Share |

বেক্সিট নিয়ে মতবিরোধ : দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর পদত্যাগ

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ০৯ জুলাই : যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী (ব্রেক্সিট সেক্রেটারি) ডেভিড ডেভিস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করেছেন। ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সাথে নীতিগত বিরোধের জের ধরে এই দুই হেভিওয়েটমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। স্থানীয় সময় গত রোববার রাতে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্রেক্সিট বিষয়কমন্ত্রী ডেভিড ডেভিস। আর প্রায় ১২ ঘন্টার মাথায় আকস্মিকভাবে পদত্যাগের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।
  ইইউ’র সঙ্গে বিচ্ছেদ কার্যকর করা নিয়ে বহুদিন ধরে যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যে চরম বিভক্তির কথা শোনা যাচ্ছিলো। ডেভিড ডেভিস ও বরিসজনসনের  পদত্যাগের মধ্যদিয়ে সেটি একেবারেই খোলসা হয়ে গেল। এই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে বিচ্ছেদ কার্যকর করা নিয়ে ইইউর সঙ্গে চলমান সমঝোতায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়টি হলো থেরেসা মে ক্ষমতায় টিকেন কি-না। কারণ নর্দান আয়ারল্যান্ডের আঞ্চলিক দল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির ১০জন এমপির সমর্থন নিয়ে সরকারের টিকে আছেন মে। এখন ডেভিড ডেভিস ও বরিস জনসনের পদত্যাগের কারণে তাঁর নিজ দলের এমপিদের মধ্যে ফাটল ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে শিগগরই আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা দখছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।  ২০১৬ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ইইউ’র সঙ্গে বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দেয়। ‘ব্রেক্সিট’ নামেও পরিচিত এই বিচ্ছেদ। এই বিচ্ছেদ কার্যকর করতে যুক্তরাজ্য সরকার ‘ডিপার্টমেন্ট অব এক্সিটিং ইইউ’ নামে নতুন একটি দফতর (ডিপার্টমেন্ট) খুলে। সংক্ষেপে ‘ব্রেক্সিট’ দফতর হিসেবে পরিচিত এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পান ইইউ বিরোধী রাজনীতিক ডেভিড ডেভিস। ব্রেক্সিট সমঝোতায় তিনি যুক্তরাজ্যের পক্ষে শুরু থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। 
অন্যদিকে ব্রেক্সিটপন্থী অন্যতম নেতা বরিস জনসনও ২০১৬ সাল থেকে থেরেসা মের কেবিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।  চলমান সমঝোতা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চে ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা। এরপর ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক অবস্থায় বজায় রাখতে এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ২০২০ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বজায় রাখতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। তবে বেক্সিট পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য সম্পর্ক কি হবে- তা নিয়ে চরম মতবিরোধ রয়েছে উভয় পক্ষে।
গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মন্ত্রীদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নীতি ঠিক করেন। মন্ত্রীসভার চলমান বিভক্তি নিরসনে তাঁর ওই উদ্যোগ। 
গত রোববার পদত্যাগের পর ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিস ডেভিস বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ‘খুব সহজে খুব বেশি’ ইইউ’র হাতে তুলে দেয়ার কৌশল নিয়েছে। এতে ইইউ’র চাহিদা আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ সম্পর্কের যে কৌশল ঠিক করেছেন তাতে কেবল নামমাত্র ব্রেক্সিট হবে বলে মন্তব্য করে ডেভিড ডেভিস বলেন, যুক্তরাজ্য হয়তো ইইউ’র কাস্টমস ইউনিয়ন (এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো অন্য দেশের সাথে একই শুল্ক হারে ব্যবসা করে) এবং সিঙ্গেল মার্কেটে (সদস্য্ দেশগুলোর শুল্কমুক্ত একক বাজার) থেকে যাবে। ডেভিড ডেভিস বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে নীতিতে বিশ্বাস করেন না, সেটির পক্ষে সাফাই গাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। যে কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেক একই কারণ উল্লেখ করেছেন বরিস জনসনও। 
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন, তাঁদের কাজের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন যে, পদত্যাগী এসব মন্ত্রী সরকারের গৃহীত নীতির যে বর্ণনা দিচ্ছেন- সেটি সঠিক নয়।
সোমবার সকালে ডোমিনিক রাবকে নতুন ব্রেক্সিট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ডোমিনিক রাব ২০১৬ সালের গণভোটে ইইউ সঙ্গে বিচ্ছেদের পক্ষে প্রচার চালান। তিনি আবাসন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জেরেমি হান্ট। তিনি হেলথ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।