Share |

টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচন ২০১৮ : রাজনীতিকদের জন্য স্পষ্ট বার্তা

গত ৩ মে হয়ে যাওয়া স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এমন ফলাফল প্রার্থীরা তো বটেই ভোটাররাও হয়তো কল্পনা করেননি। নির্বাহী মেয়র হিসাবে লেবার প্রার্থী জন বিগসের পুনর্নিবাচিত হওয়ার বিষয়টি বহু আগে থেকেই একরকম নিশ্চিত ছিলো। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে কাউন্সিলার হিসেবে এলাকাবাসীর প্রতিনিধিত্ব করা হেভিওয়েট প্রার্থীরা যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন পরাজয় বরণ করেন তখন বুঝতে হবে ভোটাররা এবার তাদের জন্য বিশেষ এক বার্তা দিচ্ছেন এর মাধ্যমে।
ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশী বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস বারাতে অতীতে একাধিকবার বাঙালি ভোট নির্ধারণী ভূমিকা পালন করেছে ফলাফলে। তাহলে এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীরা এতো কম ভোট পেলেন কেনো সেই প্রশ্নই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে। এবারে ব্যালটে ভোটাররা যে বার্তা খুব পরিষ্কারভাবে রাজনীতিকদের কাছে পৌছে দিয়েছেন তা হলো- কমিউনিটিতে বিভক্তি তারা বরদাশত করবেন না। এই এলাকায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে বাঙালিরা নিজেদের একজনকে জনপ্রতিনিধির আসনে দেখতে চাইতেই পারে। কিন্তু বাঙালির সেই আবেগ-অনুভূতির বদৌলতে যারা নেতৃত্বে আসীন হতে চান তারা যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ করে বিভক্ত হয়ে পড়েন তখন তা মানুষের মধ্যে শুধু বিরক্তি নয় হতাশারও জন্ম নেয়। সেই বিরক্তি আর হতাশাই যেনো ফুটে উঠেছে এবারের নির্বাচনের ফলাফলে।
এবারের নির্বাচনে সাবেক মেয়র লুতফুর রহমান ও তার সমর্থিত প্রার্থী মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদেরই সাবেক সহকর্মীর সাথে। ফলাফল? যা ভাবা হয়েছিল তা-ই। আদালতের রায়ে লুতফুর রহমানকে অপসারণের দুই মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের জুনের নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থী রাবিনা খান যেখানে ২৫,৭৬৩ ভোট পেয়েছিলেন সেখানে এবার অহিদ আহমদ এবং রাবিনা খানের প্রাপ্ত ভোটের যোগফলও সেই সংখ্যার চেয়ে প্রায় দেড় হাজার কম। এর অর্থ হচ্ছে- দুই প্রার্থী হওয়ার কারণে ভোটাররা এই সহজ হিসাবটি কষে নিয়েছেন যে, ক্ষমতাসীন লেবার প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই দুই প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ার কারণে এ দুজনের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
আর নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে জয়ের নৌকায় ভোট দেওয়ার একটি মানসিকতা কাজ করে। কেউই নিজের ভোটটা নষ্ট করতে চায় না। আর এজন্যই জন বিগস গতবার ২৭,২৫৫ ভোট পেলেও এবার প্রথম রাউণ্ডেই পেয়েছেন ৩৭,৬১৯ ভোট। অথচ গতবারের ৩৭.৭৩ শতাংশের স্থানে এবার প্রদত্ত ভোটের হার বেড়েছে মাত্র ৪১.৯৬ শতাংশ।  
অহিদ আহমদ দীর্ঘদিন কাউন্সিলার ছিলেন। বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা তাঁর ছিলো। ডেপুটি মেয়র ছিলেন লুতফুর রহমানের আমলে। কিন্তু তিনি কিনা এবার তার ওয়ার্ডে কাউন্সিলার পর্যন্ত হতে পারলেন না। অবশ্য লেবার তুফানে বিরোধীশিবির যেখানে লণ্ডভণ্ড সেখানে রাবিনা খান কাউন্সিলার পদে বিজয়ী হয়ে তার যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁকে অভিনন্দন। কিন্তু তিনি একাই গেছেন টাউন হলে। নিঃসঙ্গ তিনি কীই-বা করতে পারবেন আমরা জানিনা। লুতফুর রহমান সমর্থিত অহিদ আহমদের তো সেই সান্তনাও নেই। তার দলের একজন কাউন্সিলারও পাশ করতে পারেননি। কেনো এমন বেহাল দশা হল তার কারণ চি?িত করে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হলেও কমিউনিটির স্বার্থবিরোধী তৎপরতা অথবা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের অবস্থানের কারণে এই লেবার পার্টিকেও প্রত্যাখ্যানের নজীরও রয়েছে।  
আমরা পুননির্বাচিত মেয়র জন বিগসকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করবো বিরোধী শিবিরহীন একচ্ছত্র ক্ষমতা যেনো তাকে আত“তুষ্টি কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার দিকে ঠেলে না দেয়।