Share |

আদালত চত্বরেও ছাত্রলীগের হামলা

কুষ্টিয়ায় একটি মামলায় জামিন নিতে গিয়ে গত রোববার ছাত্রলীগ কর্মীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান হামলায় তাঁর মাথা মুখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে 

মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দেশের আইন মোতাবেক দায়ের করা একটি মানহানি মামলা চলছে তিনি দোষী না নির্দোষ সেটি নির্ধারণ করবে আদালত কিন্তু দেখা গেলো মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি আদালত থেকে আর অক্ষত বেরুতে পারলেন না হামলার ভয়ে আদালতের এজলাসে অবস্থান নিয়েও দুর্বৃত্তদের আক্রমণ থেকে তিনি রেহাই পেলেন না 

ছাত্রলীগ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ কারণটি সবার জানা তাদের মাস্তানী অবাক হওয়ার বিষয় নয় কিন্তু অবিশ্বাস্য হচ্ছে, ছাত্রলীগের এই অপরাধী কর্মকাণ্ডে দৃশ্যত রাষ্ট্রের পুলিশের সহযোগিতা কারণ, সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছেন তাকে আক্রমণের সময় সেখানে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দীন, আদালতের পরিদর্শক মনির উজজামানসহ বেশ কিছু পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল অথচ পুলিশ মাহমুদুর রহমানকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলার পরই তিনি সকালে জামিন হলেও বিকেল ৫টার দিকে তাঁর প্রাইভেট কারে উঠে রওনা হয়েছিলেন তাহলে পুলিশী নিরাপত্তার আশ্বাসটা কি তামাশায় পরিণত হলো না? এই তামাশার শিকার আজ মাহমুদুর রহমান হলেও কাল যে কে হবেন তা কি কেউ জোর দিয়ে বলতে পারে  

পত্রপত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাৃহমুদুর রহমান জামিন নিতে আসছেন এমন খবর পেয়ে আগে থেকে আদালত চত্বরে ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে আদালত চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলো বিষয়টি নিশ্চয়ই পুলিশ জানতো তাহলে তাদেও দায়িত্ব আর কর্তব্য পালনের বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো? পুুলিশ কী এভাবেই প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীর মদদদাতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে?

আমরা মনে করি, এই আক্রমণের ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে দায়িত্বপালনে থাকা পুলিশের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন না হলে এই নজীর আগামীতে সকলের জন্যই ভয়াবহ পরিনতি নিয়ে আসবে 

আক্রান্ত মাহমুদুর রহমান আদালতের ভেতর হামলার জন্য পুলিশকে দোষারোপ করে বলেছেন, ‘নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে পুলিশ আমাকে গুন্ডাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা হয়েছে এর জন্য একদিন তাদেরও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আগামীদিনের কথাটি সকলের মনে রাখাটা খুবই প্রয়োজন কারণ, আমরা শুধু আজকের জন্যই বেঁচে থাকি না