Share |

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল দেশ : মারমুখী অবস্থানে সরকার : পুলিশ-সন্ত্রাসী ভাই ভাই

লন্ডন, ০৬ আগস্ট : নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ০৬ আগস্ট সোমবার ৮ম দিন পার করেছে। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দমাতে সরকারের কঠোর নীতি পরিস্থিতিকে করে তুলেছে সংঘাতপূর্ণ। সোমবার ৮ম দিনে বসুন্ধরা ও ধানমন্ডী এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে উঠে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এসব এলাকা। হাজার হাজার শিক্ষার্থী সরকারের দমনের মুখে তাদের দাবি আদায়ে অটল থাকে।  
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার নিয়ে ইতিপূর্বে যে প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করেছেন, চলমান পরিস্থিতিতে তার খেসারত হিসেবে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লষকরা। তাঁরা বলছেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে দাবি মেনে নিয়েছেন বলে ঘোষণা দেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন সরকারী চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা থাকবে না। কিন্তু মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। উলটো কিছুদিন আগে তিনি সেই একই সংসদে দাড়িয়ে বলেছেন, আন্দোলন দমাতে নাকি তিনি ওই কথা বলেছিলেন।  
এখন আন্দোলনরত কিশোর-কিশোরীরা বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কথায় তাদের কোনো আস্থা নেই। তিনি এবারও দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে একই রকম প্রতারণা করবেন বলে মনে করে শিক্ষার্থীরা। যে কারণে দাবির বাস্তবায়ন ছাড়া তারা ঘরে ফিরে যেতে চায় না।  
এদিকে চলমাল শিক্ষার্থী আন্দোলন উন্নয়নের মোড়কে মোড়ানো বাংলাদেশের কুতসিত চেহারা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। রাস্তায় গাড়ির লাইসেন্স চেক করে শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে, দেশের মন্ত্রী, এমপি, পুলিশ, বিচারক কিংবা সরকারের বড় বড় কর্মকর্তা-কেউ ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না। তাদের কারো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, কারও লাইসেন্সের মেয়াদ নেই, পুলিশ হেলমেট ছাড়াই   মোটরসাইকেল চালাচ্ছে, কিংবা মন্ত্রী যাচ্ছে উলটা পথ দিয়ে। এসব কিছু সরকারের আসল চেহারাকে বিশ্বের কাছে খুলে দিয়েছে। যে কারণে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়েছে বলে ঘোষণা দেন মন্ত্রীরা। অথচ শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি নৌ মন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগ। কিন্তু এখনো বহাল তবিয়তেই মন্ত্রীত্বে আছেন শাজাহান খান। ঘোষণা দিয়েছেন পদত্যাগ করবেন না।  
কথিত ভাবমূর্তি রক্ষায় মরিয়া সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন শনিবারের (৪ আগস্ট) মধ্যে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন না থামালে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। মন্ত্রী যেই কথা সেই কাজ। শনিবার থেকে আন্দোলন দমাতে মারমুখী পুলিশ। তাদের সাথে আছে হেলমেট পড়া ও মুখোশধারী একদল সন্ত্রাসী। মুখোশধারীরা ছাত্রলীগ, যুবলীগের এবং আওয়ামী লীগের লোক বলে বিভিন্ন তরফে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু সরকার বিষয়টি স্বীকার করছে না। অথচ পুলিশের সাথে কাঁথে কাঁথ মিলিয়ে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের ওপর নির্মম হামলা চালাচ্ছে এসব মুখোশধারী। এসব হামলার খবর যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারও সীমিত করে দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ যায় শিক্ষার্থীদের হাতে। আন্দোলন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।  
  ধানমন্ডিতে হামলায় ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতাকর্মী
 রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় গতকাল রোববার শিক্ষার্থীদের বিশাল জমায়েতে এলোপাতাড়ি হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এই হামলা চালানো হয় পুলিশি পাহারায়। পুলিশ পেছন থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। আর সামনে এগিয়ে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পেটান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁদের হাতে ছিল লাঠি-রড-রামদা-চ্যালা কাঠ। পরিচয় লুকাতে মাথায় ছিল হেলমেট।
শিক্ষার্থী ছাড়াও কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরও খুঁজে খুঁজে নির্মমভাবে পেটান তাঁরা। এমনকি নারী চিকিৎসক, বৃদ্ধ পথচারীও রেহাই পাননি। বিভিন্ন ভবনের ওপর বা ভেতর থেকে যাঁরাই মুঠোফোনে হামলাকারীদের ছবি তুলেছেন, দেখামাত্র তাঁরাও মারধরের শিকার হয়েছেন।  
রোববার ধানমন্ডি এলাকায় পুলিশের পাহারায় করা এই হামলায় অংশ নেন ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। এতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই নিয়ে গত দুই দিনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের হামলায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আহত হলেন।  
হামলা ছিল পরিকল্পিত
পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সামাল দিতে কী করণীয়, তা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজেনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়। এরপরই শনিবার পুলিশের উপস্থিতিতে ধানমন্ডি এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করে। যদিও একটি গুজবকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে গত শনিবারের হামলার সময় পুলিশ সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকলেও রোববার তাঁরা ছাত্রলীগের সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হন।
এভাবে পুলিশি পাহারায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগে দুপুরে গুলিচ্চান জিরো পয়েন্টে ট্রাফিক সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বর্তমান পরিস্থিতি ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।
