Share |

বাংলাদেশ হাইকমিশনে দম্ভ আর মিথ্যাচার

লণ্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসার দায়িত্বে থাকা ফার্স্ট সেক্রেটারি এ এফ এম ফজলে রাব্বির দম্ভোক্তির ভিডিও ব্রিটেনতো বটেই বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।  
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশের মানুষ এই ভিডিওতে দেখেছেন, জনগণের অর্থে লালিত-পালিত এই সরকারী কর্মকর্তা নিজেকে কী দম্ভভরে একজন নাগরিককে পাসপোর্ট দেওয়া না দেওয়ার মালিক বলে দাবি করছেন। লণ্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাসপোর্ট, ভিসা সংক্রান্ত কাজ কিংবা কন্স্যুলার শাখায় সংশ্লিষ্ট কাজে গিয়ে কোন কোন কর্মকর্তার অসহযোগিতামূলক এবং ক্ষেত্রবিশেষে অগ্রহণযোগ্য আচরণের অভিজ্ঞতা ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু ভূক্তভোগীরা এসব অন্যায় ও অন্যায্য আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই সহ্য করেন বলে তা সংবাদ মাধ্যমে আসে না। আর মাঝেমধ্যে ভূক্তভোগীদের কেউ অভিযোগ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রমাণের অভাবে হাতেনাতে ধরা যায়না। তবে গত ১৯ জুনের ঘটনাটি ব্যতিক্রম। বিলেতের একজন মিডিয়াকর্মী তপু আহমেদ এদিন গিয়েছিলেন তাঁর মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) জমাদানের জন্য। তাঁকে দেওয়া পূর্বনির্ধারিত সময়ে (দুপুর ১২.৪৫ মিনিট) সেটি জমা নিতে দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কাউন্টারের কর্মকর্তা অস্বীকৃতি জানালে সেখানে তাঁর সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। ঐ কর্মকর্তা দুপুরের বিরতিতে যাওয়ার অজুহাতে তাকে আরো দেড় ঘন্টা বসে থাকতে বলেছিলেন। এটি না মেনে তিনি এ এফ এম ফজলে রাব্বির কাছে গেলে তিনিও একই কথা বললে তপু আহমদ জানিয়েছিলেন, মাত্র পাঁচ-দশ মিনিটের কাজের জন্য তিনি দেড় ঘন্টা বসতে রাজি নন। এর জবাবে উত্তেজিত ফার্স্ট সেক্রেটারির কথাবার্তা ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে স্পষ্ট। ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। একজন কর্মকর্তার দম্ভ আর স্বেচ্ছাচারিতামূলক আচরণের সাফাই গাইতে গিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন আরেকটি ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে যা প্রথমটির থেকেও মারাত্মক। কারণ, প্রথম ঘটনাটি একজন ব্যক্তির তাৎক্ষণিক অসদাচরণের। কিন্তু এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ২২ তারিখে ইস্যুকৃত প্রেস রিলিজটিতে দু:খ প্রকাশের সাথে সাথে চাতুর্যের সাথে তপু আহমেদের ওপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়ার পাঠানো ঐ প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, তপু আহমেদ “বাংলাদেশ, লন্ডনস্থ হাইকমিশন এবং পাসপোর্ট সম্বন্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন”। আর এর প্রেক্ষিতেই নাকি ঐ কর্মকর্তা আবেদনকারীর প্রতি এসব দম্ভোক্তি করেছেন। কিন্তু মোবাইল ফোনে রেকর্ডকৃত পুরো ঘটনার কোথাও তপু আহমদের এ ধরনের বক্তব্য নেই। তাহলে, কোন প্রমাণের ভিত্তিতে হাইকমিশন তাদের দাফতরিক প্যাডে সীলসহ এই বক্তব্য দিলো। নাকি তাদের কার্যালয়ের নিজস্ব সিসি টিভি ফুটেজে ঘটনাটি ভিন্ন হয়ে ধরা দিয়েছে? যদি তপু আহমদ “বাংলাদেশ, লন্ডনস্থ হাইকমিশন এবং পাসপোর্ট সম্বন্ধে আপত্তিকর মন্তব্য” করে থাকেন তাহলে এখন হাই কমিশনের উচিত হবে ঐ ফুটেজ মিডিয়াকে সরবরাহ করা। আর যদি দূতাবাসের কতিপয় কর্মকর্তা মনের মাধুরী মেশানো বক্তব্য দিয়ে তাদের গা বাঁচাতে তপু আহমদের উপর দোষ চাপানোর অপচেষ্টা করে থাকেন তাহলে মিশনের শীর্ষকর্তাদের উচিত এই মিথ্যাচারের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা। কোন ঘটনা আড়ালের জন্য পরিকল্পিত মিথ্যাচার গুরুতর অপরাধ বলেই বিবেচিত। আর এই কাজে মিশনের প্যাড এবং সীল ব্যবহৃত হয়েছে। আমরা মনে করি, কোন অসাধু কিংবা অসদাচরণকারী কর্মকর্তার অপকর্মের দায় হাইকমিশনের নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
আমরা জেনেছি, মিশনের কাছে ন্যস্ত ক্ষমতা অনুযায়ী এ এফ এম ফজলে রাব্বিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনায় শুধু সতর্কতা জারিই যথেষ্ট নয় বলে আমরা মনে করি। অসদাচরণকারী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার কিংবা ন্যূনতম সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা না হলে ভবিষ্যতেও এধরনের ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে। এজন্য মিশনের দায়িত্বশীলকে ঢাকায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে হবে। সেই সাথে প্রেস রিলিজ ইস্যুর বিষয়টি নিয়েও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হাই-কমিশনের দেওয়া আশ¡াসই যথেষ্ট নয়।