Share |

জালিয়াতি করে ৪৩৭ জনকে আইএলআর : সাজার মুখে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাসহ চারজন

 

পত্রিকা রিপোর্ট

লন্ডন, ০৯ এপ্রিল : অর্থের বিনিময়ে জালিয়াতির করে ৪৩৭ জনকে ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ (ইন্ডিপেনডেন্ট লিভ টু রিমেইন বা আইএলআর) করে দিয়েছেন শামসু ইকবাল তিনি কাজ করতেন হোম অফিসের ইমিগ্র্যাশন বিভাগে যে কারণে তিনি এমন জালিয়াতি করতে সক্ষম হন  ৬১ বছর বয়স্ক শামসু ইকবাল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে ধারণা তাঁর সহযোগী ছিলেন আরও তিনজন, যাদের একজন বাংলাদেশি এবং অপর দুইজন পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত গত বুধবার ( এপ্রিল) লন্ডনের ক্রয়ডন ক্রাউন কোর্ট চারজনকেই জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্থ করে এই সপ্তাহে তাদের সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা  

আদালতের শুনানীতে বলা হয়, শামসু ইকবাল তাঁর কাজের সুবাদে অভিবাসীদের তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করতে পারতেন স্থায়ীবাসের অনুমোদন আছে এমন ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবহার করে তিনি অবৈধ অভিবাসীদের ভুয়া ভিসা বানিয়ে দিতেন এতে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসী একটি নতুন পরিচয়ে হোম অফিসের কোছে চি?িত হতেন প্রায় তিন বছরের তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট ৪৩৭টি জালিয়াতির ঘটনা উদঘাটন করেছে ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে

শুনানীতে বলা হয়, চুরির দায়ে ঘানা থেকে আসা এক বৈধ অভিবাসী জেলে আছেন তিনি ব্রিটেন থেকে বিতাড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন এই ব্যক্তির হোম অফিসে সংরক্ষিত তথ্য পালটে দিতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় জালিয়াত চক্র শামসু ইকবালের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইব্রাহিম আলী (৪৮) এবং দুই পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত শেখ মোহাম্মদ ওসমান (৪৫) মোহাম্মদ খাওয়ার আফতাব হোসেন (৪৯) এরা তিনজনই অভিবাসন বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এই তিনজন গ্রাহক সংগ্রহ করতো আর শামুস ইকবাল তথ্য বদলে দেয়ার কাজটি করতেন 

শামুস ইসলামের বেতন ছিল বছরে ২৩ হাজার পাউন্ড কিন্তু তাঁর ব্যাংক হিসাবে পাওয়া যায় নগদ ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পাইয়ে দেয়ার মাধ্যমে তাঁরা গ্রাহক প্রতি ১৪ হাজার পাউন্ড নিতেন এই অর্থ তাঁদের চারজনে মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হতো চক্রটি পর্যন্ত ৬০ লাখ পাউন্ডের বেশি হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা যার বেশির ভাগ অংশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান দুবাইয়ে পাচার হয়ে গেছে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা   

হোম অফিসের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, এই চক্র হয়তো আরও অনেককেই স্থায়ীবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছে কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা কখনো জানা সম্ভব হবে না হোম অফিসের পরিসংখ্যানবিদরা বলছেন, জালিয়াতির মাধ্যমে বৈধ বাসিন্দা হিসেবে অবস্থান করা অভিবাসীরা যদি গত ছয় বছর বেনিফিট নিয়ে থাকেন, তবে এতে করদাতাদের সম্ভাব্য ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ পাউন্ড