Share |

অম্লান বঙ্গবন্ধু শীর্ষক পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠান

লন্ডন, ০৩ সেপ্টেম্বর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে প্রাণ হারান। শারীরিকভাবে তাকে হত্যা করা হলেও তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান ও তাকে নিশ্চি? করা যায়নি। ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে তিনি চিরদিন অম্লান থাকবেন। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি। কবিকণ্ঠ ও রাধারমণ সোসাইটি আয়োজিত ‘অম্লান বঙ্গবন্ধু‘ শীষক পাঠ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তা ও সুধীজন এ কথা বলেন। 
‘কী দিয়ে ঋণ করি শোধ/কী দিয়ে শত্রু করি রোধ-এই  শ্লোগান নিয়ে বঙ্গবন্ধু‘র ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী‘ পাঠ, কবিতা ও আলোচনা শীষক আয়োজনটি ছিল লন্ডনে একটি ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান।
‘অম্লান বঙ্গবন্ধু‘ নামে ভিন্নধরণের এ আয়োজনের আহবান ছিল- শোক হউক শক্তির আঁধার। পাঠ, কবিতা আর গানে নিজেকে খুঁজি। শোকাবহ আগস্ট মাসে এ বিরল আয়োজনটি ছিল ৩০ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের কবি নজরুল সেন্টারে। ‘অম্লান বঙ্গবন্ধু‘ নামে কবিকণ্ঠ ও রাধারমণ সোসাইটির এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু‘র ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী‘ থেকে পাঠ, কবিতা ও আলোচনায় অংশ নেন বিলেতের কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীরা। কবি হামিদ মোহাম্মদের সঞ্চালনায় ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী‘ থেকে পাঠ করেন রাজনীতিক গয়্ছুর রহমান গয়াছ, সংস্কৃতিজন বাতিরুল হক সরদার, মোহাম্মদ আব্বাসুজ্জামান ও সাংবাদিক শাহ রহমান বেলাল। বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবি শামসুর রাহমান ও কবি নিমর্লেন্দু গুণের  রচিত কবিতা পাঠ করেন সাংস্কৃতিকনেত্রী অজন্তা দেব রায়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ  করেন কবি আরাফাত তানিম,কবি মোশাহিদ খান। এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে  ইংরেজিতে একটি ব্যতিক্রমী স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি রুমি হক। 
আলোচনায় অংশ নেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ শহিদ আলী, যুব ও সাংস্কৃতিক নেতা জামাল আহমেদ খান ও কবি এ কে এম আবদুল্লাহ। এছাড়া রাজনীতিক গয়াছুর রহমান গয়াছও বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবণী‘ থেকে পাঠের আগে বঙ্গবন্ধুকে জাতির অবিসংবাদিত মহান নেতা উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।
আলোচনায় বক্তারা কবিকণ্ঠ ও রাধারমণ সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যতটুকু জানি, এর আগে কোনো সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিলেতে এ রকম আয়োজন কেউ করেননি বা ততটা নজর দেননি। এ ক্ষেত্রে কবিকণ্ঠ ও রাধারমণ সোসাইটি ব্যতিক্রমী কাজ করেছে। তারা বলেন, এতোদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো আয়োজন বেশিরভাগ দলীয় আয়োজনে সীমাবদ্ধ ছিল। এ জন্য জাতীয় ও  আন্তর্জাতিকভাবে এবং জাতির স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর যে  অবস্থান তা অনেকে খাটো করে দেখতেন। আমরাও অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিকণ্ঠ ও রাধারমণ সোসাইটি বঙ্গবন্ধুকে দলীয় নিগঢ় থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছেন। বঙ্গবন্ধু কোনো দলের একক নেতা নন; তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসের মহানায়ক।