই। বাঙালির অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে গত ২৫ বছর ধরে। আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন, আমাদেরকে এককভাবে মেয়র প্রার্থী করতে হবে।  

কমিউনিটি নেতা সিরাজ হক বলেন, বাঙালি কেউ মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে তাকে ধমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। আমাদের অনেকেই আজ দালালীর ভূমিকায় অবতীর্ণ। এখন কমিউনিটির ঐক্যের প্রয়োজন।  খালিদ উদ্দিন এতকাল লেবার দলীয় রাজনীতিক ছিলেন। ২০১৫ সালে লেবার দলের জন বিগস মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর খালিস উদ্দিন স্পিকার পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। দলীয় শৃঙ্গলা ভঙ্গের অভিযোগে তিনি ২০১৬ সালে একবার দল থেকে সাসপেন্ড হন। সাসপেনশন কাটিয়ে তিনি দলে ফিরে আসেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফলে লেবার দল থেকে তিনি কাউন্সিলর পদে এবার মনোনয়ন পাননি। এ অবস্থায় তিনি পিপলস অ্যালায়েন্স দলের মেয়র প্রার্থী রাবিনা খানের নেতৃত্বে কাউন্সিলর পদে লড়ার ঘোষণা দিলেন।  টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টি তার প্রতি অবিচার করেছে বলে অভিযোগ করেন খালিস উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে  বলেন, সম্প্রতি লেবার পার্টি দ্বারা তার নমিনেশন প্রত্যাহার করেছে। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে যাতে তিনি লেবার দলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। 

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ২০১৬ সালে খালিদ উদ্দিনকে  লেবার দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। দীর্ঘ ১০ মাস তদন্তের পর তাকে আবার দলে ফেরত নেয়া হয়। সম্প্রতি তাঁকে আবার লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাহস করে জনগণের পক্ষে কথা বলার বলার কারণে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির মধ্যে  ঘাপটি মেরে থাকা দুষ্ট চক্রের রোষাণলে পড়েছেন বলে দাবি করেন খালিস উদ্দিন।  কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে মেয়র হিসেবে রাবিনা খানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের কাছে আহবান জানান খালিস উদ্দিন। তিনি বলেন, রাবিনা খান শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি কমিউনিটির মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে সক্ষম হবেন।  তিনি সবসময় বারার জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন দাবি করে বলেন, বারার জনগণের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তিনি যেকোনো ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, টাওয়ার হ্যামলেটসের বর্তমান লেবার দলীয় মেয়র জন বিগস সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে আবারও মেয়র পদে প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন।  যে কারণে তিনি শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধীতা করে আসছিলেন। তিনি জন বিগসের কর্মের সমালোচনা করে বলেন, মেয়র বিগস তার একক সিদ্ধান্তে  নাফাস ড্রাগ সার্ভিস বন্ধ, সেলফ এমপ্লয়েডদের কাউন্সিল ট্র্যাক্স রিডাকশন বাতিল, সোশ্যাল কেয়ার চার্জ বৃদ্ধি, কাউন্সিল পরিচালিত ডে নার্সারী বন্ধ, পপলার হারকার সোশ্যাল হাউজ বিক্রি এবং পার্কিং চার্জ বৃদ্ধিতে নিরব সম্মতি দিয়েছেন। মেয়রের এমন সিদ্ধান্ত কমিউনিটির জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে।  

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্রমলী নর্থ ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণ আবারও আমাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং আমার ওয়ার্ডের জনগণই আমাকে মেয়র প্রার্থী রাবিনা খানের গ্রুপ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার দাবি জানান।  এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের  নির্বাহী মেয়র জন বিগস বলেছেন, কাউন্সিলর খালিস উদ্দিন আহমদ বহিষ্কার হয়েছেন কেন্দ্রীয় লেবার পার্টির তদন্তের ভিত্তিতে। দলের একজন মহিলা সদস্যকে বর্ণবাদী গালি দেয়ার অভিযোগের কারণে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। খালিস উদ্দিনের বহিষ্কারের সাথে তাঁর নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নাই বলে দাবি করেন জন বিগস।  বিবৃতিতে বিগস বলেন, খালিস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য না হলে তাঁর উচিত ছিলো তদন্তকালে বহিষ্কারাদাশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। কিন্তু তিনি এই অভিযোগ খণ্ডনের পরিবর্তে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।