Share |

ওয়েস্টমিন্সটারের ঘটনা সন্ত্রাসী হামলা নয়

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৯ আগস্ট : ওয়েস্টমিন্সটারে পথচারীদের ওপর যে গাড়ি তুলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেটিকে সন্ত্রাসী কাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে এটেম্প টু মার্ডারের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯ আগস্ট সোমবার ওই চালককে ওয়েস্টমিন্সটার মেজিট্রেট কোর্টে  তোলা হয়।  
গত ১৪ আগস্ট মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পার্লামেন্টের বাইরে পথচারীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দিলে তিনজন আহত হয়। সিলভার রঙের ফোর্ড ফিয়েস্তা গাড়িটি পার্লামেন্টের নিরাপত্তা বেষ্টনিতে বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই ওই গাড়ি থেকে আটক হন চালক। চালক গাড়িতে একা ছিলেন। গাড়িতে কোনো অস্ত্র বা বিষ্ফোরক পাওয়া যায়নি।  
পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক ওই চালকের নাম সালি খাতের। বয়স ২৯। তিনি সুদানের বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। ওই ঘটনার সাথে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক আছে কি-না তা অনুসন্ধানে মঙ্গলবার রাতে বার্মিংহাম এবং নটিংহামের কয়েকটি ঠিকানায় অভিযান চালায় পুলিশ।   যুক্তরাজ্য্য পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের প্রধান (হেড অব কাউন্টার টেরোরিজম) নিল বসু তখন বলেছিলেন, ঘটনাস্থলের গুরুত্ব এবং ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত প্রতিয়মান হওয়ায় এটিকে প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসী কাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে সোমবার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে এটেম্প টু মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার স্থান এবং সাম্প্রতিক প্রবণতার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি সন্ত্রাসী কাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিলো। তবে সালি খাতিরের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।  এর আগে বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ কিংবা সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের কাছে পরিচিত হয়। তবে স্থানীয় পুলিশের কাছে পরিচিত ছিল। যুক্তরাজ্য পুলিশের সদর দফতর বলেছে, আটকের পর ঘাতক চালক পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করেননি। পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত গাড়িটি আগের রাতে বার্মিংহাম থেকে লন্ডনে আসে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে লন্ডনে পৌছার পর গাড়িটি টোটেনহ্যাম কোর্ট রোড এলাকায় প্রায় ৫ ঘন্টা ছিল। বিধ্বচ্চ হওয়ার প্রায় ৯০ মিনিট আগে সেটি ওয়েস্টমিন্সটার এলাকায় প্রবেশ করে। রাস্তায় বসানো ‘নাম্বার প্লেট রিকগনিশন’ ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে পুলিশ গাড়িটির গতিবিধি চি?িত করতে সক্ষম হয়।  
সন্দেহভাজন সালি খাতের বার্মিংহামের স্পার্কব্রুক এলাকায় একটি ইন্টারনেট ক্যাফের উপরে বসবাস করতেন বলে ধারণা। প্রায় চার মাস আগে তিনি লন্ডনের হাইগেট এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত তিনি কভেনট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন।