Share |

আকাশ ছোঁয়ার গল্প: কমিউনিটিকে সাথে নিয়ে চলতে চায় ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ

তবারুকুল ইসলাম 
পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের ইতিহাস-সংগ্রামের শিকড় এখানেই প্রোথিত। আর টাওয়ার হ্যামলেটসেই গড়ে উঠেছে ব্রিটেনের সবচেয়ে অভিজাত ও নান্দনিক বাণিজ্যক এলাকা ক্যানারি ওয়ার্ফ। ৯৭ একর জায়গায় ৩৯টি আকাশচুম্বী বহুতল ভবন। এটি এখন লন্ডনের অন্যতম বাণিজ্যিক হাব। বিশ্বের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয় ক্যানারি ওয়ার্ফে। বাড়ির কাছে এমন অত্যাধুনিক স্থাপত্যশৈলি আর বড় বড় কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের আনাগোনা দেখতে পাওয়ার বিষয়টি টাওয়ার হ্যামলেটসবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের। সৌভাগ্য এ কারণে যে, বিশাল কিছুর সাক্ষী হওয়া মনকেও বিশাল করে। দৃষ্টিভঙ্গিতে এনে দেয় বিশালত্ব। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা যোগায় বাড়ির কাছের এতসব সুযোগ-সুবিধা।
ক্যানারি ওয়ার্ফের বিশাল এলাকাজুড়ে সুউচ্চ সব স্থাপনা। পরিপাটি পরিবেশ। এসব কিছুর মালিক ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ। এ এলাকার দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করছে তারা। বিশাল কর্মযজ্ঞ তাদের। বিলিয়ন পাউন্ডের কাজ কারবার। নির্মাণ ও ভবন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের নাম থেকেই এই এলাকার নামকরণ ক্যানারি ওয়ার্ফ। 
ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ কি করে এতসব বিশাল আয়োজন করতে পারলো? এতবড় কোম্পানি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি কি দায়িত্ব পালন করে? এ কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই বা কি? এমন আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাপ্তাহিক পত্রিকা মুখোমুখি হয় ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের সেক্রেটারি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন গারউডের। সম্প্রতি ক্যানারি ওয়ার্ফের সুউচ্চ ওয়ান কানাডা স্কয়ারের ৩৯ তলার নিজ কার্যালয়ে বসেই কথা হয় জন গারউডের সঙ্গে। ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের বিশাল কর্মযজ্ঞের পাশাপাশি জানা গেল কমিউনিটির সেবায় এই প্রতিষ্ঠানের নানা কার্যক্রমের কথা। ওয়েস্টহ্যাম ফুটবল ক্লাবের একনিষ্ঠ সমর্থক জন গারউড ২০০১ সাল থেকে কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  
ক্যানারি ওয়ার্ফের জন্মকথা
শুরুতেই ক্যানারি ওয়ার্ফের জন্ম ইতিহাসে নিয়ে গেলেন জন গারউড। বর্তমান যে ক্যানারি ওয়ার্ফ সেটি ছিল ডকইয়ার্ড। জাহাজ ভিড়তো এখানে। পণ্য আসতো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আমদানি-রপ্তানির বড় কাজ কারবার ছিল এখানে। কিন্তু গত ৬০ এর দশকে দশকে টিলব্যারি পোর্ট চালু হলে মার খায় ডকল্যান্ড। এখানে আর আগের মত জাহাজ ভিড়ে না। কর্মহীন হয়ে পড়ে লোকজন। প্রাণ হারায় ডকইয়ার্ড। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সময়ে এই নি?্রাণ হয়ে পড়া ডকইয়ার্ডকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। 
বেশ বড় বাজেটের দরকার। আলোচনা হয় ব্যাংকগুলোর সাথে। ব্যাংকগুলোর বেক অফিস হিসেবে ব্যবহারের জন্য এখানে কিছু করা যায় কিনা। ব্যাংকগুলোকে ডেভেলপমেন্টের জন্য জায়গাটি দেয়া হয়। এরমধ্যে নতুন ধারণা নিয়ে হাজির হন দক্ষিণ আমেরিকান নির্মাণ ব্যবসায়ী পল রাইটম্যান। তিনি ক্যানারি ওয়ার্ফের বর্তমান ধারণা উপস্থাপন করেন। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে তিনি ১৯৯৫ সালে কিনে নেন ৯৭ একর জায়গার এই এলাকা। ১৯৯৯ সালে কোম্পানিটিকে তিনি শেয়ার বাজারে নিবন্ধিত করেন। 
