Share |

শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১০ সেপ্টেম্বর : বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শহিদুল আলমের স্বজন-বন্ধু ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁরা শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে পিটিশনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। গানে ও বক্তব্যে মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের সলীল ত্রিপাঠী, আলোকচিত্রী ও ছবি নির্মাতাদের সংগঠন অটোগ্রাফ এবিপি’র মার্ক সিলি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মার্ক ডামেট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মিনাক্ষী গাঙ্গুলি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখিকা ও টিভি উপস্থাপিকা কনি হক প্রমুখ। ছিলেন শহিদুল আলমের বড় বোন কাজী নাজমা করিম ও ভাগনি সোফিয়া করিমসহ বন্ধু ও শুভাকাাখীরা। তাঁরা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি বব মার্লির ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ, স্ট্যান্ড আপ ফর ইউর রাইট’ এবং ‘লর্ড অব দ্য ড্যান্স’ গান দুটি গেয়ে শহিদুল আলমের সাহস ও প্রতিবাদী মানসিকতার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে শহিদুল আলমের মুক্তি দাবির পাশাপাশি বিতর্কিত তথ্য প্রযুক্তি আইনে আটক সব বন্দীর মুক্তি দাবি করেন। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দেশের সব নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখার জোর আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, কেবল সরকারের সমালোচনা করার কারণে শহিদুল আলমকে কারাবন্দী করার ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটা সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য। কনি হক বলেন, ‘শহিদুল আলম আল জাজিরা টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে নিজের মতামত দিয়েছেন। এ জন্য বাংলাদেশের পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকার এমন কাজ করতে পারে তা কখনো ভাবতে পারিনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এক সময় নিজেকে খুব গর্বিত মনে করতাম। আমি আশা করি শহিদুল আলম মুক্তি পাবেন এবং তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার করা হবে।’
শহিদুল আলমের সততা ও সাহসের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন তাঁর বড় বোন কাজী নাজমা করিম। তিনি বলেন, ‘ছোট বেলা থেকে শহিদুল অসম্ভব সৎ, তুমুল সাহসী এবং ভীষণ সত্যবাদী। মানবাধিকারের বিষয়ে সে সব সময় সচেতন।’ তিনি বলেন, ‘শহিদুল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। সে একজন মানবতাবাদী মানুষ। কেবল ন্যায় ও মানবাধিকারের পক্ষে তাঁর অবস্থান।’
কাজী নাজমা করিম বলেন, শহিদুল আলমের জামিনের শুনানি নিয়ে নানাভাবে কালক্ষেপণ হচ্ছে। তাঁর জামিনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতির ‘বিব্রতবোধ’ করা নিয়ে তিনি বলেন, বিচারক কেন ‘বিব্রতবোধ’ করলেন তা নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। শহিদুল আলমের প্রতি নতুন করে আর কোনো অন্যায় হবে না বলে তিনি আশা করেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রশ্ন
শহিদুল আলমের বন্দিদশা নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রশ্ন তুলেছেন এমপি রূপা হক। গত ৪ সেপ্টম্বর মঙ্গলবার হাউজ অব কমন্সের নিয়মিত অধিবেশনে তিনি জানতে চান-প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির জন্য যুক্তরাজ্য সরকার কি ভূমিকা রাখছে? শহিদুল আলমকে যে আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই আইনটি যে বাংলাদেশের এক সময়কার সক্রিয় সুশীল সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে-সে বিষয়টি বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্মরণ করিয়ে দেয়ারও অনুরোধ জানান রূপা হক।
পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ-বিষয়ক নির্ধারিত বিতর্কে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতিমন্ত্রী অ্যালান ডানকানকে প্রশ্ন করে রূপা হক বলেন, “বাংলাদেশে কারাবন্দী এবং নির‌্যাতনের শিকার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির জন্য যুক্তরাজ্য সরকার কি করছে? যাঁর মামলা নিয়ে শ্যারনস্টোন ও ১০ জন নোবেল বিজয়ী [প্রকৃতপক্ষে ১১ জন] কথা বলেছেন। তিনি ওই দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে আটক ৭শ মানুষের একজন, যে আইনটিকে অ্যমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সরকারের সমালোচকদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার। এই আইনে অপরাধের ন্যূনতম সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং বিচারবিভাগ নিরপেক্ষ নয়। প্রতিমন্ত্রী কি বন্ধুরাষ্ট্রটিকে এই বার্তা পৌঁছে দেবেন যে- নির্মম ওই আইন (ড্রাকোনিয়ান ল) বাংলাদেশের একসময়কার সক্রিয় সুশীল সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে?”
জবাবে পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের প্রতিমন্ত্রী অ্যালান ডানকান বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের (ডিএফআইডি) প্রতিমন্ত্রী অ্যালেস্টেয়ার বার্ট গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরকালে বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরেছেন। সেই সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার স্বাধ্যমত নিয়মিতভাবে বিষয়টি নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখছেন।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপা হক লন্ডন শহরের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড একটন আসনের এমপি। তিনি লেবার দলীয় রাজনীতিক। গত ১৩ আগস্ট এক বিবৃতিতে তিনি শহিদুল আলমের মুক্তি দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার আহবান জানান। আলাদা বিবৃতিতে একই ধরণের আহবান জানান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরেক এমপি রুশনারা আলী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকও এক বিবৃতিতে অবিলম্বে শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করেন।