Share |

ধারাবাহিকতা চান আরিফ, উন্নয়নের আশ্বাস কামরানের

সিলেট, ২ জুলাই : সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে বইছে এখন নির্বাচনি হাওয়া। চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। কে হবেন নগরপিতা, এ নিয়ে চলছে ভোটারদের নানাবিধ বিশ্লেষণ। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর দুইবার বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত তৃতীয় সিটি নির্বাচনে কামরান হার মানেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে। এবারের নির্বাচনে সেই পরাজয় মুছে দিতে চান কামরান। নগরবাসীর সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এবং উন্নয়নের স্বার্থে ভোট চাইবেন তিনি। তবে আরিফ এবারও ধানের শীষের বিজয় গোলায় তুলতে চান। আস্থা ও বিশ্বাসের কারণেই ভোটাররা ফের তাকে নির্বাচিত করবেন বলে আশাবাদী বিএনপির এই নেতা।
সদ্য বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের মানুষের বেশি কিছু চাওয়ার নেই। এই অল্প চাহিদাও অতীতে পূরণ করা হয়নি। নানা সমস্যায় বঞ্চিত রাখা হয় এই নগরের মানুষকে। নগরীর উন্নয়নের জন্য আমি একটি মাস্টারপ্ল্যান করেছিলাম। যে মাস্টারপ্ল্যান দিয়ে পবিত্র এই নগরীকে আধুনিক মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আমাকে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি রাখা হয় ২৭ মাস। মুক্তি পেয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিলেটের বিভিন্ন ছড়া, খাল উদ্ধারসহ সড়ক প্রশচ্চকরণ কাজে হাত দিয়ে সুফল পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তি আরিফ ২৭ মাস কেন, পুরো জীবন কারাবন্দি থাকলেও কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু জনগণের প্রতিনিধি আরিফকে বন্দি রাখা হয়েছে এই সিলেট নগরীর মানুষকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখার জন্য। আমার ওপর ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে, যার কারণে তারা এবারও আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। গত নির্বাচনে এই ভোটাররা আমাকে যেভাবে ভালোবেসে মেয়র নির্বাচিত করেছেন, আমি শতভাগ আশবাদী এবারও তারা বিপুল ভোটে আমাকে পুনরায় নির্বাচিত করবেন।’
আরিফ আরও বলেন, ‘সিলেট নগরের অন্যতম সমস্যা ছিল সরু সড়ক, অল্পবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা। এসব সমস্যা এখন আর নেই। এজন্য আমি নগরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ, ছড়া দখলকারীদের উচ্ছেদ এবং সড়ক প্রশস্ত করার কাজে হাত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এমনকি অনেকেই সড়ক প্রশস্ত কাজ চলাকালে আমার কথায় কোটি টাকার জায়গা ছেড়েছেন। অতীতে সিলেটের ২৭টি ওয়ার্ডের যে উন্নয়ন হয়নি আমার সময় এরচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের সেবা করে আমার বাকি জীবন অতিবাহিত করতে চাই। আর গড়ে তুলতে চাই আধুনিক একটি নগর। আমি লোকদেখানো উন্নয়নে বিশ্বাসী নই, সিলেটের জন্য আমি টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী।’
তবে গত মেয়াদে সিলেটে কোনও উন্নয়ন হয়নি দাবি করে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, ‘আমার সময়ে সিলেট নগরীতে যেভাবে উন্নয়ন কাজ করেছিলাম, এরপর আর সেরকম উন্নয়ন কাজ হয়নি। নগরীতে অনেক সমস্যা এখনও রয়েছে। এই নগরের মানুষ আমাকে কমিশনার থেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং দুইবার সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত করেছেন তাদের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই। আমি এই নগরের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে এখনও রয়েছি। মেয়র না থাকাকালীন আমার বাসার দরজা সবার জন্য খোলা ছিল। যার কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবার কাছে আমি আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা করে নিতে পেরেছি। নগরবাসীর পরামর্শ অনুযায়ী এই নগরের উন্নয়নে আমি এবারও মেয়র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, এবার সিলেটের মানুষ নৌকার বিজয় ঘরে তুলবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমার সময় সিটি করপোরেশন ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। কোনও দলাদলি ছিল না। কিন্তু তৃতীয় সিটি নির্বাচনের পর করপোরেশনে শুরু হয় একক আধিপত্য। উন্নয়নের নামে হয়েছে টাকা লুটপাট। এই নগরের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই আন্তরিক ছিলেন। সিলেটের বড় বড় সমস্যা যেগুলো, সেসব আমার সময়ে সমাধান হয়েছে। এরপর সিলেটে আর তেমন কোনও উন্নয়ন হয়নি। জনগণের ভালোবাসায় আমি আজকের কামরান। সিলেটের সাধারণ মানুষসহ সর্বচ্চরের মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার প্রতিফলন হবে নৌকা প্রতীকে। আমরা সবাই মিলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চাই। কারণ, নৌকা না থাকলে উন্নয়ন হয় না, উন্নয়ন মানেই নৌকা।’  
কামরানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
 সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ জুলাই) মনোনয়নপত্র যাচাই-বছাইয়ের শেষ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে তার ছেলে আরমান আহমদ শিপুল ও স্ত্রী আসমা কামরান আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ৩০ জুন নগরীতে কামরানের পক্ষে ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় তাদের সঙ্গে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিলেন।  এছাড়াও গত ২৮ জুন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সেখানে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। যা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন অফিসে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা চাই আইন সবার জন্য সমান থাকুক। কিন্তু সরকার দলীয় প্রার্থীর এমন নিয়ম ভাঙা আমাদেরকে হতাশ করেছে।’ সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেয়েছি। এই অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রার্থীকে সতর্ক করে দেওয়া হবে।  
তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল
 সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে ৯ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ মেয়র প্রার্থীর দালিখ করা মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।  সোমবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টা থেকে মেয়র পদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। এসময় সিসিক মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জসিম উদ্দিন, এহসানুল হক তাহের ও মোক্তাদির হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান,  মেয়র প্রার্থী এহসানুল হক তাহেরের দাখিল করা মনোনয়পত্রে সমর্থনকারী ৩০০ ভোটারের মধ্যে চার জন ভোটারের তথ্য যথাযথ পাওয়া যায়নি। একইভাবে অপরপ্রার্থী মোক্তাদির হোসেনকে সমর্থনকারী ভোটারদের মধ্যে ২জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেলেও ৩ জনের সঠিক তথ্য না পাওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অপর মেয়র প্রার্থী কাজী জসিম উদ্দিনের দাখিল করা মনোনয়নপত্রে সমর্থন দেওয়া ভোটারদের মধ্যে ৫জনের নাম, ভোটার নম্বর ও স্বাক্ষর না পাওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।