Share |

ব্রেক্সিট গণভোটেও পুতিন যোগ!

পত্রিকা রিপোর্ট

লন্ডন, ১১ জুন : ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদ প্রশ্নে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া হস্তক্ষেপ করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। বিচ্ছেদের পক্ষে প্রচার চালানোলিভডটইইউ প্রতিষ্ঠাতা আরন ব্যাংকসের সাথে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাশিয়ান দূতের তিন দফা সাক্ষাতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এমন আশঙ্কা জোরালো হলো। ফলে বিষয়টি এখন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ১২ জুন মঙ্গলবার আরন ব্যাংকস সংসদীয় কমিটির জেরার মুখোমুখি হওয়ার কথা। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আরন ব্যাংকস ডানপন্থী রাজনীতিক মাইকেল ফারাজের ভাল বন্ধু। ডানপন্থী দল ইউকে ইন্ডিপেনডেন্ট দলের তিনি অন্যতম অর্থ যোগানদাতা।

২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট গণভোটে বিচ্ছেদের পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দেয়া আনুষ্ঠানিক গ্রুপভোট লিভএর বাইরে গিয়ে আলাদাভাবে প্রচারণা চালায় আরণ ব্যাংকসের চালু করালিভডটইইউগ্রুপ। গণভোটের প্রচারণায় ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব গোপন করার দায়ে এই গ্রুপটিকে ইতিমধ্যে ৭০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৮৫ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে নির্বাচন কমিশন।

২০১৬ সালের জুনে যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ইইউ থেকে বিচ্ছেদের পক্ষে ভোট দেয়। সেই বিচ্ছেদ কার্যকর করা নিয়ে এখনও নানা বিভক্তি নাটকীয়তা চলছে। এই বিচ্ছেদ ব্রেক্সিট নামে পরিচিত।

গত রোববার দ্য সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গণভোটের প্রচারণাকালে আরণ ব্যাংকস তিন দফা যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাশিয়ান দূতের সঙ্গে সাক্ষা করেন। ২০১৬ সালের নভেম্বরেলিভডটইউকেপরিচালক অ্যান্ডি উইগমোরও রাশিয়ান দূতের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। উইগমোরের এই সাক্ষা অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার তিনদিনের মাথায়। এর আগে আরন ব্যাংকস, অ্যান্ডি উইগমোর এবং নাইজেল ফারাজ যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।  

আরন ব্যাংকস এবং উইগমোর রাশিয়ান দূতের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা ৬টি স্বর্ণঘনি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে ফাঁস হওয়া এক ইমেইল থেকে জানা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনা? ট্রাম্পের পক্ষে ভোট প্রভাবিত করতে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি তদন্ত করছে। ওই তদন্তের সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা নামে এক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নাম। যারা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের কাজে লাগাতো। ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার সাথে আরন ব্যাংকসের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দুটি কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এলডন ইন্স্যুরেন্স এবং বিগ ডাটা ডলফিন্স নামের ওই দুই কোম্পানির বিরুদ্ধে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত এপ্রিলে ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকার পরিচালক ব্রিটানি কায়সার যুক্তরাজ্যের সংসদীয় কমিটির জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিলেন, আরণ ব্যাংকসের দুই প্রতিষ্ঠানে তথ্যের অপব্যবহারের প্রবণতা বিদ্যমান। ক্যামব্রিজ অ্যানালেটিকা, ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টি এবং তাঁর নিজের দুটি কোম্পানি যাতে সমন্বয় করে কাজ করে সেজন্য কৌশল প্রনয়ন করতে বলেছিলেন আরন ব্যাংকস। যার ফলে কেমব্রিজ অ্যানালেটিকা ইউকে ইনডিপেনডেন্ট পার্টির সদস্যদের তথ্য ভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল, কালসার, মিডিয়া অ্যান্ড স্পোর্টস বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান ড্যামিয়ান কোলিন্স বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার কারণে তারা আরণ ব্যাংকসকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। ব্রেক্সিট ভোটের প্রচারণায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে কমিটি।

আরন ব্যাংকস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ডোনা? ট্রাম্প ব্রেক্সিট বিরোধী শক্তির অপততপরার অংশ এসব। এদিকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন নিয়ে আরও বিভক্ত হয়ে পড়েছে সরকারী দল। বিশেষ করে নর্দান আয়ারল্যান্ড সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন এবং প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের মধ্যে দুরত্ব স্পষ্ট হয়েছে। নর্দান আয়ারল্যান্ড সীমান্তে অস্থিরতা এড়াতে নর্দান আয়ারল্যান্ডকে ইইউর শুল্ক আইনের অধীন রাখার প্রস্তাব করেছেন থেরেসা মে। বরিস জনসন এবং ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস প্রস্তাবের বিরোধীতা করেছেন। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সাল পর্যন্ত ওই ব্যবস্থা বজায় থাকবে বলে স্থির করেছেন থেরেসা মে। তবে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি হয় তা এখনো দেখার বাকি আছে। 

ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি কি হবে সে বিষয়ে দ্রুত যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়ার কথা থাকলেও সেটি আপাতত পিছিয়ে গেছে।  অন্যদিকে হাউজ অব লর্ডসে ব্রেক্সিট বিল বার বার হেরে যাওয়ার ফলে সংশোধনীর জন্য সেটি হাউজ অব কমন্সে ফিরে এসেছে। এই আইন পাশ করা নিয়েও বিপাকে আছে থেরেসা মের সরকার।