ধানমন্ডি যখন রণক্ষেত্র, তখন ধানমন্ডি ৩ নম্বরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান অবস্থান করছিলেন। বেশ কিছু নেতা-কর্মী ছিলেন কার্যালয়ের বাইরে। ঢাকার মতো গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানেও ছিল প্রায় একই চিত্র। নিরাপদ সড়কের জন্য ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ, মানববন্ধন করেছেন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুরের শিক্ষার্থীরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। এদিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়।   
বসুন্ধরা আবাসিকে দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) কাছে ৬ আগস্ট সোমবার সকাল থেকে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলে। এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘিরে ও আবাসিক এলাকার ভেতরে আজ দিনভর অন্তত ১২ বার পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ এ সময় কয়েক শ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে, রাবার বুলেটও ছুড়েছে অনেক।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলছেন, দিনভর সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রাত ৮টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সাজোঁয়া যান এনে রাখা হয়।
বিকেলে আন্দোলনকারীরা যমুনা ফিউচার পার্কের  পেছনের ফটকের কাছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঢোকার মুখ থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে যাওয়ার রাচ্চায় ও বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৪০০ জনের মতো। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন ৪০ বা এর বেশি বয়সের কিছু ব্যক্তি। পুলিশ মাঝেমধ্যে গিয়ে সেখানে তাঁদের ধাওয়া দিলে এসব আন্দোলনকারী দৌড়ে বিভিন্ন গলিতে পালিয়ে যান। আবার পুলিশ চলে গেলে তাঁরা ফিরে আসছেন। হাতে লাঠি, রড এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে টহল দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। বিকেলে দুটি ক্যাম্পাসের ঢোকার গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।  
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ
স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো এবং উপস্থিতির তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নির্দেশ দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সার্বিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান সচিব।  
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এটা সাময়িক হলেও গুণগত শিক্ষার জন্য তাঁরা এটাকে স্থায়ী করতে চান।  
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি রাখা হয়েছিল।  
ইস্ট ওয়েস্টের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
রাজধানী ঢাকার আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ পাঁচটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে শিক্ষার্থীরা আফতাবনগরে জহুরুল ইসলাম সিটিতে ঢোকেন। পুলিশও তাঁদের ধাওয়া দেয়। এর আগে সকালে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে গেটের সামনে ও রাস্তায় অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছোড়েন, পুলিশও তাঁদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এরপর শিক্ষার্থীরা জহুরুল ইসলাম সিটিতে ভেতরের দিকে অবস্থান নেয়।
 শাহবাগে শিক্ষার্থীদের মিছিলে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বের হওয়া একটি মিছিল শাহবাগ মোড়ে পৌঁছানোর আগেই পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। জলকামান ব্যবহার করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, আজ সোমবার বেলা ৩টার দিকে ৩০০-৪০০ শিক্ষার্থী একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। জলকামান দিয়ে পানি ছোড়ে। পরে লাঠিপেটা শুরু করে।
 পুলিশের সঙ্গে হেলমেট পরা যুবকরাও চড়াও
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মিছিলের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর জিগাতলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দেশি অস্ত্র নিয়ে হেলমেট পরা যুবকরা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাবরেটরি রোড, এলিফ্যান্ট রোডসহ ধানমণ্ডির বিভিন্ন এলাকা। মিছিলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই ছিলেন বেশি। দুপুর ২টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে পুলিশের সঙ্গে কয়েকশ’ যুবক যোগ দেয়। তাদের অনেকেই ছিল হেলমেট পরা। তাদের হাতে ছিল লাঠি, লোহার পাইপ, রড, রামদাসহ দেশি অস্ত্র। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এই যুবকরাও হামলা চালায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী যুবকদের হাত থেকে ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত সংবাদকর্মীরাও রেহাই  পাননি। তাদের হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বিকেল ৩টার দিকে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। এরপর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশের সঙ্গে দেশি অস্ত্র হাতে থাকা যুবকরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।  
মিরপুর এলাকা : পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও শ্রমিকদের কারণে মিরপুর এলাকায় নামতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। সকালে একদল শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান নিয়ে আগের দিনগুলোর মতো কার্যক্রম শুরু করলেও এক সময় পুলিশ, শ্রমিক ও সরকারি দলের দাপটে রাজপথ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
রোববার সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে অবস্থান নিতে থাকে সরকারি দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা। মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে সকাল ১০টা বাজার আগেই সমবেত হয় সরকারি দলের কয়েকশ’ নেতাকর্মী। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মিরপুর ১ নম্বর এবং ১০ নম্বর এলাকায়ও জমায়েত হতে থাকে। এ দুটি পয়েন্টেই গত কয়েকদিন শিক্ষার্থীদের অবস্থান ছিল বেশি। এসব সড়কে শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করলে বাধা দেন তারা। কয়েকজন অভিভাবককেও তারা বাচ্চাদের সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ, শ্রমিক এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একযোগে তাদের সরিয়ে দেয়।