Share |

ব্রেক্সিট তবে নামমাত্রই হবে!

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৬ জুলাই : যে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ঘিরে যুক্তরাজ্য সরকারে তুলকালাম কাণ্ড, সেটি অবশেষে প্রকাশ করা হয়েছে। নবনিযুক্ত ব্রেক্সিট-বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক রাব বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সংসদে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্কের শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার) উপস্থাপন করেন। এ সময় সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
সরকারের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বিচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দক্ষ কর্মীদের (স্কিলড ওয়ার্কার) যুক্তরাজ্য ও ইইউতে অবাধে আদান-প্রদানের সুযোগ পাবে। ভ্রমণ ও স্বল্পকালীন (টেমপোরারি) কাজের জন্য ইইউ নাগরিকদের যুক্তরাজ্য আগমনে কোনো ভিসা লাগবে না। ইইউ নাগরিকেরা অবাধে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য আসতে পারবেন।
এসব অঙ্গীকার যুক্ত করার পাশাপাশি শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সময় শেষ  হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইইউ নাগরিকদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও ইইউ নাগরিকদের সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে। পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে একই আইন মেনে চলার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে পরিকল্পনায়। ইইউ-বহির্ভূত দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ইইউর পক্ষে শুল্ক আদায়ের কাজও করবে।  
ডোমিনিক রাব বলেন, যুক্তরাজ্যের তরফ থেকে এই প্রস্তাবের পর ইইউর উচিত একটি কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষরে এগিয়ে আসা। নতুন ব্রেক্সিট মন্ত্রী আগামী সপ্তাহে এই প্রস্তাব ইইউর প্রতিনিধি মিশেল বার্নিয়ের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান। ব্রেক্সিটপন্থী এমপিরা সরকারের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এ পরিকল্পনা কার্যত ইইউ নাগরিকদের অবাধ প্রবেশাধিকারকেই উন্মুক্ত রাখবে। গত ৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ বৈঠকে ইইউর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্য নতুন এই প্রস্তাব তৈরি করেন। এটি ব্রেক্সিট কার্যকর করার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
সরকারের এমন প্রস্তাবের সমালোচনা করে ইইউর সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্রেক্সিট-বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস পদত্যাগ করেন ৭ জুলাই শনিবার। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিট-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিভ বেকার এবং ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির দুই ভাইস চেয়ার বেন ব্রাডলি ও মারিয়া কলফিল্ড।
নবনিযুক্ত ব্রেক্সিট-বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক রাব যখন ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্কের রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে এমপিদের সামনে তুলে ধরছিলেন, তখন সংসদে বেশ হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের ব্রেক্সিটপন্থী এমপিরা চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান। ব্রেক্সিটের শ্বেতপত্র সকাল নয়টা নাগাদ গণমাধ্যমের হাতে চলে গেলেও এমপিদের হাতে না পৌঁছায় তুমুল সমালোচনার শিকার হন ডোমিনিক রাব। শেষ পর্যন্ত অধিবেশন পাঁচ মিনিট মুলতবি রেখে এমপিদের হাতে শ্বেতপত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
পদত্যাগী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন সরকারের পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ব্রেক্সিটের স্বপ্ন নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে।’ ইইউর আইন মেনে চলার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে একটি উপনিবেশে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন বরিস জনসন। ক্ষমতাসীন দলের ব্রেক্সিটপন্থী এমপিদের সংগঠন ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপের সভাপতি জেকব রিস মগ সরকারি প্রস্তাবের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের মানুষ এমন ব্রেক্সিটের জন্য ভোট দেয়নি। তিনি সরকারের এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করবেন না বলেও জানিয়ে দেন।
সরকারের এমন পরিকল্পনার প্রতিবাদে আরও পদত্যাগের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে কাজ না হলে সরকারি দলের ব্রেক্সিটপন্থী এমপিরা থেরেসা মের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলেও আভাস দিয়েছেন।