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন গারউড বলেন, শুরুতে ক্যানারি ওয়ার্ফের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যোগাযোগ। কারণ মানুষ যদি সহজে এবং স্বল্প সময়ে যোগাযোগ করতে না পারে, তবে ক্যানারি ওয়ার্ফে ব্যবসা-বাণিজ্য, বসবাস কিছুই জমবে না। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডিএলআর সার্ভিসকে লিভারপুল স্ট্রিট স্টেশন পর্যন্ত সম্প্রসারণে টিএফএলকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করে ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজতর করা প্রয়োজন এবং লন্ডনের যে কোনো প্রান্ত থেকে যাতে মানুষ দ্রুত ক্যানারি ওয়ার্ফে আসতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য তারা জুুবিলি লাইনের সেবা সম্প্রসারণের জন্য ৪শ মিলিয়ন পাউন্ড টিএফএলকে প্রদান করে। যাতায়াত বাড়ে মানুষের। যোগাযোগ সহজতর হওয়ার কারণে এখন ক্যানারি ওয়ার্ফ কেবল জমে উঠেনি, এটি ইউরোপের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।  এক নজরে ক্যানারি ওয়ার্ফ
 ক্যানারি ওয়ার্ফ বর্তমান সময়ের একটি আইকনিক স্থান। ৯৭ একর জায়গা জুড়ে নান্দনিক সব বহুতল ভবন। সবচেয়ে উঁচু ভবনটি হলো ওয়ান কানাডা স্কয়ার। ৫০তলা বিশিষ্ট এই ভবনটি ৮শ ফিট উচ্চতার। নিচতলা থেকে ৫০ তলায় পৌঁছাতে লিফটে সময় লাগে মাত্র ৪০ সেকেন্ড। শুধু এই একটি ভবনের বিভিন্ন বিভাগে যেতে লিফট আছে ৩২টি। প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ এই ভবনে কাজ করে। 
ক্যানারি ওয়ার্ফের ৫টি শপিং মলে আছে তিন শ দোকান ঘর। আছে সিনেমা হল, ইভেন্ট ভেন্যু, শরীর চর্চাকেন্দ্র, পার্ক এবং রেসিডেন্সিয়াল ভবন। ক্যানারি ওয়ার্ফ এসব ভাড়া দেয়। তারা এসব ব্যবস্থাপনা করে। 
১২ শতাধিক লোক ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের জন্য কাজ করে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই এলাকার ৫টি প্রবেশ দ্বারে নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়। নিরাপত্তার কাছে নিয়োজিত আছেন ৫২২ জন। সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মী আছেন ১৪ জন। ১৮শ সিসিটিভি ক্যামেরা পুরো এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। ক্যানারি ওয়ার্ফে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার লোকের কর্মসংস্থান। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এখানে ব্যবসা ও বিনোদনের জন্য ছুটে আসেন।  
ক্যানারি ওয়ার্ফ এডুকেশন ট্রাস্ট 
আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া পত্রিকার পাতায় বাঙালি শিক্ষার্থীদের এ লেভেল এবং ও লেভেল পরীক্ষার সেরা ফলাফলগুলো নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ আয়োজন দেখে অবাক হন জন গারউড। বুঝা গেল বাঙালি শিক্ষার্থীদের এমন চমকপ্রদ ফলাফলের কথা তাঁর অজানা ছিল। কোনো প্রশ্ন করার আগেই তিনি শুরু করলেন, স্থানীয় তরুণদের শিক্ষিত ও কর্মদক্ষ করে তোলার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ। কোম্পানি সেক্রেটারি জন গারউড জানান, করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির অধীনে তারা যে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ক্যানারি ওয়ার্ফ এডুকেশন ট্রাস্ট’। জিসিএসই সম্পন্ন করেছে এমন শিক্ষার্থীদের কারিগরী শিক্ষা- (ভোকেশনাল কোর্স) অর্জনের জন্য বৃত্তি দেয়া হয় এই ট্রাস্ট থেকে। কোর্স ভেদে ৪শ পাউন্ড থেকে ২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বৃত্তি পেতে পারেন আগ্রহীরা। নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমত কোর্স করতে পারে। গত ২৫ বছরে ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ এই ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ পাউন্ডের বৃত্তি প্রদান করেছে। তাদের সহায়তায় কোর্স সম্পন্ন করেছে ২ হাজার ৪শ’র বেশি শিক্ষার্থী। বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে ৭ হাজারের বেশি প্রযুক্তি কোম্পানি ক্যানারি ওয়ার্ফ থেকে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। আছে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর প্রধান কার্যালয়।  
আরও বৃত্তির আবেদন চায় ক্যানারি ওয়ার্ফ
