Share |

ঈদ মোবারক

দীর্ঘ এক মাস পর সংযম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শুক্র অথবা শনিবার ব্রিটেনের মুসলমানরা পালন করবেন এই মহাআনন্দ উৎসব।
মহিমান্বিত মাস রামাদ্বান ছিলো মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির মাস। ছিলো রাহমাত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি মাস। ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার থাকা সত্বেও একমাত্র আল্লাহর ভয়ে তাঁরা দিনভর পানাহার থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। শারীরিক এই সংযমের পাশাপাশি নানা ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে পাপমুক্তির সাধনাই ছিলো এ মাসের মূল লক্ষ্য। উদ্দেশ্য ইহকাল ও পরকালের সাফল্য অর্জন। আর এ সবই আবর্তিত হয় আল্লাহ ও তাঁর বন্ধু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে। পবিত্র রামাদ্বানে মন এবং দেহের এই সাধনার মধ্যদিয়েই মুসলিম নর-নারী আগুনে পোড়া খাঁটি সোনার মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেন। আর মহান আল্লাহ তার সেই সকল প্রিয় বান্দাদের সিয়ামের প্রতিদান হিশেবে উপহার দিয়েছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর- মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় আনন্দ উৎসব।  
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা এই প্রভূত আনন্দের দিনে নিজেদের কতোখানি অন্যের প্রতি নিবেদিত করতে পারি। প্রথমেই বলা যায় রামাদ্বানে ফিতরা ও জাকাত আদায় বিষয়ে। এই বিধানের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অপেক্ষাকৃত দরিদ্রদের ফিতরা ও জাকাত দিয়ে তাদেরকে ঈদের আনন্দে শরীক করা। এদেশে কয়েক বছরে ধরে শুরু হওয়া জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য নানা উদ্যোগে সার্বজনীন ইফতারের আয়োজন সকল মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এতে শুধু ইসলাম ধর্মের অনুশাসনই পালিত হচ্ছেনা বরং?এটি ব্রিটেনের বহুজাতিক সমাজে মুসলিম কমিউনিটির ইন্টিগ্রেশনের সহায়ক বলে আমরা মনে করি।  
তবে ঈদকে আমাদের প্রতিবেশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে কতোখানি, কীভাবে এবং কোন পন্থায় উপস্থাপন করি অথবা আদৌ করি কিনা, তা বিবেচনায় আনতে হবে। প্রতিবেশির কাছে ঈদের নানামাত্রিক সৌন্দর্যকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আমাদের এখন আরও সচেতন হতে হবে। এতে করে ইসলাম ও মুসলমানদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
ঈদের দিন ব্রিটেনের শহরগুলোতে বিশেষ করে লন্ডনে বিভিন্ন এলাকায় একশ্রেণীর তরুণ-তরুণী আনন্দকে উন্মাদনায় রূপান্তর করে ফেলেন। যেগুলো ঈদের মহান শিক্ষার সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের কেউ কেউ নামি-দামি গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন সড়কে যে রকম অশ্লীল-হৈ হল্লার প্রকাশ ঘটান, তাতে ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মনে যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা অবশ্যই নেতিবাচক। সেই সকল তরুণ-তরুণী আমাদের নতুন প্রজন্ম। তাদের নিয়েই আমাদের ভবিষ্যতের যত স্বপ্ন। তাই ঈদের দিনে সংঘটিত এমন উচ্ছৃংখল আচার-আচরণ থেকে তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের পালন করতে হবে বলিষ্ঠ ভূমিকা। তাদের হৃদয়ে ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।  
এবারো আমরা যখন ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি, পৃথিবীর অনেক দেশ যখন চরম অস্থিতিশীল। বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানকে মৃত্যুর বিভীষিকা গ্রাস করছে। আর প্রতিবছরের মতো রমজান শুরু হতে না হতেই ফিলিস্তিনে ইসরাইলী তাণ্ডবে এবারো বহু প্রাণহানি ঘটেছে। সেসব দেশের মানুষের জীবনে ঈদের খুশি নেই। আছে গগনবিদারী কান্না।  
আমরা যারা নিশ্চিন্তে ব্রিটেনে বসে রোজা পালনের পর ঈদ আনন্দ উৎসবের জন্য প্রতীক্ষায় আছি তাদের ঈদ আর যুদ্ধকবলিত দেশের মানুষের ঈদ কোনমতেই তুলনীয় হতে পারে না। তাই বিপর্যস্ত মানুষকে আমাদের ঈদের আনন্দের অংশীদার করতে আমাদের উচিৎ প্রত্যেকের সাধ্যানুযায়ী বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো। তাহলেই সংযম সাধনার শিক্ষা কাজে লাগবে। আমরা হয়ে উঠবো পরমতসহিষ্ণুতা এবং সৌভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষায় উজ্জীবিত।  
মানুষের প্রতি মানুষের প্রেম ও ভালোবাসার বিকল্প নেই। ঈদুল ফিতর আমাদেরকে সে শিক্ষায় উজ্জীবিত করুক। ঈদ পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য নিয়ে আসুক শান্তি-সুখের বার্তা। সবার জন্য ঈদ মোবারক।