Share |

বিসিএর সেমিনার : এমপিদের বক্তব্যে হতাশ বিসিএ নেতৃবৃন্দ

লন্ডন, ১৬ জুলাই : রেস্টুরেন্টখাতে কর্মী সংকট সমাধান এবং এ সংকট সমাধানে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার দাবি জানিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভের পাশাপাশি এমপিদের নিয়ে সেমিনার করেছে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ)। ১০ জুলাই তারা এই কর্মসূচি পালন করে।
তবে উপস্থিত এমপিদের বক্তব্যে হতাশ হয়েছেন বিসিএ নেতারা।  কারণ স্টাফ সংকটের ক্ষেত্রে ভিসা প্রাপ্তির অভিযোগকে বড় সমস্যা হিসেবে মনে করেননি উপস্থিত এমপিরা।  
তারা ব্রিটেন থেকেই কর্মী সংকটের সমাধান খুঁজার পরামর্শ দিয়েছেন। এমপিরা বলেন, ব্রিটিশ লেবার স্ট্যান্ডার্ডস মেনে এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয়ভাবেব কর্মী তৈরির মাধ্যমে সংকটের সমাধান বের করতে হবে। তাছাড়া অব্যাহতভাবে লবিংয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন অনেকে। হাউজ অব কমন্সে আয়োজিত সেমিনারের সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী ও সরকার দলীয় এমপি স্যার মাইক পেনিং একটু কড়া ভাষায় বলেন, স্টাফ সংকট সমাধানে শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকে লোক এনে এর সমাধান সম্ভব নয়। ব্রিটেন থেকেই এর সমাধান করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দেশ থেকে স্টাফ আনার অনুমতি কোন সরকার কোন দল দিতে পারবে না। তিনি নিজেকে কারী লাভার উল্লেখ করে বলেন, বিক্ষোভ, সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার রয়েছে। কারী শিল্পের সমস্যা সমাধানে কারি কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ সরকারের গৃহিত নানান প্রদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।  
সভায় উপস্থিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলীও বেশ কড়া বক্তব্য দেন। তিনি ব্রেক্সিটপন্থী সাবেক এক মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা ব্রেক্সিট ভোটের সময় বলেছিল ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ করলে স্টাফ আনা যাবে, তারা মিথ্যা বলেছিল। তারা এখন কোথায়? তিনি বলেন, ভিসা দেয়া হয় অভিজ্ঞতার আলোকে।
তিনি বিসিএ নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, স্টাফ সংকট সমাধানে আপনার অনেক কাজ করেছেন, লবিং করছেন। পাশাপাশি আপনাদের স্টাফদের ক্ষেত্রে শ্রম আইন মেনে চলতে হবে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কর্মী সংকটের ক্ষেত্রে ভিসা প্রধান সমস্যা নয় উল্লেখ করে রুশনারা বলেন, স্থানীয়ভাবে কর্মী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দেয়ার আহবান জানান তিনি। রুশনারা বলেন, আপনারাই ব্রিটেনে কারী শিল্প গড়ে তুলেছেন। এই শিল্প প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন পাউন্ড ট্যাক্স দিচ্ছে। আমরা ক্রস পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের সাথে কাজ করে যাব।
অন্যান্য এমপিরা বলেন, স্টাফ সংকট শুধুমাত্র রেস্টুরেন্ট সেক্রেটরে নয়, হাইস্ট্রিট ব্যবসায়ও এর প্রভাব পড়েছে। তারা এ সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি কামাল ইয়াকুবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অলি খানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন স্টিপেন টিমস এমপি, ডেম রসিই এমপি, নিকি মরগান এমপি, এ্যান মেইন এমপি, ক্যারেন বাক এমপি, নিয়া গ্রিফত এমপি, সিমস মালমুত্রা এমপি, মাইক গ্যাপ এমপি, পল স্কালি এমপি, ব্যারনেস পলামঞ্জিলা উদ্দিন।
আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মুমিন। বিসিএ নেতা পারভেজ আহমেদ ও এনামুল হক চৌধুরী প্রমুখ।  
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে রেস্তোরা ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। তারা পার্লামেন্টের সমানে থেকে র‌্যালি করে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যান। সেখানে বেশ কিছুক্ষন অবস্থান করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, প্রায় এক যুগ আগে সরকার কর্তৃক দক্ষ জনশক্তি বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় বর্তমানে ব্রিটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রি চরম দুর্যোগময় সময় অতিবাহিত করছে।
বিসিএর প্রেসিডেন্ট কামাল ইয়াকুব বলেন, কারী শিল্পের জনবল সংকটের প্রেক্ষিতে আমরা যুক্তরাজ্য সরকারকে তাদের ইমিগ্রেশন পলিসি পুণবিবেচনার দাবি জানাচ্ছি। সরকারের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির কারনে বর্তমানে ক্যাটারিং খাতে দক্ষ জনবলের চরম শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষ শেফ তৈরী না হওয়ায় এক সময়ের বিকশিত কারি শিল্প এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ শিল্পের ধারাবাহিক বিকাশ চরমভাবে বাধগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে এদেশে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ টি রেস্টুরেন্ট শুধুমাত্র জনবল সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইউকে বর্ডার এজেন্সি (ইকেবিএ) কর্তৃক রেস্টুরেন্টগুলোতে কঠোর অভিযান এবং অবৈধ শ্রমিকের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জরিমানার বিধান কার্যকর করার কারণে বিরাজমান বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেস্টুরেন্ট মালিকদেরকে বিনিয়োগ থেকে নিরুৎসাহিত করছে। বৃটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ শেফের সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বৈধ কাগজপত্রবিহীন কর্মীদেরকে প্রয়োজনে এড-হক ভিত্তিতে বৈধতা প্রদান করার দাবী জানান।