Share |

কাউন্সিল নির্বাচন ২০১৮ : জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নেই আলোচনায়

স্থানীয় নির্বাচনের আর মাত্র দিনকয়েক বাকী আগামী মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে উত্তেজনা বরাবরের মতোই অপেক্ষাকৃত বেশী মেয়র কাউন্সিলার পদে আড়াই শতাধিক প্রার্থী এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন সেই কারণে তৎপরতা যে বেশী হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয় 

কিন্তু এবারের নির্বাচনে লক্ষ্যনীয় দিক হচ্ছে, জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা বা বিতর্ক পরিলক্ষিত হচ্ছে না ক্ষমতাসীন কিংবা ক্ষমতায় যেতে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা প্রার্থীরা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বটে কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি আসলেই বাস্তবায়িত হবে কিনা অথবা এসব বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে বিতর্ক-আলোচনা হচ্ছে না নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীনদের বিগত দিনের কার্যক্রম জবাবদিহিতা আদায় করার একটা মোক্ষম সুযোগ তৈরী হয় কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বিপরীতে শক্ত কোন বিরোধী গ্রুপ না থাকায় এবার সেই জবাবদিহিতার বিষয়টি দৃশ্যমান নয় 

পাশাপাশি সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন দল ভেঙ্গে দুই ভাগ হওয়া এবং কনজারভেটিব থেকে প্রথমবারের মতো মেয়র হিশেবে বাঙালি প্রার্থী হওয়া ইত্যাদি কারণে ভোটের হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে অনেকখানিই এই বারাতে বাঙালি ভোট বরাবরই নির্বাচনী ফলাফলে নির্ধারণী ভূমিকা রাখে সেই ভোট এবার দ্বিধাবিভক্ত আর মেয়র পদে তিন বাঙালির প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই বিভক্তিকে আরও জটিল হিসেবে ফেলে দিয়েছে  সবমিলিয়ে এবার নির্বাচনী মাঠে এক ধরনের অসহিষ্ণু মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে দুসপ্তাহ আগে এক প্রার্থীর রক্তাক্ত চেহারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে গত সপ্তাহে আরেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইনে গিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ এসেছে ক্ষমতার বাইরে থাকা প্রার্থীরা পর?রকে দোষারোপ করছেন 

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে- জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে জনকল্যাণ জনস্বার্থে প্রার্থীদের ভূমিকা কী হবে তার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কাছে বেশী গুরুত্ব পাচ্ছে পর?রকে ঘায়েল করার নানা তৎপরতা 

আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরীর জন্য এটি মোটেও সহায়ক নয় আর ভোটারদের প্রতি এটি চরম অবিচার কারণ লিফলেটের প্রতিশ্রুতিই সব নয় প্রয়োজন জনসমক্ষে তাদের নিজ নিজ পলিসির যথার্থতা তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া 

আমরা আশা করবো, প্রার্থীরা পরস্পরের পেছনে ব্যস্ত না হয়ে তাদের নিজ নিজ পলিসি অঙ্গীকার নিয়ে জনসমক্ষে বিতর্কে উপস্থিত হবেন তাহলেই কেবল ভোটাররা বিচার-বিবেচনা করে তাদের মূল্যবান ভোটের সদ্ব্যবহার করতে পারবেন জনগণের জন্য কাজ করার সত্যিকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যারা রাজনীতিতে এসেছেন তাদের এতে ভয় পাওয়ার কিছু থাকার কথা নয়