Share |

হাইকমিশন কর্মকর্তার দম্ভোক্তির ভিডিও ভাইরাল : ‘..পাসপোর্ট হবে না.. বলি দিলাম’

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২৪ জুন : লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি এ এফ এম ফজলে রাব্বি একজন গ্রাহককে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলছেন, ওই গ্রাহককে তিনি পাসপোর্ট দেবেন না। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, তিনি ইচ্ছা করলে ওই গ্রাহকের পাসপোর্ট বাতিল করে দিতে পারেন।
গ্রাহকের সাথে হাইকমিশনের কর্মকর্তা এ এফ এম ফজলে রাব্বির এমন আচরণের একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর ফলে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সেবার মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা।
ভুক্তভোগী ওই গ্রাহকের নাম তপু আহমদ। তিনি বাংলাদেশি মালিকানাধীন আইঅন টিভি’র নির্বাহী প্রযোজক (এক্সিকউটিভ প্রডিউসার)। গত ১৯ জুন মঙ্গলবার ওই ঘটনা ঘটে।
তপু আহমদ বলেন, তাঁর মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) আবেদন জমা দেয়ার সময় নির্ধারিত ছিল স্থানীয় সময় ১২টা ৪৫ মিনিটে। কাউন্টারে থাকা কর্মী তাঁকে বলেন, তাঁরা দুপুরের বিরতিতে যাবেন। দেড় ঘন্টা পর তাঁকে ডাকা হবে। নির্ধারিত সময়ে কাউন্টারে এসেছেন জানিয়ে অপু আহমদ অনুরোধ করেন, ৫/১০ মিনিটের কাজের জন্য তাঁকে যেন দেড় ঘন্টা বসিয়ে রাখা না হয়।   
ওই কর্মকর্তা অনুরোধ না রাখায় তপু আহমদ পাসপোর্ট ও ভিসা বিষয়ক কন্স্যুলার ফজলে রাব্বির কাছে যান। ফজলে রাব্বি তাঁর আবেদন দেখে দেন এবং তাঁর কাজটি করে দেয়ার জন্য একটি নোটও লিখে দেন।
কিন্তু কাউন্টারের কর্মকর্তা তবুও কাজটি করে দেননি। এরপর তপু আহমদ আবারও ফজলে রাব্বির কক্ষে গেলে কউন্টারের কর্মকর্তাও সেখানে যায়। এবার ফজলে রাব্বিও তপু আহমদকে অপেক্ষা করতে বলেন।
তপু আহমদ বলেন, তিনি বিষয়টি মানতে পারবেন না। কারণ তিনি নির্ধারিত সময়েই পাসপোর্ট আবেদনের জন্য এসেছেন এবং এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা তাঁর জন্য সম্ভব নয়।   
এক পর্যায়ে ফজলে রাব্বি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তপু আহমদ বিরতির আগে তাঁর আবেদন জমা নেয়ার জন্য যুক্তি দেখাচ্ছেন। আর ফজলে রাব্বি তাঁর প্রতি আঙ্গুল উঁচিয়ে বলছেন,
“আপনার পাসপোর্ট হবে না, আমি বলে দিলাম। আপনার পাসপোর্ট হবে না, কোনোদিন পাবেন না।” তখন তপু আহমদ বলেন, ‘মানে কি? আমার পাসপোর্ট কোনোদিন পাব না? আপনি কে আমার পাসপোর্ট দেয়া না দেয়ার? আপনি সরকার হয়ে গেছেন মনে হয়।”
এবার ফজলে রাব্বি বলেন, “আমি পাসপোর্ট অফিসার আমার ইচ্ছার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমি আপনার পাসপোর্ট বাতিলও করে দিতে পারি, পাসপোর্ট দিতেও পারি।”
 যোগাযোগ করা হলে, ফজলে রাব্বি দাবি করেন, ওই গ্রাহক বাংলাদেশকে গালাগাল দিয়েছেন। বাংলাদেশের পাসপোর্টকে গালাগাল দিয়েছেন। যে কারণে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
পাসপোর্ট দেয়ার না দেয়ার বিষয়টি তাঁর ইচ্ছার বিষয় নাকি আইনের বিষয়?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইচ্ছা” কথাটি আমি বলিনি। তবে এটি আইনের ব্যাপার।”
জানতে চাইলে তপু আহমদ বলেন, বাংলাদেশ বা পাসপোর্ট নিয়ে কোনো কথা হয়নি। কথা হয়েছে নির্ধারিত সময়ে আবেদন জমা নেয়া- না নেয়ার ব্যাপারে। ব্রিটিশ পাসপোর্ট নেয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা করেননি। বরং বাংলাদেশি পাসপোর্টই রেখেছে বলে জানান তিনি। ফজলে রাব্বি নিজের দোষ ঢাকতে বিষয়টি ভিন্নদিকে নিতে চাচ্ছেন বলে দাবি তপুর।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাউনাইন বলেন, কোনো পরিস্থিতিকে কর্মকর্তারা গ্রাহকের সাথে খারাপ আচরণ করতে পারেন না। ঘটনাটি জানার পর তিনি ফজলে রাব্বিসহ সকল কর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন বলে জানান। পুরো ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এর আগে এক গ্রাহকের সঙ্গে কন্স্যুলার শিরিন আক্তারের অন্যায় আচরণ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ বাংলাদেশ প্রতিদিন।