Share |

প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফর : বিএনপিকে প্রতিরোধের ঘোষণা আওয়ামী লীগের

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ১৭ সেপ্টেম্বর : ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে আসছেন। তাঁকে লন্ডনে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শনের। তবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, অতীতে বিক্ষোভের নামে বিএনপির ন্যাক্কারজনক আচরণকে ছাড় দেয়া হলেও, এবার আর ছাড় নয়। এবার বিএনপিকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিপরীতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক বলেছেন, হুমকি দেয়ার আগে আওয়ামী লীগের স্মরণ রাখা উচিত, এটা হাসিনার বাংলাদেশ না। তাদের সাহায্য করার জন্য এখানে লাঠিয়াল পুলিশ-র‌্যাব নেই। কোনো হুমকিকে তিনি ভয় পান না। এবার বিক্ষোভ আরও ব্যাপক হবে।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক পত্রিকাকে বলেন, ব্রিটেন গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে সবাই তাদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভ করতে পারে। কিন্তু যুক্তরাজ্য বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্রিটেনের  উদারতার সুযোগ নিয়ে বরাবরই বিক্ষোভের নামে অশালীন কর্মকাণ্ড করে। তাদের এসব কর্মের  কারণে বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের সম্মান হানি হয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ দেশের সম্মানের কথা চিন্তা করে কখনো তাদের পালটা জবাব দেয়নি। তবে এবার বিএনপি বিক্ষোভের নামে মাত্রাতিরিক্ত কিছু করে তবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাড় দেবে না। তাদের যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়নের ব্যবস্থা করা হবে।   যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক পত্রিকাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে আসার খবর তাঁরা জানতে পেরেছেন। বরাবরের মত এবারও প্রধানমন্ত্রী যে কয়দিন লন্ডনে থাকবেন সে কয়দিন বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এম এ মালিক বলেন, শেখ হাসিনা যেখানে থাকবেন সেখানেই আমরা বিক্ষোভ করবো। এমনভাবে বিক্ষোভ করবো যাতে শেখ হাসিনা হোটেলের সামনের দরজা দিয়ে চলাচলের সুযোগ না পান। তাঁকে পিছনের দরজা দিয়েই চলতে হবে।  
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ মালিক বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা আমাদের দলের নেতাকর্মীদের গুম করবে, খুন করবে। মামলা দিয়ে নির্যাতন করবে। আমাদের নেত্রীকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দি করে রাখবে। আর আমরা বিক্ষোভ করতে গিয়ে শেখ হাসিনাকে চুমু খবো? তিনি বলেন, এম এ মালেক যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃত্ব দেবে। স্বৈচারের বিরুদ্ধে যেভাবে বিক্ষোভ করতে হয়, আমরা সেভাবেই করবো।  জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে যুক্তরাজ্যে যাত্রাবিরতি করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তাঁর লন্ডনে পৌছানোর কথা। শনিবার লন্ডনে থাকবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।  লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও শেখ রেহানার পরিবারের সাথে সময় কাটাবেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে তিনি এখানে বিশ্রাম করবেন। তবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কর্মীসভা করার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।   সৈয়দ ফারুক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ বছর পূর্ণ করার দ্বারপ্রান্তে শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও বিজয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা। এই নির্বাচনের আগে এটাই হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শেষ লন্ডন সফর। ফলে এই সফরে তাঁকে বিপুলভাবে স্বাগত জানানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বিএনপির বিক্ষোভের ব্যাপারে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেন, ‘অশোভন, অমার্জিত ও অসভ্য আচরণ আর বিক্ষোভ এক জিনিস নয়। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি-দাওয়া থাকলে সেটি তারা শোভনভাবে জানাতে পারেন। আমি চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে এ দেশে (যুক্তরাজ্য) আওয়ামী লীগ করছি। আমরা কখনও রাজনীতির নামে অসভ্যতা করি না।’ উল্লেখ্য, প্রায় দেড় দশক ধরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় বিক্ষোভ প্রদর্শনের কর্মসূচি পালন করছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ডিম, পানির বোতল, এমনকি জুতা ছুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন চলে আসছে। সর্বশেষ গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডনে আসেন।
গত ১৮ এপ্রিল ওই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ওপর হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা।