Share |

মাহে রামাদান স্বাগতম

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বুধবার কিংবা তা নাহলে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে আরবী চান্দ্র-সনের নবম মাস রামাদান। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ মুতাবিক হিজরি দ্বিতীয় সনে এ রামাদানকে সিয়াম সাধনার মাস হিশেবে নির্ধারিত করেন বিশ্বপ্রতিপালক মহান আল্লাহ্। রামাদান শব্দের অর্থ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ, দাহন, দাহিকা শক্তি। এই দাহিকা শক্তি উম্মতে মুহাম্মাদির প্রায় সকল পাপকে পুড়িয়ে তাদের নি?াপ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এই মাসকে সিয়ামের জন্য ধার্য করে দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলআমীন কুরআনের সূরা বাকারায় বলেছেন : ওহে, তোমরা যারা ঈমান এনেছো! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান দেওয়া হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি, যার মাধ্যমে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, রোজা একান্তই আমার জন্য রাখা হয় এবং আমিই এর প্রতিদান দেবো।  
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও এহতেসাবের (আত্মপর্যালোচনা) সাথে রোজা রাখবে তার অতীতের গুনাহ-অপরাধ মাফ করে দেওয়া হবে।’  
রাহমাত বারাকাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির এ মহিমান্বিত মাসের মর্যাদা প্রদান প্রতিজন মুসলমান নর-নারীর একান্ত কর্তব্য। এ মাসে অবতীর্ণ হয় মানবতার মুক্তিসনদ মহাগ্রন্থ আল কুরআন। এ মাসেই হক ও বাতিলের চূড়ান্ত সংঘর্ষ-বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। তারাওয়ীহ-তাহাজ্জুদ-সেহরি ও ইফতারের এ মাস বিশ্ববাসীর কাছে সাম্য-ভ্রাতৃত্ব এবং ক্ষুধার্তের কষ্ট উপলব্ধির মহান বার্তা নিয়ে আসে। সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের যে অফুরান সুযোগ রয়েছে, তা আর বাকি এগার মাসে নেই। এ মাসেই করা হয় ইতিকাফ। এ মাসেই রয়েছে হাজার বছরের চেয়ে উত্তম একদিন-লাইলাতুল কদর। সে অর্থে ইবাদতির এক উত্তম মাস এই রামাদান।  
অধিকসংখ্যক লোককে ইফতারি করানোর চেষ্টা করতে হবে। আত্মপর্যালোচনা করতে হবে। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। অন্যায় কৃতকর্মের জন্য অনুশোচন করতে হবে, হতে হবে অনুতপ্ত; খাঁটি নিয়তে করতে হবে তওবা। যথারীতি তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে। সম্ভব হলে ইতিকাফ করতে হবে।  
মহাগ্রন্থ আল কুরআনে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করা হয়েছে-সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাক্বওয়া অর্জন। তাক্বওয়া মানব-মনের ওই অবস্থাকে বলে যার ফলে ছোট-বড় সকল  পাপের প্রতি প্রচণ্ড বিরাগ ও পুণ্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ সৃষ্টি হয়। যেহেতু পশুসুলভ প্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ সাধারণত দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই রমজানের রোজার মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খোদাভীতির অবস্থা তৈরি হয়ে যায়। এ জন্যে রাসূল সা. নির্দেশিত পন্থায় সিয়াম সাধনার মধ্য?দিয়ে আমাদেরকে তাক্বওয়া অর্জন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্যে লাভ করতে হবে। আর তা সম্ভব হলে দূর হবে ব্যক্তিক-পারিবারিক-সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার-অশান্তি। পৃথিবীজুড়ে বয়ে যাবে কাঙিক্ষত প্রশান্তির সুগন্ধ-সুবাতাস।  
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র এই মাসে হক আদায়ের সক্ষমতা দান করুন। সবাইকে মাহে রামাদান মোবারক।