Share |

৪ মে শুক্রবার আলতাব আলী দিবস পালনে নানা কর্মসূচী

লন্ডন, ৩০ এপ্রিল : বর্ণবাদী হামলায় নিহত আলতাব আলীর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিক আগামী শুক্রবার ৪ মে। প্রতিবারের মতো এ বছরও বর্ণবাদীদের রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠনসহ স্থানীয় কাউন্সিল।  এই উপলক্ষে আলতাব আলীর স্মৃতি ধরে রাখতে নব্বই দশকে গঠিত আলতাব আলী মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী শুক্রবার ৪ মে বিকাল ৭টায় র‌্যালী ও স্মরণ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।  
আলতাব আলীর নামে প্রতিষ্ঠিত পার্কে নির্মিত বাঙালির গর্বের মহান একুশের শহীদ মিনারে আয়োজিত এ স্মরণ সমাবেশে আলতাব আলীসহ বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহীদ মিনারে পু?স্তবক অর্পণ করা হবে।
এদিকে, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ৪ মে শুক্রবার বিকাল ৬টায় নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালন করবে আলতাব আলী দিবস। ৪ মে বিকাল ৬টায় আলতাব আলী পার্কে আলতাব আলী দিবসের অনুষ্ঠানে থাকবে কবিতা, কাউন্সিলের ইয়ূথ আর্টস টীমের পরিবেশনা, পু?স্তবক অর্পণ, আলোচনা ইত্যাদি। ৫ মে শনিবার বেলা ২টা ও ৭.৩০টায় ব্রাডি আর্টস সেন্টারে মঞ্চস্থ হবে নাটক ব্রিক লেন ৭৮। সন্ধ্যার মঞ্চায়নের সময় টেলিভিশন প্রেজেন্টার উর্মি মাজহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা পর্ব। রবিবার ৬ মে ৪.৪৫ টায় ব্রাডি সেন্টারে প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিচত্র। এছাড়া ৩ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ব্রাডি সেন্টারে প্রদর্শিত হবে ১৯৭৮ হোপ নট হেইট শিরোনামের একটি প্রদর্শনী। এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাবেক কাউন্সিলার রাজন উদ্দিন জালাল ও আকিকুর রহমান সকলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।  
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ৪ঠা মে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব লন্ডনের এডলার স্ট্রিটে বর্ণবাদীরা আলতাব আলীকে খুন করে। যে জায়গাটিতে আলতাব আলী শহীদ হয়েছিলেন সেই স্থানটিতেই নব্বই দশকে নির্মিত হয়েছে আলতাব আলী পার্ক। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাঙালির গর্বের মহান একুশের শহীদ মিনার।  
আলতাব আলী ছিলেন ব্রিটেনে অভিবাসী বাংলাদেশি, একজন গার্মেন্ট শ্রমিক। সেই সময়টিতে বিশেষ করে ৭০ থেকে ৮০র দশক পর্যন্ত আলতাব আলীসহ অনেক বাঙালি অভিবাসী বর্ণবাদীদের হামলার শিকার হন। তবে আলতাব আলীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জেগে ওঠে প্রবাসী বাঙালি। অন্যান্য অভিবাসীরাও নির্যাতন-নিপীড়ন ও অধিকার আদায়ের দাবীতে সোচ্চার হন। বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ায়। সেদিন ১০ ডাউনিং স্ট্রীট অভিমুখী তাঁর কফিনের মিছিলে শরীক হয়েছিলেন কমপক্ষে সাত হাজার মানুষ। ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে মানুষ অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তাই আলতাব আলী এখনো বাঙালিসহ অভিবাসীদের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার প্রেরণা।