Share |

লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পায়নি পুলিশ

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১০ সেপ্টেম্বর : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক মেয়র লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মত কোনো অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণ পায়নি পুলিশ। দীর্ঘ এক বছর তদন্তের পর ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে লন্ডন মেট্রোপলিটান পুলিশ এ কথা জানায়। এই তদন্তে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ পাউন্ড।  
পুলিশের এই তদন্ত প্রতিবেদন লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিশেষ নির্বাচনী আদালত যে রায় দিয়েছিল সেটিকে আবারো প্রশ্নবিদ্ধ করলো। ওই রায়ে দুর্নীতি ও ভোট জালিয়াতির মোট আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে বিচারক লুতফুর রহমানকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করেন। সেই সঙ্গে ৫ বছরের জন্য তাঁকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালে ওই রায় ঘোষণা হয়।  
লুতফুর রহমান কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেছেন কি-না সেটি আবারো তদন্তের জন্য পুলিশের প্রতি আদেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রিচার্ড মৌরি। আদালতের সেই আদেশের ভিত্তিতে পুলিশ নুতন করে তদন্ত শুরু করে।  
পুলিশ বলছে, টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাচন এবং লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগ গঠনের মত যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেসব আলামত তারা পেয়েছে সেগুলো অভিযোগ গঠনের মত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফলে কোনো প্রকারের অভিযোগ গঠন ছাড়াই তদন্তের ইতি টানলো লন্ডন মেট পুলিশ। নির্বাচনে দুর্নীতি বা ভোট জালিয়াতির সাথে সরাসরি যুক্ত কোনো আলামত তারা পায়নি।   
ছোটখাট যেসব নতুন আলামত তারা পেয়েছে সেগুলোকে সিটি অব লন্ডন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে মেট পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওইসব আলামতের ধরণের কারণে সেগুলো অধিকতর তদন্তের জন্য সিটি অব লন্ডন পুলিশকে দেয়া হয়েছে।      
                       লুতফুর রহমানকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়। লুতফুর বিরোধীরা পুলিশের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, লুতফুর রহমান নানা অন্যায়ের মধ্যে ডুবে থাকলেও তার বিরুদ্ধে কিছুই খুঁজে পায় না পুলিশ। একাধিকবার পুলিশের তদন্তের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামে পুলিশ। সাধারণ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ২০ জন গোয়েন্দা সদস্য দীর্ঘ এক বছর এই তদন্তের কাজ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পুলিশ জানালো- লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মত কিছুই তারা পায়নি।   
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুতফুর রহমান পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র ছিলেন। ২০১০ সালে লেবার পার্টির মনোনয়ন পাবার পরও লেবার পার্টি অন্যায়ভাবে তাঁর প্রার্থীতা বাতিল করলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে তিনি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম ও বর্ণবাদকে ব্যবহার এবং ভোটজালিয়াতিসহ তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠে। বিষয়টি আদালতে গড়ালে লুতফুরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাঁকে মেয়র পদ থেকে অপসারণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ২০২০ সালে।
লুতফুর রহমানকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার কারণে তিনি ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচনের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। তবে প্রচারণার মাঠে ছিলেন সবসময়।  
লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের তিন ভোটার। ওই মামলার খরচ মেটাতে গিয়ে লুতফুর রহমান আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েন। তাঁর বাড়িও নিলামে উঠে।  
এখন পুলিশ বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনার মত অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। অথচ রিচার্ড মাউরি তার রায়ে?বলেছিলেন, এই মামলার বিচার তিনি করেছেন ক্রিমিনাল স্ট্যাণ্ডার্ডে।
লুতফুর রহমান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন এবং রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকেছেন।  
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের পর লুতফুর রহমানের মনোবল আরও জোরালো। তিনি তাঁর নিকটজনদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, তিনি নির্দোষ-তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো অপরাধের আলামত কখনো পাবে না।