Share |

উনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ট্রাম্পের তেলেসমাতি

লন্ডন, ২৭ মে : বেশ কড়া ভাষায় চিঠি লিখে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্প। এখন ট্রাম্প নিজেই বলছেন, ওই বৈঠক হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আর বেফাঁস মন্তব্যের কারণে বার বার সমালোচিত হওয়া ট্রাম্প এবার আন্তর্জাতিক বৈঠক নিয়ে নয়া তেলেসমাতি দেখালেন। 
গত ২৪ মে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প আগামী ১২ জুনের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের কাছে চিঠি পাঠান। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘ক্ষোভ’ ও ‘প্রকাশ্য শত্রুতার’ অভিযোগ করে এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে যেকোনো সময় বৈঠকের ব্যাপারে তিনি তাঁর আগ্রহের কথা জানিয়ে রাখেন। এর প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে কোনো আগ্রাসী মনোভাব ছিল না। এ পরিস্থিতিতে শনিবার (২৬ মে) হঠাৎ করেই আবার সাক্ষাৎ করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন। প্রথম বৈঠকে দুই নেতা ছয় দশকের কোরীয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা এবং কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এবারের বৈঠকে কিম ও মুন পানমুনজম ঘোষণা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সফল বৈঠক নিশ্চিত করতে চান। সিএনএনের খবরে বলা হয়, বৈঠক শেষে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, উন এখনো কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এরপরই কিম ও ট্রাম্প উভয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকের বিষয়ে আশ্বাস মেলে। শনিবার ওভাল অফিসের এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ১২ জুন বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন। বৈঠকের তারিখের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জানিয়েছেন, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রে সবকিছুই ‘অত্যন্ত চমৎকারভাবে’ এগোচ্ছে। এর জন্য অনেকে কাজ করছেন।
এমনকি ট্রাম্প গত শুক্রবার এই টুইটে বলেন, ‘বৈঠকের ব্যাপারে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যদি বৈঠকটি হয়, সেটি সিঙ্গাপুরে আগের সময়সূচি, অর্থাৎ ১২ জুনই হতে পারে। আর যদি প্রয়োজন হয়, বৈঠকের তারিখ পেছানো যেতে পারে।’ এদিকে বিবিসি জানায়, সিঙ্গাপুরের বৈঠক আয়োজন করতে মুন জে-ইনের প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান কিম জং-উন। পাশাপাশি বৈঠকটি ঠিক সময়ে হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।
পুরোনো মুদি দোকানকে একটি শীর্ষ প্রক্রিয়াজাতকারী, রফতানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘সিমার্ক’ এ রূপান্তর করেছেন।’ ম্যানচেস্টারভিত্তিক এই ব্যবসায়ী ২০১৬ সালে ৫ কোটি ৫৪ লাখ পাউন্ড লাভ করেছিলেন। কিন্তু পরের বছরই তিনি ৯ লাখ ৬৮ হাজার পাউন্ড লোকসান দেন। তালিকার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য থাকায় পরিবারটি তালিকায় উপরে উঠে এসেছে। ইকবাল আহমেদ ম্যানচেস্টার অভিজাত রেস্টুরেন্ট ভারমিলিয়ন ও পাশের সিননাবার নাইটক্লাবের মালিক’। সিলেটের বালাগঞ্জে জন্ম নেওয়া ইকবাল আহমেদ ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি আমদানি শুরু করেন। এখন তিনি জাহাজ, হোটেল ও আবাসন উন্নয়ন, সেবা ও খাদ্যের ব্যবসা করছেন। যুক্তরাজ্যে ধনীদের তালিকায় এ বছর প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠেছেন রাসায়নিক উদ্যোক্তা জিম রাটক্লিফ। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ১০৫ কোটি পাউন্ড। তার পরেই আছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দুজা ভাইয়েরা। শ্রীচান্দ হিন্দুজা ও গোপিচান্দ হিন্দুজার মোট সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৬৪ কোটি পাউন্ড।
তালিকা সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটস বলেন, যুক্তরাজ্য পরিবর্তন হচ্ছে। ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্ট’ এ পুরোনো অর্থবিত্তধারী ও অল্প কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আধিপত্যের দিন শেষ। অভিজাত ও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির অধিকারীদের ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নতুন উদ্যোক্তারা তাদের জায়গা কেড়ে নিয়েছেন।’
ওয়াটস আরও বলেন, এখনকার শীর্ষ ধনীদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন যারা চকলেট, সুশি, পোষা প্রাণীর খাবার ও ডিম বিক্রির মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আমরা দেখছি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ যারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেননি, এমনকি যারা মধ্য বয়স পর্যন্ত তাদের ব্যবসা শুরুই করতে পারেননি তারাও তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।  ২০১৮ সালকে ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্টে’র ৩০তম সংখ্যা বের হয়েছে। এই সাময়িকীটিকে ‘যুক্তরাজ্যের সম্পদের চূড়ান্ত নির্দেশিকা’ হিসেবে দাবি করা হয়। তালিকায় দেখা গেছে, দেশটির শীর্ষ এক হাজার ধনী ও তাদের পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭২ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড। আগের বছর তা ছিল ৬৫ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ড। আর কোটিপতির সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ১১ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে। এ বছর ‘সানডে টাইমস রিচ লিস্টে’ ঢোকার জন্য একজন ব্যক্তিকে সাড়ে ১১ কোটি পাউন্ডের মালিক হতে হয়েছে। ১৯৮৯ সালে তালিকাটির শুরুর বছর যা ছিল মাত্র ৩ কোটি পাউন্ড। এছাড়া এই বছর শীষ ধনীর তালিকায় রেকর্ড ১৪১ জন নারীর নাম রয়েছে।