Share |

ভিসা পাইয়ে দিতে জাল নথি তৈরি : ১০ জনের জেল

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৩ আগস্ট : বিদেশ থেকে স্বামী বা স্ত্রীকে ব্রিটেনে নিয়ে আসতে জাল কাগজ পত্র তৈরি করে সহায়তা করতো ১০ জনের এই চক্র। বিশেষ করে ভূয়া চাকরি দেখিয়ে বছরে ১৮ হাজার ৬শ পাউন্ড আয়ের শর্ত পূরণে সহায়তা  করতো। ধরা পড়ে গেছে এমন জালিয়াতি। এখন ১০ জনকেই জেলদণ্ড দিয়েছে আদালত।  গত ৩ আগস্ট শুক্রবার কার্ডিফ ক্রাউনকোর্ট তাদের সাজা ঘোষণা করে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ এবং ৩জন নারী রয়েছেন।
ব্রিটিশ নাগরিক বা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন রয়েছে এমন ব্যক্তিরা ইউরোপিয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে স্বামী বা স্ত্রীকে ব্রিটেনে আনার জন্য তাদের বছরে ১৮ হাজার ৬শ পাউন্ড আয় থাকতে হয়। এই আয়ের শর্ত পূরণে ভুয়া পে সিৗপ ও অর্থের লেনদেন দেখিয়ে সাহায্য করতো ওই চক্র। তারা কোনো কোনো ডকুমেন্ট তৈরির বিনিময়ে ৪ হাজার ৫শ পাউন্ড পর্যন্ত ফি নিত।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কার্ডিফ, নিউপোর্ট, ও মের্থর টিডফিল এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে দেনথ শর্মাকে (বয়স ৫৬ বছর) ৭ বছর ৭ মাস,  পিরুন শেখ (বয়স ৪২ বছর) ৪ বছর ৯ মাস, জাকিয়া বেগম (বয়স ২৬ বছর) ১৯ মাস, মোহাম্মদ জামান উদ্দিন (বয়স ৪১) ১৫ মাস, সুলেজা বেগম (বয়স ৫১ বছর), আবদুল মুকিথ (বয়স ৪৫ বছর) ২২ মাস, জগদীপ লন্ডা সিং (বয়স ৩১ বছর) ২১ মাস, সারা ব্রিন্ডল (বয়স ২৫ বছর)  দুই বছর, আব্দুল শিফার (বয়স ৪৩ বছর) চার বছর এবং ৩১ বছর বয়সী সন্দ্বীপ কুমারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।   ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা নিক জাম্প তাদের কে ‘অর্গানাইজড ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বলে অভিহিত করেন।
ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ক্রিমিনাল এন্ড ফাইন্যান্সশিয়াল ইনভেস্টিগেশন টিম দুই বছর তদন্তের পর এই চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করে। আদালতের শুনানীতে বলা হয়, এই জাল নথিপত্র তারা সাড়ে ৪হাজার পাউন্ড পর্যন্ত করে বিক্রি করেন। এতে জানানো হয় এই চক্রের লিডার দত্ত সরমা (৫৬) একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে স্পন্সরদের মাসিক বেতনের বড় একটি অংশ রাখতে বলেন। পরবর্তীতে তাদের ভিসা হলে ফি বাদে তাদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে বলা হয়।
২০১৩ সালে সারমাকে আন্ডারকাভার জয়েন্ট পুলিশ অফিসাররা জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা তার ফোনের কিছু ম্যাসেজের সূত্র ধরে আগায় এবং ২০১৬ সালে পুরো গ্যাং সদস্যদের আটক করে।