Share |

দল ছাড়লেন কেন লিভিংস্টন : আদর্শে অবিচল তবু

সারাজীবন প্রগতিশীল রাজনীতির অনুসারী বামপন্থী লেবার পার্টি নেতা কেন লিভিংস্টন গত সপ্তাহে তার প্রিয় রাজনৈতিক দল থেকে বিদায় নিলেন।  গত চল্লিশ বছরে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কেন লিভিংস্টন বহু বিরোধীতা ও বিতর্ক মোকাবেলা করেছেন।  যে আদর্শের ডাকে রাজনীতিতে তার প্রবেশ সেই আদর্শের বিরুদ্ধে গেলে নিজ দল লেবার পার্টির হর্তাকর্তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে কখনো পিছপা হননি এই বর্ষীয়ান মানবতাবাদী নেতা। 
লেবার পার্টির এমপি হিসেবে কিংবা গ্রেটার লন্ডন অথোরিটির নেতা হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের জন্যেই তার পলিসিগুলো পরিচালনা করেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে কিছু একটা করার স্বপ্ন নিয়েই রাজনীতিতে এসেছিলেন কেন লিভিংস্টন। নিজের দল যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় তখনও সরকারের অন্যায়ের বিরোধীতায় সোচ্চার হয়েছেন। যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেন।  আঠারো বছর পর লেবার পার্টির ক্ষমতায় আসা টনি ব্লেয়ারের মতো দলনেতার অন্যায় পদক্ষেপে তীব্র বিরোধীতায় থোড়াই কেয়ার করেছেন বিদ্রোহী-বিপ্লবী কেন। 
প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের অগ্রাহ্য করে লেবার পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে প্রথম লন্ডন মেয়র নির্বাচিত হন।  লন্ডনে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্প ভাড়ায় ট্রান্সপোর্ট সেবার ব্যবস্থা তার অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত ।  ক্রীড়াজগতের জমজমাট বিশ্ব আসর ২০১২ অলিম্পক লন্ডনে নিয়ে আসার পেছনে তৎকালীন লন্ডনের মেয়র হিসাবে তার অবদান কম নয়।  আপাদমস্তক বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী কেন লিভিংস্টনের সমর্থন কখনোই ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ছিলো না। তিনি চিরকালই ছিলেন এদেশের ইমিগ্রেন্ট কমিউনিটি আর বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মানুষের পক্ষে। পৃথিবীব্যাপী যুদ্ধ আর আগ্রাসনে বড় বড় শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সবসময়?নিয়েছেন অবস্থান। 
লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটির আগ্রাসন সুবিধা প্রাপ্তি থেকে কওে নানা ভাবে বিকশিত হবার ওঠার পেছনে কেন লিভিংস্টনের তার মতো সজ্জস   ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবাতবাদী নেতার বহু অবদান রয়েছে। ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া কেউ কেউ হয়তো তা স্বীকার করবেন না।  হিটলার ,,,,,, সমর্থক ছিলেন ঐতিহাসিক এই সত্য উচ্চারনে ব্রিটেনের ইহুদি কমিউনিটির প্রচন্ড গোস্বার জের ধরে গত দুই বছর তাকে দল থেকে সদস্যপদ ,,,,,হয়। সেই মেয়াদ মেষ হয়ে যাওয়ার পর তাকে কেন্দ্র কওে লেবার পার্টিতে ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগ উচ্চারিত হতে শুরু করলে কেন লিবিংস্টন দলকে অহেতুক নতুন বিতর্ক থেকে সরিয়ে ,,,,,,লেবার দল থেকে পদত্যাগ করবেন। তবে তিনি যা বলেচেণ তাতে অটল রয়েছেন। কেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ক্ষমা তিনি চাইবেন না কারন তাহলে তাকে মিথ্যা কথা বলতে হবে। সত্য অবস্থানে অবিচল কেন, আপনাকে অভিবাদন।