জন গারউড বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আরও বেশি বেশি বৃত্তির আবেদন চান তাঁরা। যারা পড়াশোনায় ভাল করতে পারছে না তাদেরকে কারিগরী দক্ষতা অর্জনে সাহায়তা করতে প্রস্তুত তাঁর প্রতিষ্ঠান। এই বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জন গারউড বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সঙ্গে মিলে ক্যানারি ওয়ার্ফ এডুকেশন ট্রাস্ট পরিচালনা করা হয়। ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ থেকে ২জন এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল থেকে ২জন ট্রাস্টি এটি পারিচালনা করেন। অর্থ দেয় ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ। আর বৃত্তির আবেদন আহবানসহ প্রসাশনিক কাজটি করে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। বছরে গড়ে ১২০জন এই বৃত্তি দেয়া হয়। স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে আরও বেশি বেশি আবেদন পেতে আগ্রহী ক্যানারি ওয়ার্ফ এডুকেশন ট্রাস্ট। 
স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য
ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ মানে বিলিয়ন পাউন্ডের কাজ কারবার। বড় বড় জাতীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিদের বিচরণ। স্থানীয় ছোট খাট কোম্পানি কি আর ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের সাথে ব্যবসা করতে পারবে? বিষয়টা এমন-ই মনে হয়। ভুল ভাঙ্গালেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জন গারউড। তিনি বললেন, বাস্তবতা ভিন্ন। দৈনদৈন্দিন কার্যক্রমের সেবাগুলো তাঁরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ক্যানারি ওয়ার্ফের নীতিই হলো স্থানীয় ব্যবসা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্ভাব্য সব রকম সুযোগ দেয়া। নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই এটি তারা করেন।  জন গারউড আরও বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেন, চা-কপি, বিস্কুট কিংবা টিস্যু থেকে শুরু করে কাগজ-কলমসহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য হরেক রকমের জিনিস লাগে ক্যানারি ওয়ার্ফের। সাধারণ টেন্ডারের মাধ্যমে এসব কাজ দেয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে ওইসব টেন্ডারের শর্ত পূরণ অনেকটা অসম্ভব। জাতীয় কিংবা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ওইসব টেন্ডার জিতে কাজ নিয়ে যাবে। তাই ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ টেন্ডারের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন চালু করেছে। নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাঁরা প্রতিদিন শত রকমের পণ্য ও সেবা কিনেছে। এর মাধ্যমে ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। যাতে তারা এক সময় নিজেরাই জাতীয় কিংবা বহুজাতিক কোম্পানিতে রূপ নিতে পারে। এ পর্যন্ত তারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন পাউন্ডের কাজ দিয়েছে।  
তরুণদের কর্ম অভিজ্ঞতার সুযোগ 
ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ অবারিত। বলছিলে কোম্পানি সেক্রেটারি জন গারউড। তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষ করে যারা কর্ম অভিজ্ঞতা নিতে চান তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ দেয়ার চেষ্টা করে ক্যানারি ওয়ার্ফ। এ ক্ষেত্রে টাওয়ার হ্যামলেটসের তরুণ-তরুণীদের বিশেষ প্রাধাণ্য দেয়া হয়। আগ্রহীদের পছন্দের খাতে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। নির্মাণ খাত, আইন পেশা, হিসাব বিভাগ, প্রশাসন বিভাগসহ হরেক রকমনের খাতে এক্সপেরিয়েন্স নেয়ার সুযোগ আছে এখানে। গত তিন বছরে ৩৪৩ জন শিক্ষার্থী ক্যানারি ওয়ার্ফ থেকে কর্ম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। যার ৫০ শতাংশ টাওয়ার হ্যামলেটসের শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে ইনসাইট ভিজিট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ১১৫০ জন শিক্ষার্থী ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের কার্যালয় এবং ডেভেলপম্যান্ট কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে।  
