Share |

ব্রেক্সিট : নতুন গণভোটের সম্ভাবনা নেই

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ৩০ জুলাই : ব্রেক্সিট প্রশ্নে আর কোনো গণভোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ৩০ জুলাই সোমবার স্কাই নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে থেরেসা মে বলেন, ব্রেক্সিট প্রশ্নে আর কোনো গণভোট নয়।  
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতি বলা হয় যে, কোনো পরিস্থিতিতে ব্রেক্সিট প্রশ্নে নতুন করে গণভোটের সম্ভাবনা নেই। টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই সম্প্রতি একটি জনজরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ৫০ শতাংশ মানুষ চায় ব্রেক্সিট প্রশ্নে নতুন করে গণভোট হোক। ৪০ শতাংশ বলেছেন, তারা নতুন গণভোটের বিপক্ষে। ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা ব্রেক্সিট কার্যকর না হওয়াটাই ভাল হবে। আর ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা প্রয়োজনে কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট কার্যকর করার পক্ষে।  এই জনমত জরিপের সূত্র ধরে লেবার দলীয় রাজনীতিক লর্ড ম্যানডলসন স্কাই নিউজকে বলেন,  ব্রেক্সিট বিষয়ে চূড়ান্ত যে সমঝোতা হবে সেটির উপর অবশ্যই গণভোট হওয়া উচিত। এটাই সরকারের সামনে একমাত্র বিকল্প বলে তিনি মন্তব্য করেন।  
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই ব্রেক্সিট বিষয়ে আর কোনো নতুন গণভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।  এদিকে ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর পক্ষে সমঝোতাকারী মিশেল বার্নিয়া যুক্তরাজ্যের কাস্টমস ইউনিয়নে থাকার প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়েছেন। গত ২৬ জুলাই ব্রেক্সিট সেক্রেটারি ডোমিনিক রাবের সঙ্গে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বার্নিয়ে জানিয়ে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইইউর পক্ষে যুক্তরাজ্য কর আদায় করবে বলে যে প্রস্তাব  
যুক্ত করেছেন, তা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তৃতীয় কোনো দেশের কাছে ইইউ নিজের কর আদায়ের দায়িত্ব দেবে না।  ইইউর সঙ্গে ভবিষ্যত সম্পর্ক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সর্বশেষ একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেন। তাতে বলা হয় যে, যুক্তরাজ্য কাস্টমস ইউনিয়নের নিয়ম মেনে চলবে। এ যুক্তরাজ্যে সম্পাদিত বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইইউর পক্ষে শুল্ক আদায় করবে ব্রিটিশ সরকার।  
প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বোরোধিতা করে পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। এরা দুজন ব্রেক্সিটের পক্ষের লোক। তারা বলেছেন, থেরেমা মে যে প্রস্তাব ঠিক করেছেন, তা ইইউর কাছে মাথানত করার সামিল। এতে ব্রেক্সিটের প্রকৃত বাস্তবায়ন হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।  
২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটাররা ইইউ থেকে বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দেয়। সেই রায় কার্যকর করা নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা মতবিরোধ রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান। যেটাকে বলা হয় ইইউ সংবিধানের ‘আর্টিকেল ৫০’ সক্রিয় করা। এই আর্টিকেল সক্রিয় করার দুই বছরের মধ্যে বিচ্ছেদ সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অনুরোধে ইইউর বাকি ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে এই বিচ্ছেদের সময়সীমা বিলম্বিত করা সম্ভব।
বিচ্ছেদসংক্রান্ত দেনা-পাওনার বিষয়ে সমঝোতা অনেকটা শেষের পথে। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিয়েছে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক কী হবে, তা নিয়ে। কেননা, ইইউ জোট ত্যাগ করলেও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এই জোটের মধ্যকার শুল্কমুক্ত বাণিজ্য-সুবিধা ধরে রাখতে মরিয়া যুক্তরাজ্য। এই সুবিধা ধরে রাখার বিনিময়ে যুক্তরাজ্য কতটুকু ছাড় দেবে, তা নিয়ে থেরেসা মে সরকারের মধ্যে তুমুল মতবিরোধ রয়েছে।
ইইউ জোটের মূলনীতি হলো সদস্য দেশগুলোয় জোটের নাগরিকদের অবাধ বিচরণ, পূর্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, পণ্যসেবার শুল্কমুক্ত বাণিজ্য ও ইউরোপীয় আদালতের অধীনতা মেনে নেওয়া। এর একটি বাদ দিয়ে অন্যটি ধরে রাখার কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাজ্য ইইউ নাগরিকদের অবাধ বিচরণ চায় না। ইইউ আইনের অধীনতাও চায় না। কিন্তু পণ্য ও সেবার শুল্কমুক্ত বাণিজ্য-সুবিধা ধরে রাখতে চায়। এখানেই আসল বিপত্তি। কারণ, এই সুবিধা বন্ধ হলে যুক্তরাজ্যে দ্রব্যমূল্য বেশ বাড়বে। বিনিয়োগ কমে যাবে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অন্যত্র সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে দেশটির অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার ইইউ জোটভুক্ত স্বাধীন আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অংশ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও তৈরি হবে বিরাট জটিলতা। আইরিশ স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি অনুযায়ী এই সীমান্ত সব সময় উন্মুক্ত রাখবে বলে চুক্তিবদ্ধ যুক্তরাজ্য সরকার।