Share |

হাজারো মানুষের বিরোধিতা-বিক্ষোভের মুখে ডোনা? ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর

ব্রিটেন সফরে এসে নজিরবিহীন বিক্ষোভ মোকাবেলা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনা? ট্রাম্প। লন্ডন, এডিনবারাসহ বিভিন্নস্থানে হাজার হাজার মানুষ ট্রাম্পের ব্রিটেন সফরের বিরোধীতা করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় দুই বছরের মতো সময় পেরিয়ে এলেও বির্তক তার পিছু ছাড়েনি। অন্যভাবে বলা যায়, তাঁর নারীবিদ্বেষী, বর্ণবাদী এবং সর্বোপরি মানবতাবিরোধী মন্তব্য, আচরণ আর কর্মকাণ্ড প্রতিনিয়তই তাকে বিতর্কিত করে রেখেছে।
শুধু লণ্ডন নয়, স্কটল্যান্ডে গিয়েও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ট্রাম্পকে। এডিনবারায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে সামিল হন। স্কটল্যান্ডের ট্রার্নব্যারি রিসোর্টে বিক্ষোভকারীদের কবল থেকে বাঁচাতে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করতে হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে ডোনা? ট্রাম্পের ব্রিটেন সফরকে কোন সময়ই ব্রিটেনবাসী সহজে নেয়নি। ব্যাপক বিতর্কেও মুখে এর আগে একবার ট্রাম্পের এদেশে নির্ধারিত সফর বাতিল হবার ঘটনাও ঘটেছে।
পার্লামেন্টের আঙ্গিনায় গত শুক্রবার ট্রাম্পের প্রতিকৃতিসদৃশ বিশাল ‘শিশু বেলুন’ উড়িয়ে আসলে ট্রাম্পের প্রতি ব্রিটেনের মানুষ তাদের তীব্র অনাস্থা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্য সফরে আসা কোনো বিদেশি নেতার বিরুদ্ধে এমন তীব্র জন-বিক্ষোভের ঘটনা বিরল।
ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিশেবে যা করছেন তাতেই শুধু মানুষ তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত নন। ট্রাম্পের নেওয়া কিছু কিছু ঘৃণ্য পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ এবং রীতিমতো অস্থিরতা তৈরী করেছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ অবৈধপ্রবেশকারীদের শাস্তি দিতে হাজার হাজার শিশুকে মা-বাবার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে খাঁচায় পুরে রাখার অমানবিক আচরণের ঘটনা উল্লেখ করা যায়।  
ট্রাম্পের ব্যাপারে মানুষের নেতিবাচক অনুভূতি শুধু তাঁর ‘বর্ণবাদীতা’র জন্যই নয়। বরং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন-আচরণ থেকে শুরু করে অন্যদেশের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময় একট যুদ্ধংদেহী মনোভাব আর কাজকর্মে অপরিপক্কতার প্রকাশই তাঁর বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষিপ্ত করে রেখেছে। এমন অস্থির এবং অবিবেচক ব্যক্তিকে মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে নারাজ।
এদেশে সফরকালে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয় ব্রেক্সিট আর ইউ নিয়ে প্রকাশিত তাঁর বেফাঁস মন্তব্য হৈচৈ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবার। ডোনা? ট্রাম্প আবারও লন্ডন মেয়র সাদিক খানকে অযাচিত আক্রমণ করেছেন। লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলা এবং অপরাধ সংঘটনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, মেয়র সাদেক খান বেশ ‘বাজে কাজ’ করছেন। তাঁর এই মন্তব্য যে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক এটি বুঝতে কারো কষ্ট হবার কথা নয়। কারণ বিশ্বের আরও অনেক শহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। লেবার এমপি ডেভিড লামি তো ট্রাম্পকে ‘বর্ণবাদী’ আখ্যায়িত করে বলেই দিয়েছেন, ‘লন্ডনবাসী একজন মুসলিমকে মেয়র নির্বাচিত করেছে, এটি ট্রাম্প মেনে নিতে পারছেন না।’
আমরা মনে করি, শুধু ইমিগ্রেন্ট-বিরোধী কঠোর পলিসি গ্রহণই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বব্যাপী অজনপ্রিয় হবার একমাত্র কারণ নয়। ট্রাম্প যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁর আচরণ গ্রহণযোগ্য করে তুলবেন আর অন্যের প্রতি সম্মানজনক প্রদর্শন করে কথা বলতে পারবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা অর্জনে সফল হতে পারবেন না। বরং?সর্বত্রই সাধারণ মানুষের নজিরবিহীন বিক্ষোভ আর ঘৃণা তাকে মোকাবেলা করেই তাকে পথ চলবে হবে।