লেভেল থার্টি নাইন
লেভেল থার্টি নাইন এক অভিনব ধারণা। এটি আসলে একটি ক্যাফে। কিন্তু কার্যকারিতা পুরোপুরি বিশাল এবং ভিন্নরকম। ৩৯ তলায় অবস্থিত বলে এটিকে বলা হচ্ছে লেভেল থার্টি নাইন। প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য করেই লেভেল থার্টি নাইন চালু হয়েছে। যারা নতুন এবং ছোট ব্যবসায়ী স্বাভাবিক কারণেই তাদের পক্ষে ক্যানারি ওয়ার্ফের মত এত ব্যয়বহুল জায়গায় অফিস ভাড়া করা সম্ভব না। আবার অন্যকোনো স্থানে অফিস গড়তে গেলেও নতুনদের জন্য কষ্টসাধ্য। 
কিন্তু লেভেল থার্টি নাইনে সামান্য সদস্য ফি দেয়ার মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা অফিস ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তারা তাদের গ্রাহকদের সাথে সেখানে মিটিংও করতে পারেন। প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে লেভেল ৩৯ এর ধারণা নিয়ে আসে ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ। দুই শতাধিক ছোট প্রতিষ্ঠান লেভেল থার্টি নাইনকে তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ১৪০ দেশের মানুষ রয়েছে। ওয়ান ক্যানাডা স্কয়ারের ৩৯, ৪২ এবং ২৪ তলা ‘লেভেল থার্টি নাইন’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫৫ শতাংশ প্রযুক্তি নির্ভর। আর ৪৫ শতাংশ আর্থিক সেবাখাতের বলে জানালেন জন গারউড। 
 আরও যত সেবামূলক কাজ
ক্যানারি ওয়ার্ফ স্থানীয় শিক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প-সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের উন্নয়নে কাজ করে। আর্থিক সহায়তা দেয়। সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নিজেদেও বিভিন্ন কল্যাণমূলক আয়োজনে ক্যানারি ওয়ার্ফের সহায়তা পেয়ে থাকে। কোম্পানি সেক্রেটারি জন গারউড জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছ থেকে তারা প্রতি সপ্তাহে অনন্ত ৪০ থেকে ৫০টি অনুদানের আবেদন পেয়ে থাকেন। বছরে অনন্ত দুশ প্রতিষ্ঠান বা আয়োজনে তারা সহায়তা দিয়ে থাকেন।  
ভবিষ্যৎ ভাবনা
 দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে কোম্পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা জন গারউড বলেন, ক্যানারি ওয়ার্ফের সম্প্রসারণ নিয়ে তারা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। পার্শবর্তী আরও প্রায় ৩০ একর জায়গা নিয়ে তারা নির্মাণ পরিকল্পনা করেছেন। এবার তারা মূলত বসতবাড়ির জন্য বহুতল ভবন বানাবেন। মোট ২২টি আবাসিক ভবন তৈরি করা হবে। যেখানে থাকবে ৩ হাজার ৬শ ফ্ল্যাট। এক, দুই ও তিন বেড রুমের হবে ফ্ল্যাটগুলো। এসব ফ্ল্যাটের ২৫ শতাংশ হবে এফোরডেবল বা সহনীয় দামের। 
এখানকার জনবসতির জন্য ২টি প্রাইমারী স্কুল, দোকানপাট, শরীর চর্চা কেন্দ্র, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র প্রয়োজনীয় সবকিছুই গড়ে তোলা হবে হাতের নাগালে। নতুন এই আবাসিক এলাকা গড়ে উঠলে ক্যানারি ওয়ার্ফের আকার বেড়ে হবে ১২৭ একর। এখানকার জনসংখ্যাও আগামী ১০ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে বেড়ে হবে ২ লাখ।  
শেষ কথা
জন গারউড বলেন, ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ যখন প্রথম কাজ শুরু করে তখন স্থানীয় অনেকেই এর বিরোধীতা করে। কিন্তু ক্যানারি ওয়ার্ফ প্রমাণ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারে সাথে নিয়ে তারা এগিয়ে যেতে চায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনের নানামূখী সেবা উন্মোচনের পাশাপাশি তাদের কর্মদক্ষ করে তোলে জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, ক্যানারি ওয়ার্ফ ব্যবসা করে চলে যাওয়ার কোম্পানি নয়। ক্যানারি ওয়ার্ফ স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে এ এলাকাতেই আজীবন থাকতে চায়। 
নান্দনিক স্থাপনা আর বাণিজ্য প্রসারের মাধ্যমে ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ স্বপ্নের আকাশ ছুঁতে চায়। সেই স্বপ্ন আর আকাঙক্ষার সহযাত্রী হিশেবে সঙ্গে রাখতে চায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও।