Share |

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা পরিকল্পনা : বাঙালি যুবকের যাবজ্জীবন

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ৩ সেপ্টেম্বর : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-কে হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে আটক সেই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে?আদালত। তাঁকে কমপক্ষে ৩০ বছর জেল খাটতে হবে। ৩১ আগস্ট শুক্রবার লন্ডনের ও? বেইলি আদালত এ সাজা ঘোষণা করে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২০ বছর বয়সী নাইমুর জাকারিয়া রহমান। গত ১৯ জুলাই একই আদালত তাঁকে দোষী হিসেবে সাব্যস্ত করে। জাকারিয়া আদালতে নিজেকে ‘বাংলাদেশি-ব্রিটিশ’ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।  
২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর নাইমুল জাকারিয়া রহমানকে লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, নাইমুর জাকারিয়া রহমান আত্মঘাতী বোমা ফাটিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র বাসবভবে প্রবেশের পরিকল্পনা নেন। এরপর তিনি ছুরি মেরে বা গুলি করে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার ছক এঁকেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ- তিনি মোহাম্মদ আকিব ইমরান (২১) নামে অপর এক তরুণকে সন্ত্রাসবাদে জড়াতে সাহায্য করেন। ইমরান জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এ যোগ দিতে একাধিকবার লিবিয়ায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মোহাম্মদ আকিব ইমরানকে সন্ত্রাসবাদে উদ্ধুদ্ধ করার দায়ে নাইমুরকে ৬ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই ৩০ বছরের সাথেই এই ৬ বছর সাজা হিসাব হবে।
সাজা ঘোষণাকালে বিচারক হ্যাডন কেইভ বলেন, ‘রহমানকে যদি গ্রেফতার করা না হতো তাহলে তিনি ঠিকই ওই হামলা চালাতেন’।  নাইমুর জাকারিয়া উত্তর লন্ডনের বাসিন্দা। সিরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এ যোগ দেয়া এক চাচার প্ররোচনায় তিনি উগ্রবাদী হয়ে উঠেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে। নাইমুর গ্রেফতার হওয়ার আগেই ওই  চাচা সিরিয়ায় মারা যান বলে ধারণা।  
বিবিসি’র খবরে বলা হয়, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এমআই৫ এবং এফবআই যৌথ ছকে এঁকে নাইমুর জাকারিয়া রহমানকে গ্রেফতার করে। একজন ছদ্দবেশী গোয়েন্দা সদস্যের কাছ থেকে একটি ব্যাগ সংগ্রহ করার পরপরই নাজমুর জাকারিয়া রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ব্যাগে একটি ভুয়া বোমা ও ভুয়া বিষ্ফোরক লাগানো একটি জ্যাকেট ছিল।

বিবিসি’র প্রতিবেদক ডোমিনিক কাসিয়ানি বলেন, নাইমুর জাকারিয়া  
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইএস-এর একজন নিয়োগদাতার (রিক্রটারের) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রকৃত পক্ষে ওই ব্যক্তি ছিল এফবআই-এর লোক। ওই গোয়েন্দা নাইমুরকে ব্রিটিশ ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ এর একজন সদস্যের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এমআই৫ এর কর্মী নাইমুরকে বুঝাতে সক্ষম হন যে তারা আইএস-এর লোক। তখন নাইমুল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যায় আত্মঘাতি হামলা চালানোর ইচ্ছার কথা জানান।
মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার ডীন হাইডেন বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের গেটে যাওয়া। তার কাছে থাকা একটি ডিভাইসের বিস্ফোরক ঘটাতে যাচ্ছিল রহমান, যাতে সেখানকার পুলিশ কর্মকর্তারা ও সেখানে থাকা মানুষ মারা পড়তো। তার উদ্দেশ্য ছিল এর পরই গেট দিয়ে ঢুকে পড়ে কাছে থাকা আরেকটি ডিভাইসের  বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের মধ্যে ঢুকে পড়া আর এরপর ছুরি বা বন্দুক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর হামলা চালানো। এই প্রক্রিয়ায় সে লন্ডনের কেন্দ্রে সরকারী দফতরের মধ্যে নিজের মৃত্যু ঘটাতে চেয়ে শহীদ হতে চেয়েছিল।  
আদালতের শুনানীর সময়ে জানানো হয়, নাইমুর জাকারিয়ার এক চাচা আইএস সদস্য। সে সিরিয়ায় ছিল। তার সঙ্গে নাইমুরের যোগাযোগ ছিল। সেই মূলত নাইমুরকে ব্রিটেনে হামলা চালাতে প্ররোচিত করে। দুই বছর ধরে এই হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো নাইমুর। তবে গত গ্রীষ্মে এক ড্রোন হামলায় তার সেই চাচা ২৮ বছর বয়সী মুসাদ্দিকুর রহমান মারা যায়।