Share |

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা : দানবীয় রূপে ছাত্রলীগ

ঢাকা, ০২ জুলাই : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গত শনিবার (৩০ জুন) দানবীয় রূপে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হকসহ অন্তত ছয়জন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১০। হামলার প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় কলেজে মানববন্ধন এবং সোমবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ডাকে। সেই বিক্ষোভে আবারও হামলা চালায় ছাত্রলীগ।  

প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা আন্দোলনকারী কোটা বাতিল করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও তাঁর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আবারও রাস্তায় নামে। এখন প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকার একদমই চুপ। আন্দোলন দমাতে মাঠে এখন ছাত্রলীগ। তারা এবার প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীর ভূমিকায় হাজির হয়েছে। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের খুঁজে খুঁজে সায়েস্তা করছে তারা। ছাত্রলীগ প্রকাশে এমন সন্ত্রাসীকর্ম করলেও দেশের আইন শৃৃখলা বাহিনী তাদের পক্ষেই রয়েছে।  উলটো আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের মামলা দিয়ে গ্রেফতার করছে। রিমাণ্ডে নিচ্ছে।  
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ওপর এই হামলায় জড়িত থাকার কথা ছাত্রলীগের নেতারা অস্বীকার করে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হওয়ার কথা তাঁরা শুনেছেন।
কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় পরবর্তী কর্মসূচি জানাতে রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। কিন্তু এ নিয়ে আগের দিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পা?াপা?ি মন্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রোববার মধুর ক্যানটিনে জড়ো হন। পরে সকাল ১০টার দিকে গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক, ফারুক হোসেন, আতাউল্লাহসহ কয়েকজন নেতা গ্রন্থাগারের সামনে যান। তাঁরা সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সেখানে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা একযোগে ‘শিবির ধর’, ‘শিবির ধর’ বলে আন্দোলনকারী নেতাদের ধাওয়া করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক এস এম জাবেদ আহমদ দুই পক্ষকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। সবচেয়ে বেশি মারধরের শিকার হন যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক; তাঁর নাক-মুখ ফেটে রক্ত বের হচ্ছিল। তিনি অধ্যাপক জাবেদ আহমদের পা জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি জানাতে থাকেন। ওই শিক্ষক নিজের পরিচয় দিয়ে ছাত্রটিকে রক্ষার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা নিবৃত্ত হননি। বরং নিজের হাতে আঘাত পান অধ্যাপক জাবেদ। মারধরের শিকার আহত নুরুলকে হাসপাতালে নিতেও বাধা দেন হামলাকারীরা। পরে তাঁকে পেছনের দরজা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছাত্রলীগের মারমুখী নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে কেন্দ্রীয় মসজিদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ চত্বর ও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সামনে নিয়ে মারধর করেন। পরে পরিচিতজনেরা আহতদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নেন। পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তিনি একটি কক্ষে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গ্রন্থাগারের উত্তর  পাশের একটি দরজা দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলার সময় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির ৫০-৬০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনেকেই পরবর্তী কমিটিতে পদপ্রার্থী। তবে মারধরে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের বেশির ভাগই কনিষ্ঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগেরও কিছু নেতা-কর্মী হামলায় অংশ নেন।
 আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় মারধরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপসম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ আরাফাত, মানবসম্পদবিষয়ক উপসম্পাদক জহির আহমেদ খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপসম্পাদক আল মামুন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল জুবায়ের ভূইয়াকে চি?িত করা গেছে।
তাঁদের বাইরে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাকিব হাসান, মেহেদী হাসান, স্কুলছাত্রবিষয়ক উপসম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য, সাবেক সদস্য মাহবুব খান, জিয়াউর রহমান হল শাখার সভাপতি আরিফুর রহমান, বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি বরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, মুহসীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান প্রমুখকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা গ্রন্থাগারের ভেতরে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের খুঁজতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরশকে বের করে এনে সাইকেল স্ট্যান্ডের পাশে নিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তিনি জ্ঞান হারান। পরে তাঁকে রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আন্দোলনে জড়িত অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, তিনি গ্রন্থাগারে পড়তে এসেছিলেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পরে আন্দোলনকারীদের খুঁজতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের সামনেও ছাত্রলীগের একটি পক্ষ অবস্থান নেয়।  