Share |

খাঁচায় বন্দী হাজারো শিশুর কান্না : ডোনা? ট্রাম্পের অসভ্যতা ও নিষ্ঠুরতার নতুন মাত্রা

খাঁচায় বন্দী হাজারো শিশুর অবিরাম ক্রন্দনে এখন ভারী আমেরিকার আকাশ-বাতাস। সাত মিনিটের একটি অডিও টেইপ বিশ্বের কাছে ফাঁস করে দিয়েছে মহাশক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের অসভ্য ও নিষ্ঠুর আচরণ। এ আচরণ পৃথিবীজুড়ে মানবতা আর মানবাধিকারের সবক দিয়ে বেড়ানো আমেরিকাকে বিশ্ব বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।  
মেক্সিকো থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশকালে গত কয়েকমাসে আটকদের সঙ্গে থাকা হাজার হাজার শিশুকে তাদের মা-বাবা কিংবা বিচ্ছিন্ন করতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অমানবিক কর্মকাণ্ডকে দুনিয়াজুড়ে মানুষ ধিক্কার দিচ্ছে। খাঁচায় বন্দী এই শিশুদের মধ্যে আট মাস বয়েসী শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
 অডিও টেইপে সীমান্ত এলাকায় অভিভাবকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের বিরামহীন কান্নাজড়িত প্রশ্ন, তাদের মা-বাবা কোথায়। এক শিশু তার খালার ফোন নম্বর শুনিয়ে বারবার বলছে, সে বাসায় যেতে চায়। সাহায্যকর্মীরা শিশুদের কান্না থামাতে চেষ্টা করেও তাদের শান্ত করতে পারছেন না। অবৈধ অভিবাসন বন্ধের চেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতেই পারেন। কিন্তু আমরা মনে করি, তিনি হাজার হাজার শিশুকে তাদের মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশুর মতো খাঁচার পুরে মজা দেখাতে পারেন না।
অভিবাসীদের ট্রাম্প কিভাবে দেখে থাকেন তা তাঁর মঙ্গলবারের জঘন্য মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। এতে তিনি বলেছেন, অভিবাসীদের অবাধ আগমনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। অথচ আজ যে আমেরিকার মহাশক্তিধর হয়ে ওঠার বড়াই তা-তো এই অভিবাসীদের কল্যাণেই। অবশ্য খোদ আমেরিকাতেই ট্রাম্পের এই চরম অপমানজনক মন্তব্যেও প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন বিবেকসম্পন্ন। একজন ক্যাথলিক যাজক বলেছেন, ‘আমরা পশুদের কথা বলার সময়েই বিষাক্ত কথাটা ব্যবহার করি। ট্রাম্পের এই শব্দের ব্যবহার নাৎসি জার্মানির সঙ্গে তুলনীয়, সেখানে ইহুদিদের আরশোলার সঙ্গে তুলনা হয়েছিল।’  
ইমিগ্রেন্টের দেশ বলে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের এই অমানবিক আইন প্রয়োগের নামে শিশুদের খাঁচায় পুরে রাখার এই নীতিকে সব সভ্য নিয়মের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের স্ত্রী-কন্যাও এমন নির্দয় আচরণ অনৈতিক বলে মনে করেন। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ আবার ‘অবৈধ’ হয় কী করে? কাগজপত্র না থাকলেই একজন মানুষকে কি অবৈধ বলা যায়? এটি কি ভাগ্যবিড়ম্বিত মানবের প্রতি আরেক মানবের চরম ধৃষ্টতামূলক সম্বোধন নয়?
গত কয়েক মাসে প্রায় আড়াই হাজার অবলা শিশুকে মা-বাবা থেকে আলাদা করে তাদেরকে পশুর মতো খাঁচায় পুরে রাখায় দুনিয়া জুড়ে ওঠা সমালোচনার ঝড়ে এখন ট্রাম্প পিছু হটেছেন। গত বুধবার এই জঘন্য নীতি বাতিলে তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারী করেছেন।  কিন্তু ঘরে-বাইরে চতুর্মুখী সমালোচনার পর অভিবাসী শিশুদের তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক শিশুকেই হয়তো তার বাবা-মার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবেনা।
ট্রাম্পের খামখেয়ালীর জন্য এখন মা হারা হাজার হাজার শিশু। আমরা আশা করবো, তারা দ্রুতই মায়ের কোলে ফিরবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এদের কেউ কেউ যদি নিজের পরিবারের সাথে পুনর্মিলিত হতে না পারে তবে তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার সামর্থ কি কোন প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রের আছে?