Share |

ব্রেক্সিট সমঝোতা : আর ছাড় দেবে না যুক্তরাজ্য

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ৩ সেপ্টেম্বর : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বিচ্ছেদ বিষয়ে (ব্রেক্সিট নামে পরিচিত) সমঝোতার ক্ষেত্রে তাঁর দেশ আর নতুন করে কোনো ছাড় দেবে না। তিনি বলেছেন, একটি ‘ভাল চুক্তি’ সম্পাদিত হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে যদি চুক্তি সম্পাদিত না হয়-সেই পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে তাঁর সরকার।
২ সেপ্টেম্বর রোববার স্থানীয় টেলিগ্রাফ পত্রিকায় লেখা এক কলামে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এসব কথা বলেন। ব্রেক্সিট ইস্যুতে নতুন করে কোনো গণভোটের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন থেরেসা মে। তিনি বলেছেন, পুনরায় গণভোট আয়োজন হবে ‘আমাদের গণতন্ত্র ও বিশ্বাসের সাথে প্রতারণা’।     
ব্রেক্সিট চুক্তি সম্পাদনে থেরেসা মে’র প্রস্তাব ব্রেক্সিটপন্থী এবং ব্রেক্সিট বিরোধী উভয় পক্ষের তুমুল সমালোচনায় বিদ্ধ। সম্পাদিত চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর করা-না করা নিয়ে গণভোট আয়োজনের দাবিতে ‘দ্য পিপলস ভোট’ নামে সর্বদলীয় একটি গ্রুপ মাঠে নেমেছে। এরা মূলত ব্রেক্সিটবিরোধী। সরকারী ও বিরোধী দলের এমপিদের পাশাপাশি শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও এতে যুক্ত। অন্যদিকে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থীরা থেরেসা মে-কে প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে সরিয়ে দিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রচার আছে। যার নেতৃত্বে আছেন মে’র প্রস্তাবের বিরোধীতা করে মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। অন্যদিকে যে প্রস্তাব নিয়ে থেরেসা মে ‘নিজ গৃহে’ এতটা বিপদে, সেই প্রস্তাব মেনে নিয়ে ইইউ যে চুক্তি সম্পাদন করে ফেলবে- সেই আলামতও নেই। এই তৃমুখী সংকটের কারণে  
যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে সন্দেহ, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা এখন চরমে। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রের কলামে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দৃঢ় মনোবলের কথা জানান দিলেন প্রধানমন্ত্রী মে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ‘চেকার্স এগ্রিমেন্ট’ (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কান্ট্রি হাইজ চেকার্সে রুদ্ধতার বৈঠকে নেয়া মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত) এর বাইরে ‘জাতীয় স্বার্থ’ নেই এমন কিছু ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ কাঠামো ঠিক করার ক্ষেত্রে সামনের মাসগুলো সংকটপূর্ণ। কিন্তু যুক্তরাজ্যের মানুষের দেয়া গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাচ্চবায়নের বিষয়ে তাঁর ধারণা পরিষ্কার।
মে বলেন, গত জুলাইয়ে চেকার্স এগ্রিমেন্টর পর ব্রেক্সিট সমঝোতায় ‘বাস্তবিক অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে সমঝোতার ধাপ আরও বাকী। একটি সফল চুক্তির মধ্যদিয়ে বিচ্ছেদ কার‌্যকরের বিষয়ে তাঁর সরকার আশাবাদী জানিয়ে থেরেসা মে বলেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের জন্যও সরকার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। যদিও ওই পরিস্থিতি যুক্তরাজ্য কিংবা ইইউ কারও জন্যও ভাল হবে না। তবে যুক্তরাজ্য ওই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠবে এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চুক্তি হোক বা না হোক, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ রাত ১১টা’য় বিচ্ছেদ কার‌্যকর হবে বলে দিনক্ষণ ঠিক করা আছে।