Share |

ইস্ট লন্ডন মস্ক লাইভ ফাণ্ডরেইজিং অ্যাপিল : অর্ধমিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি লাভ

লন্ডন, ১১ জুন : ইস্ট লন্ডন মস্ক লাইভ টিভি অ্যাপিলে প্রায় অর্ধমিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। গত জুন শনিবার চ্যানেল টিভিতে অনুষ্ঠিত লাইভ অ্যাপিলে কমিউনিটির দানশীল মানুষ মুক্ত হস্তে দান করেছেন। মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ আগামী ২৭ রামাদ্বান শবে ক্বদর রাতে আরো অর্ধমিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। তাই ২৭ রামাদ্বান রাতে ইস্ট লন্ডন মসজিদে অনুষ্ঠিতব্য ফান্ডরেইজিংয়ে অ্যাপিলে সকলকে মুক্ত হস্তে দান করার আহবান জানান। 

তবে শনিবারের টিভি ফান্ডরেইজিং অ্যাপিলে যারা মুক্ত হস্তে দান করেছেন তাদের প্রতি মসজিদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কমিউনিটির মানুষ যে ইস্ট লন্ডন মসজিদকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন তারই বহিপ্রকাশ ঘটলো শনিবার রাতে। আমরা আশাবাদী, শবে ক্বদরের রাতেও আরো সাহায্য করবেন এবং এই রামাদ্বানে আমরা মসজিদের জন্য মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি আদায়ে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, মারিয়াম সেন্টার নির্মাণ সিনাগগ ভবন ক্রয়বাবদ এখনও . মিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পুরণে কমিউনিটির মানুষের সাহায্য সহযোগিতা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।

এদিকে টিভি ফান্ডরেইজিং অ্যাপিলকে সামনে রেখে ৩১ মে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিলেতের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইস্ট লন্ডন মসজিদের ভবিষ্যত পরিকল্পণা তুলে ধরেন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। তিনি মসজিদের স্বনির্ভরতা অর্জনে ওয়াকফ-ফান্ড চালুর ঘোষণা দেন।  এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইস্ট লন্ডন মস্ক লন্ডন মুসলিম সেন্টারের সেক্রেটারি আইয়ূব খান। বক্তব্য রাখেন সিইও নজমুল হোসাইন ডাইরেক্টর দেলওয়ার খান। উপস্থিত ছিলেন মসজিদের ট্রেজারার মুহাম্মদ আব্দুল মালিক।

লিখিত বক্তব্যে জনাব আইয়ূব খান বলেন, বাইর থেকে তাকালে মনে হয় ইস্ট লন্ডন মসজিদ অবকাঠোমোগত দিক থেকে স্বয়ংসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান। এটা সত্য, মারিয়াম সেন্টারের কাজ শেষ হওয়ার পর গোটা মসজিদ কমপ্লেক্স আরো দৃষ্টিনন্দন হয়েছে এবং দূর থেকে তাকালে মনে হবে এটি একটি স্বয়ংসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু এই বিশাল মসজিদ পরিচালনায় মোটা অংকের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। তাছাড়া মারিয়াম সেন্টার নির্মাণ সিনাগগ ভবন ক্রয় বাবদ এখনও প্রায় . মিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতি রয়েছে। এই অর্থ কমিউনিটির মানুষের কাছ থেকে ক্বরজে হাসানা হিসেবে নেওয়া হয়েছিলো। এখন পর্যায়ক্রমে তা পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাই বিভিন্নভাবে ফান্ডরেইজিং অব্যাহত রয়েছে। বছর চালু করা হয়েছেওয়াকফ-ফান্ড এই ওয়াকফ-ফান্ডে তিনভাবে দান করা যাবে। প্রথমতঃ এই ফান্ডে যেকোনো অংকের অর্থ দান করে দেওয়া যাবে। দ্বিতীয়তঃ দীর্ঘ মেয়াদী ক্বরজে হাসানা প্রদান করা যাবে।  এই ফান্ডের অর্থ মসজিদের নামে প্রোপাটি খাতে বিনিয়োগ করা হবে যা থেকে নিয়মিত আয় আসবে। এছাড়াও কেউ চাইলে মসজিদের যেকোনো প্রজেক্টে নিজের সম্পদের একটি অংশ ইসলামিক উইল বা অসিয়তের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করে দিতে পারেন। অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর স্বজনেরা তা মসজিদে দান করে দেবেন। 

এভাবেই মসজিদকে ঋণমুক্ত করে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিগত দিনগুলোতে কমিউনিটির দানশীল মানুষ যেভাবে মসজিদকে সহযোগিতা করছেন, আগামীতেও তাদের দানের হাত প্রসারিত থাকবে। তিনি রামাদ্বানে ইস্ট লন্ডন মসজিদের বহুমুখী কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বছরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ইস্ট লন্ডন মসজিদ ভিজিট করে থাকেন। তবে মসজিদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় কাটে রামাদ্বান মাসে। প্রতি রামাদ্বানেই আমাদের নানামুখী আয়োজন থাকে। ইফতার ব্যবস্থাপনা, তারাবীহ, তেকাফ, দৈনন্দিন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, ঈদ জামাত, ফিতরাহ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।