রোববার বেলা দেড়টার দিকে শাহবাগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার থেকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে বের করে আনেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ সময় জসিমসহ দুজনকে মারধর করা হয়। পরে জসিমকে শাহবাগ থানার একটি গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ক্যাম্পাসের ভেতর প্রবেশ না করলেও শাহবাগ থানার সামনে বেশ কয়েকটি পুলিশ ভ্যান, জলকামান ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন ছিল। আর ক্যাম্পাসের ভেতরে সকাল থেকেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির তৎপরতা দেখা যায়নি। দুপুরের পরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির লোকজন গ্রন্থাগারে গিয়ে আহত হয়ে পড়ে থাকা হাসান আল মামুনকে বের করে আনেন। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘গ্রন্থাগারের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে আমি শুনেছি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ চলাকালেও লাইব্রেরি খোলা রেখেছি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, একটি পক্ষ লাইব্রেরির প্রবেশপথের রাস্তা অবরোধ করবে কেন?’
উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  সোমবারও হামলা চালায় ছাত্রলীগ
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর সোমবার সকালে আবার হামলা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হতে গেলে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালান। তাঁদের কিল, ঘুষি, লাথি মেরে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কর্মী। তাঁদের মধ্যে ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, স্কুলছাত্রুবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, মহসীন হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানিসহ বেশ কয়েকজনকে দেখা গেছে। সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই সেখানে ছাত্রলীগের মহড়া ছিল। তাই আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানেও একই অবস্থা দেখা গেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন আন্দোলনকারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হতে শুরু করেন। এ সময় ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাুকর্মী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। ফারুক হোসেনকে মোটরসাইকেলে করে তুলে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে আবার ৮ থেকে ১০ জন আন্দোলনকারী ব্যানার নিয়ে শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়ান। এ সময় তাঁদের ওপরেও সাইফ বাবু, জয়নাল আবেদিন ও মেহেদী হাসান সানিকে হামলা চালাতে দেখা যায়। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন মোবাইলে বলেন, আমরা সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ হামলা চালায়। এতে আমিসহ ১০-১২ জন আহত হয়েছে। ফারুক হোসেনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  
হামলার দায় অস্বীকার ছাত্রলীগের
হামলার পরপর গ্রন্থাগারের সামনে কথা হয় ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে। তাঁদের দাবি তাঁরা প্রথমত ছাত্র। তারপর ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী। ছাত্র হিসেবে তাঁরা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা করতে দিতে পারেন না। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার সময় তাঁরা দলীয় পরিচয় দেননি।
পরে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুনেছি আন্দোলনকারীদের দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছে। যদি কেউ গিয়েও থাকে, তবে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে গিয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী হিসেবে নয়।’ আর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাস স্বাভাবিক রাখতে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সব ধরণের ব্যবস্থা নেবে।
 কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ ৫ দিনের রিমান্ডে
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত (সিএমএম) এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র বলছে, শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার রাশেদ খানকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আদালতে শুনানির সময় রাশেদ খান নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। রোববার রাশেদকে ভাষানটেক থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান রাশেদ খানের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুন রাত আটটা আট মিনিটে রাশেদ খান ফেসবুক লাইভে মিথ্যা, মানহানিকর ও নাশকতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। কিছু বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট মানহানি ঘটিয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিষয়ে আল নাহিয়ান বলেন, ভিডিওটি শুনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কথাগুলো বলা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। সে জন্য তিনি মামলা করেছেন।
 কোটা আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার ঘোষণা
 কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘হয়রানির শিকার’ আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন একদল আইনজীবী। সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থিত ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন এমন ঘোষণা দেওয়া হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনগত সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ২০ জন আইনজীবী সম্মিলিতভাবে নিজ খরচে এই আইনগত সহায়তা দেবেন। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূম, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, যারা গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে আছেন। তাঁরা চাইলে তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। ২০ জন আইনজীবী নিজ খরচে এই আইনি সহায়তা দেবেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করলে সে ক্ষেত্রেও আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’