Share |

ডলির গ্রামে আনন্দ

সিলেট, ১০ জুন : মৌলভীবাজারের ডলি বেগম কানাডার প্রাদেশিক পরিষদের এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। কেবল নিজ গ্রাম নয়, বিজয়ে আনন্দিত পুরো মৌলভীবাজারের মানুষ। কানাডার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) মনোনয়নে অন্টারিও প্রাদেশিক পরিষদের স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্ট আসনে ডলি বেগম গত জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হন।

ডলির চাচা মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যু সমিতির পরিচালক আবদুস শহীদ জানান, ১৯৮৯ সালে সদর উপজেলার বাজরাকোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ডলি। বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। ১৯৯৯ সালে স্থানীয় মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ওই বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ১১ বছর বয়সে বাবা রাজা মিয়ার নাগরিত্বের সুবাদে বাবা-মা, ভাইয়ের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি দেন। ২০১২ সালে তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেন। ২০১৫ সালে উন্নয়ন প্রশাসনে মাস্টার্স করেন টরন্টো ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে। বাবা রাজা মিয়া, মা জবা বেগম ভাই মহসিন আহমদের সঙ্গে কানাডায় বসবাস করেন ডলি।

আবদুস শহীদ আরও জানান, ২০১৩ সালের দিকে ডলি এক বছর সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল স্ট্যাডিজ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (পিএসএ) পড়াশোনা করেন। ডলির কানাডায় এমপি হওয়ার খবর শোনার পর থেকে পরিবার-পরিজন ছাড়াও এলাকার লোকজনের মধ্যে নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ ইমরান সাজু বলেন, কানাডা প্রবাসী রাজা মিয়ার অন্য দুই ভাইয়ের একজন বাজরাকোনা গ্রামে বসবাস করেন। বড় ভাই বাদশা মিয়া বসবাস করেন যুক্তরাজ্যে। তাদের পরিবারের সদস্য ডলি আমাদের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছেন। ডলির আত্মীয় মনুমুখ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুজন মিয়া জানান, ডলির ঐতিহাসিক গৌরবদীপ্ত জয়ে এলাকাবাসী তথা বাঙালির মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। ডলির অশীতিপর দাদি আনা বিবি বলেন, ’আমার নাতনি কানাডার এমপি হইয়া গাঁও-গ্রামের নাম দূরদেশে ফুটাইছে। এর থাকি বড় পাওয়া আর কী হতে পারে।