Share |

জোরপূর্বক বিয়ে : হাজার হাজার তরুণী দাসত্বের শিকার

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২৮ মে : যুক্তরাজ্যে ফোর্স ম্যারেজ বা জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ধারণার চাইতে অনেক বেশি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারীরা জোরপূর্বক বিয়েকে নিরবে মেনে নেন। যে কারণে এক প্রকার দাসত্বের জীবনযাপন করছেন এসব ভুক্তভোগী। গত ২৮ মে সোমবার ইংরেজি দৈনিক গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে আসে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিন বছরে জোরপূর্বক বিয়ের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ গেছে মোট ৩ হাজার ৫৪৬টি। একই সময়ে অন্য একটি এনজিও পরিচালিত হেলপলাইনে জোরপূর্বক বিয়ের বিষয়ে অভিযোগ করে যোগাযোগ করেছেন ২২ হাজার ২০ জন। কারমা নিরভানা নামের ওই এনজিও ২০১৭ সালে আরও ৮ হাজার ৮৭০ জনের কাছ থেকে ফোর্স ম্যারেজের বিষয়ে অভিযোগ পায়। এসব ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্তত ২শ জনের বয়স ১৫ বছরের কম। এবং ১০ বছরের কম বয়সী ৮জনকে তার বিয়ের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে। ফোর্স ম্যারেজ নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংগঠনগুলো বলছে, জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা অনেকেই নিরবে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব ভুক্তভোগী দাসত্বের জীবনযাপন করছেন।  গত সপ্তাহে বামির্ংহামের আদালত পাকিস্তানী এক মাকে সাড়ে চার বছরের জেলদণ্ড দিয়েছে। ওই মা তাঁর ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে পাকিস্তানে নিয়ে মেয়ের দ্বিগুন বয়সী এক ছেলের সাথে বিয়ে দেন।
এছাড়া, লীডসে বাংলাদেশি বাবা-মা মেয়েকে বাংলাদেশে নিয়ে জোর করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টার অপরাধে আদালতের কাঠগড়ায় উঠেছেন। গত ১৪ মে এই মামলার শুনানী শুরু হয়। পরিচয় প্রকাশ না হওয়া এই বাবা-মা তাদের ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে বাংলাদেশে নিয়ে জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সুযোগ পেয়ে মেয়ে ঘটনাটি তাঁর ব্রিটেনে থাকা বয়ফ্রেন্ডকে জানিয়ে দেয়। বয়ফ্রেন্ড কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের মাধ্যমে মেয়েটিকে বাংলাদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়।  বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা বেশি। যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক বিয়ের ক্ষেত্রে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মরক্কো, ইরানের লোকেরা শীর্ষ সারিতে রয়েছে।