Share |

ট্রাম্পকে তীব্র ঘৃণা জানালো যুক্তরাজ্যের মানুষ

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৬ জুলাই : যুক্তরাজ্য সফলে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত এই প্রেসিডেন্ট। লন্ডনে হাজার হাজার মানুষ ট্রাম্পের সফরের বিরোধীতা করে বিক্ষোভ করে। তাঁর নারী বিদ্বেষী, বর্ণবাদী, এবং মানবতাবিরোধী কর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। স্কটল্যান্ডে গিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন  ট্রাম্প। এডিনবারায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে সামিল হয়। স্কটল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা ট্রার্নব্যারি রিসোর্টে শুক্রবার ও শনিবার অবস্থান করেন ট্রাম্প। সেখানে বিক্ষোভকারীদের কবল থেকে বাঁচাতে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করতে হয়েছে। প্যারাগলিডারে (মানুষের উড়ার বিশেষ যান) করে এক বিক্ষোভকারী তাঁর হোটেলের ওপর দিয়ে বিশাল ব্যানার নিয়ে উঠে যায়। ওই ব্যানারে লেখা ট্রাম্প একজন বর্ণবাদী।
যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে হট্টগোল আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। ১২ জুলাই বৃহস্পতিবার লন্ডনে পৌঁছেই রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভোজ সভায় অংশ নেন ডোনা? ট্রাম্প। অভিজাত ওই ভোজসভার আনন্দঘন পরিবেশে অতিথিরা যখন মশগুল, তখনই খবর বের হয়- ডোনা? ট্রাম্প বলেছেন, ব্রেক্সিট (ইউরোপিয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তাঁর কথা শুনেননি। থেরেসার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘনিষ্ঠতার সম্ভাবনাকে শেষ করে দেবে।
যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয়ার আগে দেশটির ‘দ্য সান’ পত্রিকাকে ব্রাসেলসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতেই ট্রাম্পের ওই সাক্ষাৎকার অনলাইনে প্রকাশ করে দ্য সান।
সাক্ষাৎকারে ডোনা? ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের সদ্য পদত্যাগী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনকে বেশ পছন্দ করেন। বরিস প্রধানমন্ত্রী হলে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের কাজটি ভাল করতে পারতো।
কাকতালীয়ভাবে ডোনা? ট্রাম্পের আগমনের দিনই ইইউ’র সঙ্গে ব্রেক্সিট-উত্তর সম্পর্কের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনাকে ঘিরে দেশটির সরকারে চরম অস্থিরতা চলছে। ব্রেক্সিট-বিষয়কমন্ত্রী ডেভিড ডেভিস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনসহ পাঁচজন পদত্যাগ করেন। এমন উত্তাপের মধ্যে ডোনা? ট্রাম্পের ওইসব মন্তব্য তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিকদের অনেকেই ট্রাম্প সীমা লঙ্ঘণ করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ব্রেক্সিটপন্থী কয়েকজন এমপি ট্রাম্পের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। আর কোনো ধরণের মন্তব্য থেকে নিরব থেকেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।   
সাক্ষাৎকারে ডোনা? ট্রাম্প আবারও লন্ডন মেয়র সাদিক খানকে অযাচিত ও বিদ্বেমূলক আক্রমন করেছেন। লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলা এবং অপরাধ সংগঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মেয়র সাদেক খান বেশ ‘বাজে কাজ’ করছেন।
ট্রাম্প এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে বসেই সাদেক খানের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু সাদেক খান সেসবে খুব একটা পাত্তা দেননি। কিন্তু আজ শুক্রবার সাদেক খান ট্রাম্পের প্রতি পা?া প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের উচিত তাঁর পেছনে কেন লাগলেন সেটি ব্যাখা করা। কারণ বিশ্বের আরও অনেক শহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ট্রাম্প সেসব নিয়ে অন্য কোনো মেয়র বা নেতাকে এককভাবে দায়ী করেননি, যেটি সাদেক খানের বেলায় বার বার করছেন।
লেবার দলের আরেক এমপি ডেভিড লামি ট্রাম্পকে সরাসরি একজন ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ট্রাম্প সাদেক খানের পিছে লেগে থাকার কারণ হলো- ‘লন্ডনবাসী একজন মুসলিমকে মেয়র নির্বাচিত করেছে, এটি ট্রাম্প মেনে নিতে পারছেন না।’
এদিকে ডোনা? ট্রাম্পের আগমন ঘিরে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বিক্ষোভের আকার শুক্রবার আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। ট্রাম্পের প্রতিকৃতি সদৃশ বিশাল ‘শিশু বেলুন’টি (বেবি ব্লিম) এদিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আঙ্গিনায় উড়ানো হয়। ওয়েস্টমিন্সটার, ট্রাফালগার স্কয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে সামিল হয়। তাঁরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী বিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও মানবতাবিরোধী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান। যুক্তরাজ্য সফরে আসা কোনো বিদেশি নেতার বিরুদ্ধে এমন তীব্র বিক্ষোভের ঘটনা বিরল।
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার নেয়া দ্যা সান’র সাংবাদিক টম নউটন ডুন বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাজ্যের মানুষ তাঁকে নিয়ে যা ভাবছেন সে সম্পর্কে অবগত আছেন ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে বলে মনে হয়েছে তাঁর।
শুক্রবার রানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েও নানা কাণ্ড ঘটান ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট বিলম্বে পৌছান তিনি। এ সময় ৯২ বছর বয়সী রানীকে ঠায় দাড়িয়ে থাকতে হয়। এরপর ‘গার্ড অব অনার’ পরিদর্শন করতে গিয়ে রানিকে পেছনে ফেলেই হাঁটতে থাকেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এসব আচরণ তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে