Share |

পূর্ব লণ্ডনে মাদক ব্যবসার বিস্তার : শুধু ড্রাগ ডিলারের শাস্তিই যথেষ্ট নয়

বাঙালী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে গত সপ্তাহে তিনজন মাদক ব্যবসায়ীর জেলদণ্ড হয়েছে। স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্ট তাদের এই দণ্ড ঘোষণা করে। এনিয়ে এই এলাকায় মাদক ব্যবসার অপরাধে গত একমাসে ৩১ জন মাদক ব্যবসায়ীর শাস্তি হলো। জানা গেছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরো অর্ধডজন মাদক ব্যবসায়ীর শাস্তি ঘোষণা করা হবে। এই বারায় মাদক ব্যবসার অপরাধে এসব ড্রাগ ডিলারের সব মিলিয়ে প্রায় ৮০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।  
টাওয়ার হ্যামলেটসে মাদক ব্যবসার সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিস্তারের প্রেক্ষাপটে মাদক ব্যবসায়ীদের জেলদণ্ডের খবর নি:সন্দেহে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির। মাদক ব্যবসার ক্ষতিকর প্রভাব অন্যান্য অনেক অপরাধের মতো সীমিত নয়। এটি এমন একটি অপরাধ যা শুধু মাদক ব্যবসায়ীর জীবন নষ্ট করে না বরং মাদকাসক্ত ব্যক্তি, তার স্বজন ও পরিবারকেও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। সমাজে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদী অশান্তি আর অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী এই মাদক ব্যবসায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাই খুবই প্রত্যাশিত।  
কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু ড্রাগ ডিলারের জেলদণ্ড হলেই মাদকের মরণনেশা থেকে সমাজের বিশেষ করে তরুণ সমাজের মুক্তি মিলবে না। ড্রাগ ডিলারদের ধরা ও তাদের শাি নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনির বড় একটি দায়িত্ব ও কর্তব্য।  
তবে এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করা দরকার সেটি হচ্ছে- উঠতি প্রজন্মকে ভয়াবহ নেশার ছোবল থেকে রক্ষার কাজে এগিয়ে আসা। আর এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন তরুণ প্রজন্মকে খেলাধূলাসহ তাদের বিনোদনের জন্য সুবিধাজনক ও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা। কিন্তু দু:খজনকভাবে, টাওয়ার হ্যামলেটসে কাউন্সিলে বিগত বছরগুলোতে বাজেট কর্তন আর অন্যান্য অজুহাতে অনেকগুলো ইয়ুথ সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্যদিয়ে তরুণদের সুস্থ চিত্ত বিনোদনের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। আর সুস্থ চর্চার পথ বন্ধ হলে এসব তরুণরা যদি মাদকের মতো সর্বনাশা পথে পা বাড়ায় তবে তাদের খুব বেশি দোষারোপ করা যাবে কি?
এছাড়া, বিগত বছরগুলোতে এই বারার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত এবং সুনামের সাথে মাদকাসক্তদের সেবাদানকারী সংস্থা নাফাসের অর্থ-সহায়তা বন্ধ করে দেয় কাউন্সিল। আর তার স্থলে বড় এক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হলো এই সেবা প্রদানের দায়িত্ব এবং প্রয়োজনীয় ফান্ডিং। সে সময় কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপক সমালোচনা হলেও কর্র্তৃপক্ষ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি। কিছুদিন পর সেই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানটি অর্থাভাবে তার ব্যবসা গুটিয়ে নিলো। অথচ কমিউনিটির মানুষের চাহিদা পূরণে এই কমিউনিটির জনবল দিয়েই চালানো হতো নাফাস।  
ধারনা করা অসঙ্গত হবে না যে, তরুণদের চিত্ত বিনোদনের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নাফাসের মতো প্রতিষ্ঠানের সেবাপ্রদানে বিঘœ সৃষ্টির ঘটনা এই এলাকায় মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ইয়ুথ সেন্টার বন্ধ করে দিয়ে আর মাদকাসক্তদের স্থানীয় সেবাদানকারী সংস্থার ফাণ্ড কেটে দিয়ে এই কাজ যে সম্ভব নয় সেটি অনুধাবনের জন্য বিশেষজ্ঞ হবার দরকার আছে কি?
তাই, আমরা মনে করি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সাথে সাথে মাদকের ব্যবহার ও চাহিদা সংকুচিত করার সব উদ্যোগ কাউন্সিলকে নিতে হবে।