Share |

ব্রিটেন : গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে বর্ণবাদ

উদার ও সহনশীল দেশ আর অভিবাসী মানুষের ভরসাস্থল হিসেবে ব্রিটনের সুনাম নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সফর শেষে ফিরে যাবার আগে জাতিসংঘের বর্ণবাদ বিষয়ক বিশেষ দূত টেন্ডারী অচিউম স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেছেন এই বলে যে, ব্রেক্সিট রেফারেন্ডামের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনে বর্ণ ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দিন দিন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। 
ব্রিটেনের বর্ণসাম্যে ব্রেক্সিট-প্রভাব যাচাই করতে ১১ দিনের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য সফরে এসেছিলেন। 
জাতিসংঘের বিশেষ দূত এই এগারো দিনের পর্যবেক্ষণে ব্রিটেনের জনজীবনে বর্ণবাদী নানা তৎপরতার খন্ড চিত্র তুলে ধরে সতর্কতা উচ্চারণ করে গেছেন। ব্রেক্সিটের পর ২০১৬ সালে ঘৃণা ও বিদ্বেষজনিত অপরাধের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে। ইসলাম ও ইহুদীবিদ্বেষের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ব্রিটিশ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেই বর্তমান ব্রিটেনের বর্ণবাদী প্রবণতাটা যাচাই করেছেন। 
সত্তর দশকের কনজারভেটিভ নেতা ইনোক পাওয়েলের ‘রিভার অফ ব্লাড’ বক্তৃতা  ব্রিটেনে বর্ণবাদ উসকে দিয়েছিলো। এরপর বহু দশক ধরে ঘৃণ্য এই তৎপরতার বলি হয়েছে শত শত অভিবাসী মানুষ। আর নব্বইয়ের দশকে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ স্টিফেন লরেন্সের বর্ণবাদী হত্যাকাণ্ডের পর গত দুই দশকে নানা রিপোর্টে এদেশে প্রতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের অস্তিত্ব প্রকাশ্যে চলে আসে এবং?তা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে এরপর থেকে রাস্তাঘাটে বর্ণবাদী তৎপরতা কিছুটা কমে এলেও প্রতিষ্ঠানগুলোতে খুব সূক্ষভাবে বর্ণবাদ তার থাবা মেলেছে। এনিয়ে নানা সভা-সমাবশে রাজনীতিকরা চড়া গলায় কথা বললেও পরিস্থিতির বদল হয়নি। 
বর্তমান ব্রিটেন এমনিতেই ব্রেক্সিট জ্বরে কাবু। এরমধ্যে সাম্প্রতিক ‘উইণ্ডরাশ কেলেঙ্কারী’তে প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে অভিবাসীদের প্রতি সরকারের নিষ্ঠুর বর্ণবাদী আচরণ। এই প্রেক্ষাপটে পার্লামেন্টকে বিভ্রান্ত করার দায় নিয়ে হোম সেক্রেটারী আম্বার রাড পদত্যাগ করলেও প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র ঘাড় থেকে বোঝার দায় আসলে চলে যায়নি। তিনি হোম সেক্রেটারী থাকাকালে ‘গো হোম ভ্যান’ লন্ডনের রাস্তায় নেমে পড়েছিলো। অভিবাসীদের জন্য বৈরী পরিবেশের তৈরীর কাজ শুরু করেছিলেন তিনি ব্রিটেনে থেকে অবৈধদের বিতাড়নের নামে। কিন্তু এ ধরনের তৎপরতা যে পুরো সমাজকে বর্ণগতভাবে আক্রান্ত করে তা মানতে চাননি তিনি। 
ব্রিটেনের আজকের যে অবস্থান তা তার দখলদারিত্ব থেকে আনা সম্পত্তি ও জনশক্তিরই অবদান। কিন্তু জাতিসংঘ দূত যে সতর্কবাণী দিয়ে গেছেন তা হলো-ব্রিটনে ডান উগ্রপন্থী দলগুলো ভোটে সমর্থন না পেলেও মূলধারার দলগুলোতে বর্ণ ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক সরাসরি কথাবার্তা এখন আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর। এদেশের প্রধান রাজনীতিকদলগুলো অভিবাসীদের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবার নসিহত দিয়ে থাকে প্রায়ই। সুতরাং নিজ নিজ দল থেকে এই দুষ্ট প্রবণতা দূর করার জন্য তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে রাজনীতিবিদ আর নীতিনির্ধারকদের কথামালা শুধু ভণ্ডামীরই নামান্তর হবে।