Share |

কথিত বন্দুকযুদ্ধ ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড : এ ভয়ঙ্কর খেলার অবসান প্রয়োজন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বাহিনির গোপন হত্যাকাণ্ডে গত তিন সপ্তাহে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আইনশৃংখলা বাহিনির হাতে নিহত এসব মানুষ বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন বলে সরকার বরাবরের মতোই দাবী করছে। বাংলাদেশে মাদক সমস্যা মোকাবিলায় এবং সেই সাথে এই ব্যবসার প্রসাররোধে ব্যবস্থা নেয়ার অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু হঠাৎ করে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করে বিনাবিচারে গুলি করে মানুষ হত্যার লাইসেন্সে পুলিশকে কে দিলো? সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া যে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়, তা সাধারণ বুদ্ধির মানুষও বোঝে।
বাংলাদেশে আইনশৃংখলা বাহিনির হাতে নিহতের ঘটনায় তথাকথিত বন্ধুকযুদ্ধ সাজানো কাহিনি আগেও জনগণ বিশ্বাস করেনি। আর এখন তো রীতিমত তা হাস্যকর শোনায়। তবে বিস্ময়কর যে, সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনির এসব কাহিনিগুলো এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল বক্তব্য হিসেবেই ইস্যু হয় এবং মিডিয়ায় তা প্রকাশ ও প্রচার হয়। সব পক্ষই জানে যে, বন্দুকযুদ্ধের কাহিনি বানানো কিন্তু সরকারের প্রশ্রয় যেহেতু আছে সেহেতু তা-ই বার বার জোর করে জনগণকে বিশ্বাস করতে এক ধরনের বাধ্য করা হচ্ছে যেনো। সরকারের এবারের মাদকবিরোধী অভিযানে টেকনাফে নিহত একরামুল হকের ঘটনা পুলিশ-র‌্যাব এবং সরকারের বন্দুকযুদ্ধের মিথ্যাচারকে একেবারেই প্রকাশ্য করে দিয়েছে। একরামুল হকের সাথে পুলিশের কথোাপকথনের রেকর্ড বেকাদায় ফেলে দিয়েছে প্রশাসনকে। কারণ, এতোদিন তা শুধু ছিলো মানুষের বিশ্বাস এখন প্রমাণ হাজির। বন্দুক তো দূরের কথা কোন যুদ্ধই হয়নি একরামুলের পুলিশের সাথে। অথচ, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এইসব হত্যাকাণ্ডের সাফাই দেয়া হচ্ছে। একরামুলের ঘটনার অডিও টেপের সাথে র‌্যাবের তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধের রহস্যও ফাঁস হয়েছে সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপে।
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবি শাহদিন মালিক লিখেছেন, ‘আট-নয় মাস আগে এক সংবাদপত্র রিপোর্ট করেছিল যে তখন সারা দেশে ২ লাখ ১৬ হাজারের মতো মাদক মামলা বিচারাধীন ছিল। সেই অবস্থার অবনতি ছাড়া উন্নতি নিশ্চয়ই হয়নি, উন্নতি বা সংস্কারের জন্য কেউ তো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই সব প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, অযোগ্যতা আর অদক্ষতার সমাধান গুলি করে মানুষ মেরে করা যাবে না। যখন এই সব প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে যায়, তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়।’
এই পরিস্থিতিতে যদি সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে র‌্যাব-পুলিশের অবিশ্বাস্য মিথ্যাচারের পক্ষে রাষ্ট্রের শীর্ষব্যক্তিরা দাঁড়িয়ে যান তাহলে জনগণের ভরসা থাকে না। অবশ্য জবরদস্তি গণতন্ত্রে জনগণের ভরসা বিষয়টি তেমন গ্রাহ্য করার কথা নয়। তবে, যেকোনো ছুঁতোয় সরকারি পেটোয়া বাহিনি দিয়ে মিথ্যা কাহিনি ফেঁদে মানুষ মারার খেলাটি বিপজ্জনক। কারণ, এ ধরনের গোপন হত্যাকাণ্ড শুধু সরকার কিংবা রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের ভরসা আর বিশ্বাসযোগ্যতা হরণই করে না বরং জাতিকে এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। সুতরাং?এই পরিস্থিতির দ্রুত অবসান প্রয়োজন।