Share |

পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

মুসলমানের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ অন্যতম। প্রতি বছর আরবি বর্ষক্রমের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে থাকে। ঈদুল আজহা নিছক কোনো আনন্দ উৎসব নয়- তা আত্মত্যাগের উৎসব।   ২১ আগস্ট মঙ্গলবার ব্রিটেনের মুসলমানরা পালন করবেন পবিত্র ঈদুল আজহা। এছাড়া এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানরা উদযাপন করবেন মহান এ দিনটি।  
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য বছরের তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি হচ্ছে এই ঈদুল আজহা। একে কোরবানীর ঈদ নামেও অভিহিত করা হয়। কোরবানীর ঈদের সাথে জড়িয়ে আছে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের চতুর্থ পবিত্র হজ।  
হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হজের জন্য নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ৮ থেকে ১৩ জিলহজ্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র ঘর ক্বাবা এবং মক্কা ও মদীনার কয়েকটি বিশেষ স্থানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) নির্দেশ অনুযায়ী জিয়ারত, তাওয়াফ, অবস্থান করা এবং নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানাদি পালন করাই হজ।  
হজ দৈহিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে অথচ হজ আদায় করেন না, তার জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি। এই হজ আদায় করতে এখন পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থান করছেন বিশ্বের নানা দেশ থেকে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষ।
হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি হজ সম্পন্ন করল, সে যেন মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের মতো নি?াপ হলো।’  হজের অনেকগুলোর একটি আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে কোরবানী। আর এর সাথে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্যাগের উজ্জল নিদর্শন। মহান আল্লাহর আদেশে তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানী দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে প্রাণে রক্ষা করেও মহান আল্লাহ হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর সর্বাত্মক সমর্পণ কবুল করেছিলেন। এটি ছিলো হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর জন্য তাকওয়ার পরীক্ষা। তাঁকে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে মহান আল্লাহ এ ঘটনাকে মানবজাতির জন্য এক উদাহরণ হিশেবে হাজির করে দিলেন।
কোরবানীর মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহ দেখতে চান তাঁর বান্দা তার নামে পার্থিব দুনিয়ার কতটুক উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্মমতে, কোরবানীর রক্তমাংশ কিছূই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং জবাইয়ের পর পশুর রক্ত প্রবাহিত হওয়ার আগেই বান্দার কোরবানী তাঁর নিকট পৌঁছে যায়। অর্থাৎ কোরবানীর একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে - মহান আল্লাহর কাছে বান্দার আত্মসমর্পণ, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ। সুখী সুন্দর মানবসমাজ গড়ে তুলতে যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার প্রয়োজন, তা উপলব্ধি করা ও নিজেকে তৈরি করার শিক্ষা দেয় ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহতায়লা সবাইকে সেই তাক্বওয়া অর্জনের তওফিক দিন। সবার জন্য এই ঈদ নিয়ে আসুক অনাবিল আনন্দ। ঈদ মোবারক।