Share |

নাইফ ক্রাইম : সমালোচনায় বিদ্ধ মেয়র সাদিক খান ইউসুফ শেখ

লন্ডন, ১৬ এপ্রিল : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে নাকি নাইফ ক্রাইম সবচেয়ে বেশি হয় কিন্তু লন্ডনে সাম্প্রতিক সময়ে নাইফ ক্রাইম এতটাই বেড়েছে যে নাইফ ক্রাইমে নিউ ইয়র্ককে ছাড়িয়ে গেছে লন্ডন ঘটনায় কঠোর সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন লন্ডন মেয়র সাদিক খান তরুণদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য মেয়র সাদিক খানের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে জবাবে সাদিক খান বলছেন, সরকার পুলিশ সার্ভিসে যে বাজেট কর্তন করেছে, তার কারণেই এই অপরাধ প্রবাণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে তিনি লন্ডনের রাস্তায় আরও পুলিশ নিয়োজিত করেছেন বলে জানান

 চলতি বছর লন্ডনে মোট নাইফ ক্রাইমের ঘটনা ঘটেছে ৩৫টি এরমধ্যে গত সপ্তাহে এক রাতেই ঘটে ৬টি ঘটনা এসব কারণে লন্ডনের আইনশৃৃখলা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠে বলা হয়, পুলিশ লন্ডনের রাস্তার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেছে জবাবে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের প্রধান ক্রেসিডা ডিক বলেন, পুলিশের হাতেই নিয়ন্ত্রণ আছে তিনি অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে তরুণদের মধ্যে অপরাধ বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেন  মেট্রোপলিটন পুলিশ এর তথ্য অনুযায়ী ব্রিটেনে ২০১৭ সালের  সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৪৪৩টি নাইফ ক্রাইম রেকর্ড করা হয়েছিল এবং হাজার ৬৯৪ টি গান ক্রাইম রেকর্ড করা হয়েছিল লন্ডনের অবস্থা অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ভয়াবহ সময়ে লন্ডনে ১২ হাজার ৯৮০ টি নাইফ ক্রাইম রেকর্ড করা হয় যা এর আগের বছরের তুলনায় হাজার ৪৫২টি বেশি 

নিউ ইয়ার্স ইভে চার তরুণকে মারাত্মক নাইফ আক্রমণে হত্যা করা হয়েছিল মার্চে হত্যা করা হয়েছিল ২২ জনকে রেকর্ড বলছে, চলতি বছর, নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডনে উচ্চ হত্যার হার বিদ্যমান লন্ডন মেয়র সাদিক খান বলেছেনমারাত্মক অপরাধগুলোর মধ্যে নাইফ ক্রাইম একটি অপরাধ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসজুড়ে বাড়ছে পরিষ্কারভাবে এটি একটি জাতীয় সমস্যা  ফলে সমস্যার জাতীয় সমাধান প্রয়োজন 

লন্ডন মেট্রোপলিটান পুলিশ বলছে আটককৃত অপরাধীদের অধিকাংশ নাইফ/ব্লেড ব্যবহার করতো তাদের অনেকের সাথে গ্যাং কালচারের সম্পর্ক নেই  ধারণা করা হয় গ্যাং সদস্যরা নাইফ ক্রাইমের জন্য দায়ী গ্যাংয়ের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে তরুণরা নাইফ ক্রাইমে জড়িয়ে পড়ছে  পুলিশের হাতে আটক একজন তরুণ বলেন, তিনি গ্যাংয়ের সদস্য নন কিন্তু তিনি এক সময় নাইফ সাথে রাখতেন তিনি বিশ্বাস করতেন তরুণরা নাইফ বহনকরে নিরাপত্তার জন্য 

২০১৪/১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে নাইফ ক্রাইম বেঢ়ে ছিল শতাংশ আর ওই সময়ে লন্ডনে এই অপরাধ বৃদ্ধির হার ছিল ১৬ শতাংশ পুলিশ বলছে, আটককৃত ৭৫ শতাংশ অপরাধীর গ্যাং কালচারের সাথে সম্পৃক্ততা নেই 

পুলিশ রেকর্ড ক্রাইম অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে ডাকাতি আক্রমনে সবচেয়ে বেশি ব্যাবহৃত হয়েছে নাইফ প্রায় ১৪ হাজার ৮১৬টি ডাকাতি সংঘটিত হয়েছিল নাইফ ব্যবহার করে আর নাইফ দিয়ে আঘাতের ঘটনা ঘটেছিল ১৮ হাজার ৫৭১টি 

পরিসংখ্যান বলছে, হত্যা হুমকিতে নাইফ ব্যবহার করা হয়েছে শতাংশ, নরহত্যায় শতাংশ ধর্ষণে শতাংশ ২০১৬ সালে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের দুটিতে ভিক্টিমকে মারাত্মকভাবে নাইফ দিয়ে জখম করা হয় ওই বছর ৩৯ শতাংশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাইফ বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় ১৮ শতাংশ হত্যা হয়েছিল আঘাত লাথিতে বন্দুকের গুলি অন্যান্য উপায়ে হত্যার ঘটনা শতাংশ   মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর হত্যার শিকার হওয়া অধিকাংশের বয়স ২০ বছর বা এর কম