Share |

আবারও প্রশ্নবিদ্ধ টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচন

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২১ মে : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচনে আবার আবারও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অন্তত তিনজন কাউন্সিলার নির্বাচনে ভোট গণনার অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে হোয়াইটচাপেল ওয়ার্ড এবং আইল্যান্ড গার্ডেনের ফলাফল রীতিমত রহস্যের জন্ম দিয়েছে।  পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচন নিয়ে বরাবরই থাকে টানটান উত্তেজনা। ভোট গ্রহণ থেকে ভোট গণনা সবক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা জানায় নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ভোট গণনায় অস্বাভাবিক ধীর গতি এবং ফলাফল উলটপালট হওয়ার কারণে এবারও প্রশ্নাতীত থাকলো না এই বারার নির্বাচন।  
স্থানীয় ইংরেজি নিউপোর্টাল লাভ ওয়াপিংয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টাওয়ার হ্যামলেটস কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান কাউন্সিলার পিটার গো?স, কাউন্সিলর এন্ড্রু উড এবং কাউন্সিলার রাবিনা খান ফলাফলে রহস্যজনক পরিবর্তন বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। 
হোয়াইটচাপেল ওয়ার্ড 
ওহোয়াইটচাপেল ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদ তিনটি। বিভিন্ন দল থেকে এখানে মোট কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন ১৭ জন। দুই দফা প্রকাশ করা হয় এই ওয়ার্ডের ফলাফল। প্রথম দফা প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় রাবিনা খানের নেতৃত্বাধীণ পিপলস অ্যালায়েন্সের প্রার্থী শফি উদ্দিন আহমদ ১২৫৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। ফলে নির্বাচিত তিনজনের তিনি একজন। আর লেবার দলের প্রার্থী ভিক্টোরিয়া এনগোজি ওবেইজ ৫২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। 
লেবার পার্টি থেকে এই ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা হয়। পুনরায় হয় ভোট গণনা। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রিটার্নি অফিসার জানান, লেবার দলের প্রার্থী ভিক্টোরিয়ার ভোটের একটি বান্ডেল ভুলক্রমে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী স্টিপন নেস্টর এর নামে চলে গেছে। প্রথম দফা প্রকাশিত ফলাফলে স্টিপন নেস্টর ১ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে ৬ষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন।
 ভোট পুনগননার পর প্রকাশিত সংশোধিত ফলাফলে ভিক্টোরিয়া ওবাজির ভোট ৮২৯টি বেড়ে যায়। তাঁর প্রাপ্ত ভোট গিয়ে দাড়ায় ১৩৫২। চলে আসেন তৃতীয় অবস্থানে। ফলে বিজয়ী হন ভিক্টোরিয়া। আর শফি আহমদ সরে যান চতুর্থ অবস্থানে। তিনি পরাজিত হিসেবে গণ্য হন। নির্বাচন কমিশন এই ভুল ও সংশোধনের যে ব্যাখা দিয়েছে তা বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছে লাভ ওয়াপিং।
 পিটার গোলডের অভিযোগ
আইল্যান্ড গার্ডেন ওয়ার্ডের ভোট গণনা শেষে প্রথম দফা যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়, তাতে  পিটার গোলডের অবস্থান ছিল চতুর্থ। টাওয়ার হ্যামলেচস কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিটার গোলডস সাথে সাথে ওই ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেন। এর ৪০ মিনিট পর এসে রিটার্নিং কর্মকতা পনরায় ফলাফল ঘোষণা করেন। তাতে পিটার গোলডসের অবস্থান উঠে আসে দ্বিতীয় অবস্থানে। পিটার গোলডস নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নি অফিসারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। 
ভোটের ফলাফলের এই রহস্যময় পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার ব্যাখা চেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ২১ শতাংশ পরিবর্তন হয়। আর ২০১৮ সালে তিনি চতুর্থ অবস্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন-এর রহস্য কি তিনি জানতে চান।  এছাগা ভোট গণনা স্থলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যাজ পরিধান না করায় তাদের চেনা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে তাদের অভিযোগ জানাতে পারেননি। ভোট গণনা স্থলে নির্বাচন কমিশনের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি-এমন দাবির জবাবে কাউন্সিলর এন্ড্র উড বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারদের অবস্থান ছিল গোপন। কারণ ব্যাজ না থাকা তাদের কেউ চিনতে পারেনি। 
রাবিনা খান মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পেশাল ইনকোয়ারি টিম এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ তুলবেন বলে জানা গেছে।