Share |

আসছে নির্বাচনে প্রবাসীদের সমর্থন চান সাবেক এমপি শাহিনুর পাশা চৌধুরী

পত্রিকা রিপোর্ট
লণ্ডন, ২৫ জুন : আসছে নির্বাচনে প্রবাসীদের সমর্থন কামনা করেছেন সাবেক এমপি মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী। এবার নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশে প্রবাসীদের সহায়-সম্পত্তি সুরক্ষায় বিশেষভাবে সচেষ্ট থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। সিলেটের রাজনীতিতে শাহীনুর পাশা চৌধুরী এক পরিচিত নাম। ইসলামী কোনো আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে অগ্রণী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।  কয়েক সপ্তাহের ব্যক্তিগত সফরে তিনি এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।  গত ১৯ জুন পত্রিকা কার্যালয়ে তাঁর সাথে কথা হয় আসছে নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ এবং দেশে প্রবাসীদের জান-মালের সুরক্ষা এবং এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে। 
পত্রিকার সাথে আলাপচারিতায় জানালেন, আসছে নির্বাচনে তিনি জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসনে প্রার্থী হবেন। বিএনপি নেতৃত্বধীন জোট থেকে মনোনয়নের দিকটিও ঠিক আছে। নানা কারণে এলাকায় জনসমর্থনও বেশ ভালো। তবে তাঁর আশঙ্কা অন্যখানে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বললেন, মানুষের কাছে ভোট চাইবো এবং আশাকরি পাবোও। কিন্তু বাক্সে পড়ার পর ভোটের হিসাবটা ঠিক থাকবে কিনা শঙ্কা সেটিই।  মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পন্ন করে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন শাহিনুর পাশা চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মাস্টার্স শেষ করে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেন। বর্তমানে আইন পেশায় নিয়োজিত। এর আগে রাগিব-রাবেয়া ডিগ্রি কলেজে বেশ কয়েক বছর শিক্ষকতাও করেন।
তাঁর নির্বাচনী আসনে ভোট সংখ্যা প্রায় তিন লক্ষের কাছাকাছি। নির্বাচিত হলে তাঁর এবার অগ্রাধিকার কি হবে এমন প্রশ্নে জবাবে শাহিনুর পাশা চৌধুরী জানালেন, বিগত মেয়াদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকার স্বার্থরক্ষায় আরো জোরালো ভূমিকা রাখবেন। এমপি হলে তাঁর অগ্রাধিকারের প্রশ্নে বললেন, এলাকার ৫০ কিলোমিটার রাস্তা সড়ক সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জানালেন, এইটুকু পথ যাতায়াতে ২ ঘন্টা লাগে। অথচ রাস্তা ঠিক হলে এই রান্তা পেরুতে লাগবে মাত্র ৪৫ মিনিট। বললেন, ব্রিটেন প্রবাসী অনেকেই শখ করে দেশে যান। কিন্তু এই রাস্তার দুর্দশার কারণে বাড়ীতে যেতে চান না। সিলেট শহরে বাসাভাড়া করে কয়েকদিন থেকে চলে আসেন। রাস্তাটা ঠিক হলে তাদের আর শহরের ভাড়া বাসায় ছুটি কাটাতে হবেনা।
এলাকায় অতীত কাজের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জগন্নাথপুর কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করতে আমার ভূমিকা ছিলো। এবারো নির্বাচিত হলে এলাকার নির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকাবাসীকে নিয়ে প্রয়োজনে এলাকার জরুরী দাবীসমূহ আদায়ে সচেষ্ট থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন সাবেক এই এমপি।
প্রবাসীদের ব্যাপারে বললেন, বিলেত প্রবাসীদের কাছে শুধু জগন্নাথপুর কিংবা সিলেট নয় পুরো বাংলাদেশই তো ঋণী। সুতরাং তাদের সবধরনের সহযোগিতা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রবাসীদের প্রতি তাঁর আবেদন, ব্রিটেনে বাস করলেও দেশের আত্মীয়স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে তাঁরা যেনো নির্বাচনে তাঁকে সহায়তা করেন। এছাড়া নির্বাচনকালে তাঁর সমর্থকদের দেশে গিয়ে প্রচারকার্যে শরীক হবারও আহবান জানিয়েছেন তিনি।  উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের উপনির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসনে ৪৪ হাজার ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান পেয়েছিলেন ৩৮ হাজার ভোট।