Share |

বহরে নতুন উড়োজাহাজ : বিমানের বদনাম ঘুচানোর কী হবে?

আকাশে শান্তির নীড় নির্মাণের অঙ্গীকার দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানের সব তৎপরতা। কিন্তু বিমানের যাত্রীরা জানেন এই এয়ারলাইন্সে ভ্রমণে ভোগান্তী আর হয়রানী মাত্রা কতটুকু। বিমানের যাত্রীসেবার মান নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসা অভিযোগের সুরাহাতো দূরের কথা, দিন দিন বিমানের বহরের সাথে পাল্লা দিয়ে এর সবকিছুই সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে।  
পৃথিবীর অন্যান্য বিমান সংস্থা যখন বিভিন্ন রুটে তাদের ফ্লাইট বৃদ্ধি করেছে তখন বাংলাদেশের জাতীয়?এয়ারলাইন্স বিমানের রুট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে সময়মতো ফ্লাইট শিডিউলে বিপর্যয়ে বিমান বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। বিশ্বের বহু অগ্রসর দেশেই বিমান সংস্থাগুলো আর সরকারের অধীনে নয়। অথচ বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এয়ারলাইন্সটি এখনো সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা। আর এজন্যই বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় বিমানের ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব ছিলো। কিন্তু এক্ষেত্রে দু:খজনক বাস্তবতা হলো, দেশে কিংবা বিদেশে কোথাও বিমান কিংবা এর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সেই চেষ্টা দেখা যায়নি। প্রত্যাশিত সুনাম অর্জনে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে বিমান। ফলে এর লাভ ক্ষতির দায়-দায়িত্ব আর বদনামের ভাগীদার সরকারকেই হতে হয়েছে।
সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠায় বিলেতে বাঙালীদের অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত। কিন্তু বিমানের ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবা নিয়ে বিলেতবাসী যাত্রীদের   বিস্তর অভিযোগ। শুধু বিলেতবাসী কেনো, নানা ঘাটতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের যাত্রীরা অন্যান্য এয়ারলাইন্স থেকে বিমানকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কিন্তু যাত্রীসেবার ক্রমাবনতি ও তাদের অভিযোগের প্রতি বছরের পর বছর ধরে ভ্রুক্ষেপহীনতার কারণে এক সময় যাত্রী হারিয়েছে বিমান। যে সময়ে ঢাকা থেকে অন্যান্য সংস্থার ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েছে তখন বিমানের ফ্লাইট কমেছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমানের ব্যবসা গেছে অন্য ফ্লাইট অপারেটরদের হাতে।  
বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগের নেওয়ার কথা শোনা গেলেও কয়েক দশকেও বিমানের সেবার মান উন্নত করা কিংবা এই রাষ্ট্রীয় সংস্থাটিকে লাভজনক করে তোলা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বিমানবহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উড়োজাহাজ। চারটি ৭৮৭ ড্রিমলাইনারসহ ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ে?বিগত ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় প্রথম আকাশবীণা উড়োজাহাজটি সম্প্রতি এসেছে বাংলাদেশে। সর্বাধুনিক চতুর্থ প্রজন্মের এই উড়োজাহাজের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার আগামী নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালে আরো দুটি ড্রিমলাইনার সরবরাহ করবে বোয়িং। বিমানের উড়োজাহাজবহরে আগেই যুক্ত হয়েছে রোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৩৭। আকাশবীণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কথা বলেছেন। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে বিমানকে লাভজনক করতে হলে যে সততা ও নিষ্ঠার প্রয়োজন তা কি এই প্রতিষ্ঠানের আছে - এটইি এখন বড় প্রশ্ন।  
সুতরাং আমরা মনে করি, কোটি কোটি ডলার ব্যয়ে?শুধু জাহাজ সংখ্যা বাড়ালেই বিমান লাভজনক হবে না। বরং সততার সাথে বিমানকে পরিচালনার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হলেই বিমান ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। বিমানের ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবা নিয়ে বিশ্বমানের হলেই কেবল এই প্রতিযোগিতার বাজারে বিমানকে লাভজনক করা সম্ভব।