Share |

ন্যাক্কারজনক নির্বাচন

৩০ জুলাই : তিন সিটি নির্বাচনকে এক কথায় বলা চলে ন্যাক্কারজনক। ব্যালট বাক্স ছিনতাই, দরজা বন্ধ করে সিল মারা, বিরোধী দলীয় এজেন্টদের বের করে দেয়া,  ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দান, বিরোধী দলীয় কর্মীদের গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানি- হেন কোনো অনিয়ম নেই যা এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঘটেনি। বাংলাদেশে ভোটে অনিয়ম আগেও হয়েছে। কিন্তু এবারের মত এতটা জোর খাটানো নজিরবিহীন। অবাক করা ব্যপার হলো কোথাও কোথাও পুলিশি পাহারায় সন্ত্রাস চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা।  
বরিশালে সরকারী দলের দজর দখল এত বেপরোয়া ছিল যে, দুপুরের দিকেই বিরোধী দলের প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। রাজশাহীতে শত চেষ্টা করেও নির্বাচনী দৌড়ে শেষ পর্যন্ত নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।  সিলেটে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হকও নির্বাচন যাই হোক ফলাফল প্রত্যাখানের ঘোষণা দেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত দেখে যাবেন বলে জানিয়েছিলেন।  
বরিশাল ও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। সিলেটে ক্ষমতাসীনদের তুমুল জালভোট ও জবরদস্তি সত্ত্বেও আরিফুল হক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। আর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরান তাঁর নিজের কেন্দ্রেই হেরে গেছেন। রাজশাহীতে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৮ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৭৮ হাজার ৪৯২ ভোট। বরিশালে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮০৩ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ১৩ হাজার ৪১ ভোট।   ৩০ জুলাই সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত তিনটি শহরে সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হলো সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী। তিন সিটিতে একজন মেয়র, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও একজন সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেছে নিতে ভোটারেরা ভোট দিয়েছেন। তিন সিটিতে মোট ১৪টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে।  তিন সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার প্রায় ৯ লাখ। প্রাথমিক হিসেবে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়তে পারে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। বরিশালে বিএনপিসহ ৪ প্রার্থীর ভোট বর্জন:
নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপিসহ চারটি দলের মেয়র প্রার্থী। তাঁরা হলেন বিএনপির মজিবর রহমান সরওয়ার, ইসলামী আন্দোলনের ওবাইদুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মনীষা চক্রবর্তী ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ। সোমবার দুপুর ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে তাঁরা পৃথকভাবে এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার। তিনি বলেন, গাজীপুর ও খুলনায় ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হলেও বরিশালে ভোট শুরুই করা হয়নি। ৭০ থেকে ৮০টি কেন্দ্রে ভোট শুরু না হতেই ব্যালটে নৌকার সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি ও অন্য দলের কোনো প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা ন্যক্কারজনক- এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি চারবার সাংসদ ও একবার মেয়র ছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারের আমলেই এমন নজিরবিহীন ভোট আমরা দেখিনি। এমন প্রহসনের নির্বাচন না করে এমনিতেই ঘোষণা দিয়ে নিয়ে যেতে পারত সরকার।’ সরওয়ার বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, এখানে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় প্রার্থী, তাই সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আগের আশঙ্কাই আজ ঠিক হলো।’সংবাদ সম্মেলনে সরওয়ার নৌকা প্রতীকে সিল মারা ১০ থেকে ১২টি ব্যালট সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, সদর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে এভাবে ব্যালটে নৌকার সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের ওবাইদুর রহমান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মনীষা চক্রবর্তী সমর্থকদের নিয়ে ‘প্রহসনের নির্বাচন মানি না মানব না’, ‘ভোট চুরির নির্বাচন মানি না মানব না’- এমন বিভিন্ন সৌাগান দিয়ে বরিশাল সদর রোডে পৃথকভাবে মিছিল করেন। এ সময় মনীষা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, তিনি সদর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখেন। প্রতিবাদ করলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। অভিযোগ জানানোর পরও এই কেন্দ্রে নির্বাচন এখনো চলছে। এই কেন্দ্রের মতো সব কেন্দ্রেই নৌকায় সিল মারা হচ্ছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বেলা দেড়টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। এদিকে জাতীয় পার্টির প্রর্থী ইকবাল হোসেন ১২৩টি কেন্দ্রর সবগুলোতে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট স্থগিত করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।  
সিলেটের কেন্দ্রে কেন্দ্রে পা?াপা?ি ধাওয়া, একজন আটক
সিলেট সিটির ৮, ৯, ১৮ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ছয়টি কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রার্থীদের কর্মীদের মধ্যে মারামারি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পা?াপা?ি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।  মেয়র পদে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে ভোট বাতিলের লিখিত আবেদন করেন। এতে তিনি ৪১টি কেন্দ্রের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন। এর আগে নগরের কাজী জালালউদ্দিন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে নিজ কার্যালয়ে গিয়ে বলেন, এবার ভোট চুরির ঘটনা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এমনটা সিলেটে আগে কখনো হয়নি। মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে মেয়র পদে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী মো. আবু জাফর ‘নজিরবিহীন কারচুপির’ অভিযোগ এনে সব কেন্দ্রের ভোট বাতিলের আবেদন করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানের কাছে।
সিলেট নগরের পাঠানতুলায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শাহজালাল জামিয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ২৮০৩ (পুরুষ ও মহিলা), ২২০২ (পুরুষ), ১৯৮৬ (মহিলা) এই তিনটি কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে জাল ভোটের অভিযোগে মারপিট ও ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। পরে আওয়ামী লীগ-মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষেও ওই সব কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরুষ কেন্দ্রে (২২০২) আওয়ামী লীগ-সমর্থিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইলিয়াছুর রহমান (ঝুড়ি প্রতীক) ও জগদীশ চন্দ্র দাশের (ট্রাক্টর প্রতীক) কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে জাল ভোটের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রে ঢুকে যান। কেন্দ্রের ভেতরে তারা মারামারি শুরু করেন। কেন্দ্রের বাইরেও দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভোট বন্ধ থাকে।
পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। দুপুর ১২টার দিকে ভোট নেওয়া আবার শুরু হয়। মিনিট পাঁচেক ভোট চলার পর পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্রের (২৮০৩) ৭ নম্বর বুথে দরজা বন্ধ করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। টানা ১০ মিনিট জাল ভোটের পর পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। ওই সময় ভোট নেওয়া আবার বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুটা সমস্যা হয়েছে। সমাধানের চেষ্টা করছি।’ জাল ভোটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দেখছি।’
এ সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর কর্মীরা কেন্দ্রের বাইরে মিছিল করলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাঁদের ধাওয়া দেন। এরপর থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে পা?াপা?ি ধাওয়া চলতে থাকে।