প্রতি বছরের মতো এবারও এসেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হাফিজগণ। মদীনা থেকে এসেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ সাউদ নাফি আল-আনাজি। তিনি শরীয়াহ শাস্ত্রে রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করেন এবং সম্প্রতি মদীনার একটি উচ্চ আদালতের বিচারক নিযুক্ত হয়েছেন। 

মিশর থেকে এসেছেন শায়খ আহমদ আসিম নববী। তিনি একজন খ্যাতনামা আলিম হাফিজ। আলজেরিয়া থেকে এসেছেন শায়খ তাওফিক বিন শাবান। আরো রয়েছেন সোমালিয়ান বংশোদ্ভুত শায়েখ আব্দুল গাফফার ওয়ার্দারে। তিনি সোমালিয়ায় দুই দুইবার কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হন।  এছাড়া প্রতি বছরের মতো প্রতিদিন ৬০০ মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা থাকছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই এই ইফতারী স্পনসর করছেন। জনপ্রতি দুই পাউন্ড করে স্পনসর করা যায়। তবে কেউ চাইলে হাজার ২শ পাউন্ড দান করে একসাথে ৬শ মানুষের ইফতারী স্পনসর করতে পারেন।  ইতোমধ্যে রামাদ্বানে শেষ দশদিনের তেকাফের জন্য লটারী সম্পন্ন হয়ে গেছে। তিন শতাধিক আবেদন থেকে লটারীর মাধ্যমে প্রায় একশবিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তেকাফকারীদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে সার্বিক প্রস্তুতি চলছে। 

প্রতিদিন জোহর আসর নামাজের পর রয়েছে বিষয়-ভিত্তিক আলোচনা। মসজিদের ইমামগণ ছাড়াও অন্যান্য ইসলামিক চিন্তাবিদগণ এতে রামাদ্বান বিষয়ে আলোচনা পেশ করে আসছেন। প্রতিদিনই শতশত মানুষ এসব আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন।

গত বছরের ন্যায় বছর ঈদুল ফেতরে ৫টি জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সকাল সাড়ে টায় শুরু হয়ে প্রতি ঘণ্টা অন্তর অন্তর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ফিতরা নির্ধারিত করা হয়েছে জনপ্রতি পাউন্ড। পরিবারের ছোট বড় সকল সদস্যের পক্ষ থেকে ঈদের আগে ফিতরা আদায় করা অপরিহার্য। তবে কোনো কারণে যথাসময়ে ফিতরা প্রদান করতে না পারলে ঈদের জামাতে ইস্ট লন্ডন মসজিদে প্রদান করা যাবে। ইফতারপূর্ব আলোচনায় সাংবাদিক, আইনজীবী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাহাস পাশা, চ্যানেল আই ইউরোপের ম্যানেজিং ডাইক্টের রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী সুয়েব, সলিসিটর মুহাম্মদ আব্দুল কালাম, সলিসিটর দেওয়ান মাহদী চৌধুরী সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক আহমদ ময়েজ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হাসনাত এম হোসাইন এমবিই, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা কে এম আবু তাহের চৌধুরী, ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলার পারভেজ আহমদ, ইমিগ্রেশন জাজ বেলায়েত হোসাইন, নিউহ্যাম কাউন্সিলের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহগীর বক্ত ফারুক, লেখক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার নওফল জমির, কুইন মেরী ইউনিভার্সিটির লেকচারার হাসান শহীদ, বাংলাদেশ সেন্টারের ভাইস চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান মুহিব, সেক্রেটারি দেলওয়ার হোসাইন, আরজু মিয়া এমবিই, কমিউনিটি নেতা আবুল কালাম আজাদ ছোটন, শাহপরান মসজিদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূর বকশ, সলিসিটর মাসুদ আহমদ, সোসাইটি অব বৃটিশ বাংলাদেশী সলিসিটর্সের সেক্রটারি খালেদ সাইফুল্লাহ, . মুজিবুর রহমান, সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, মাসিক দর্পণ সম্পাদক রহমত আলী, চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগামস ফারহান মাসুদ খান, হেড অব নিউজ কামাল মেহেদী, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, এলবিটিভির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শাহ ইউসুফ, সাপ্তাহিক সুরমার বার্তা সম্পাদক কবি আব্দুল কাইয়ূম, এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তাক বাবুল, টিভি ওয়ান এর সিনিয়র রিপোর্টার আজহার ভূঁইয়া, ওয়ানবাংলা নিউজ সম্পাদক জাকির হোসেইন কয়েস, সাংবাদিক হাসান হাফিজ পলক, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার আসম মাসুম, আইটি সেক্রেটারি সালেহ আহমদ, সাংবাদিক আকবর হোসেন, সাংবাদিক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, বাংলা মিরর সম্পাদক আব্দুল করিম গনি, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদ, সাংবাদিক মিসবাহ জামাল, সাংবাদিক আহাদ চৌধুরী বাবু।