৯, ১৮ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে হট্টগোল

সিলেট সিটির ৯, ১৮ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি ভোটকেন্দ্রে ভোট নেওয়ার সময় হট্টগোল হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী জালালউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় (উঁচা সড়ক) কেন্দ্রে ভোট নেওয়া এখন বন্ধ।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের পুরুষ বুথে বেলা পৌনে ১১টার দিকে জোর করে একদল যুবক ঢুকে পড়ে। আর নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শাহজালাল জামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের পা?াপা?ি ধাওয়া হয়েছে। কাজী জালালউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ৪০০-র মতো ভোট পড়ে। এরপরই একদল যুবক সেখানে ঢুকে জোর করে ব্যালটে সিল মারার চেষ্টা করে। তখন গোলযোগের শুরু। বাইরে পা?াপা?ি ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে সব দলের প্রার্থীদের এজেন্টরা বের হয়ে আসেন। নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই কেন্দ্রে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট চলছিল। কিন্তু বেলা পৌনে ১১টার দিকে একদল যুবক হঠাৎ করেই বিদ্যালয়ের তিনতলার একটি বুথে ঢুকে পড়ে। এটি পুরুষদের বুথ। কক্ষে ঢুকেই তারা জোর করে সিল মারার চেষ্টা করছিল। এসব যুবকের কাছে ভোটের কোনো নম্বর ছিল না। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম তাঁদের বাইরে থাকার জন্য নির্দেশ দেন। তখন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বুথ থেকে তিনজনকে ধরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে নিয়ে আসে পুলিশ। বুথ দখলের সময় কেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত নয়টি বুথে ৪৯৪ ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এ কেন্দ্রে যেসব যুবক ঢুকে পড়েছিলেন, তাঁদের বুকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নৌকা প্রতীকের ব্যাজ ছিল।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল এ কেন্দ্রের পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে শাহজালাল জামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের পা?াপা?ি ধাওয়া হয়। এ সময় কেন্দ্রে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ভোট দিয়ে বললেন অর্থমন্ত্রী
‘বিএনপির আসলে কোনো লোকজনই নেই’
সিলেটের সিটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ করেছেন। সিলেট নগরে নিজের বাড়ির কাছে দুর্গাকুমার পাঠশালা কেন্দ্রে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আসেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ভোট দেওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। নির্বাচনে ভোট নেওয়া শুরুর পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোট সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগও করেন আরিফুল।
বিএনপি প্রার্থীর এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘বিএনপির আসলে কোনো লোকজনই নেই। সেই জন্য তারা এজেন্ট পায়নি। এখন মিথ্যাচার করছে।’
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকাজুড়ে জাতীয় সংসদের সিলেট-১ আসন। এ আসনের সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী। আজ ভোট দিতে এসে তিনি এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়েও কথা বলেন। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমি যদি প্রার্থী না হই, দল আমার ছোট ভাই এ কে আবদুল মোমেনকে প্রার্থী করতে পারে।’ অর্থমন্ত্রীর ছোট ভাই এ কে আবদুল মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি। দুই ভাই একসঙ্গে গিয়ে ভোট দেন।
অর্থমন্ত্রী অবশ্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা সরাসরি বলেও দেন। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে ভোট দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর কেন্দ্রটি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল বাকেরকে তিনি ভোট দেন বলে জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাকের ভালো ছেলে।’
‘রাজশাহীতে বিএনপির ২৪ এজেন্ট নিখোঁজ’
বিএনপির চব্বিশ জন পোলিং এজেন্টকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের এতথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি দুপুরে নির্বাচন কমিশনে আবারো অভিযোগ দিতে গিয়ে একথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে বিএনপি আন্দোল হিসেবে দেখছে। সোমবার বিএনপির নেতাকর্মীদের কাফনের কাপড় মাথায় বেধে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বিএনপি প্রস্তুত।
পুলিশের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও নৌকার সমর্থকরা
সিলেট সিটির শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কেন্দ্র থেকে সাংবাদিকদের বের করে দিয়েছে পুলিশ। বিএনপির অভিযোগ, কেন্দ্রের বাইরে মহড়া দিচ্ছে নৌকার সমর্থকরা। আর ভেতরে বুথ দখল করে জাল ভোট দিচ্ছে নৌকা সমর্থকরা। এ খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদক জাল ভোটের ছবি তুললে ছাত্রলীগ কর্মীরা বাধা দেয়। তারা ক্যামেরা থেকে ছবি মুছে দিতে বলে। অন্যথায় মারধরের ভয় দেখায়। পুলিশের এসআই রহমতউল্লাহর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত সাংবাদিকদের বের করে দেয়। সকাল এগারোটা থেকে ওই কেন্দ্রে একরকম অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।