Share |

ন্যায়বিচারের জন্য চাই ধর্মনিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা

ইউসুফ শেখ 
সামাজিক ন্যায়বিচার ও আধুনিক বিচার ব্যবস্থা  প্রতিষ্ঠায়,  ধর্মনিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার বিকল্প নেই।  একটি সমাজ বা রাষ্টে বিভিন্ন ধর্ম, পেশা, বিশ্বাস ও প্রথার মানুষ বাস করে।  তারা আশা করে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালুগু তত্ত্বের উর্ধে গিয়ে ন্যায়বিচার পাবার।  পঁচনধরা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থায় গণতন্ত্র ও ধর্ম  উদ্ধারের নামে ব্যাহত হচ্ছে ন্যায়বিচার ।  ধর্মনিরেপেক্ষ গণতন্ত্র, ধর্মনিরেপেক্ষ বিচার বাবস্থা ও ধর্মনিরেপেক্ষ মিডিয়া আলোকিত করতে পারে একটি রাষ্ট্রকে। আমার জ্ঞানের গভীরতা খুবই কম।  ভাবনা থেকে লেখা , তবে প্রাসঙ্গিক।  বিচার ব্যাবস্থায় ধর্মের প্রভাব আমরা অস্বীকার করতে পারিনা।  বিশ্বজুড়ে অনেক দেশ তাদের বিচার ব্যাবস্থাকে ধর্মীয় বলয়ের বাহিরে নিয়ে এসেছে।  তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে  অন্যতম।  যুক্তরাজ্যে  ধর্ম নিরেপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার প্রতিযোগিতার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে।  তারা  প্রমাণ করেছে মানুষ বা রাষ্টের পরিচয় ধর্ম নয়।  একটা দেশে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বেশি অনুসারী থাকতে পারে। এটা অস্বাভাবিক নয়।  তাই রাষ্ট্র , বিচার ব্যবস্থার উচিৎ  অন্যদের প্রতি বিরূপ আচরণ না করা।  যুক্তরাজ্যে  ব্ল্যাসফেমি আইন তুলে নিয়েছে। ব্রিটিশ শাসকেরা পেনাল কোড ১৮৬০ এর মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্ম অবমাননার শাস্তির বিধান করেছিল। এখনো এ আইনটি বাংলাদেশে কার্যকর। বাংলাদেশ এ আইনে  কোনো পরিবর্তন আনেনি। ব্ল্যাসফেমি আইনটি মানবাধিকারের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ।   এবং  বিশ্বজুড়ে এ আইনের অপব্যাবহার হচ্ছে। ধর্মীয় সংখ্যালুগু, অধার্মিক , ভিন্ন প্রথার বিশ্বাসীদের  নির্যাতনের জন্য  কৌশলে এ আইন  ব্যবহার হচ্ছে । বাংলাদেশি  লেখক দাউদ হায়দার, তাসলিমা নাসরিন, ও অন্নান্য ব্লগাররা ন্যায় বিচার পাননি।  তাদের বিশ্বাস অন্যদের থেকে ভিন্ন হতেই পারে।  এবং  ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে তাদের দেশান্তরি করা ও ব্লগারদের মেরেফেলা  ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।  মাত্র ৪৭ বছর আগের কথা , ১৯৭১ সাল , সকল মানুষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল,  বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য।  বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ স্বাধীন হয়।  মৌলবাদীরা স্বাধীনতা বিরোধী ছিল। ধর্ম ও পাকিস্তান রক্ষার নামে  মানুষ হত্যা, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছিল। হিন্দুদের প্রতি নির্যাতন করেছিল। ইতিহাস তার সাক্ষী।  সংখ্যালগু নির্যাতন , ধর্ম নিরপেক্ষ ও মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসিদের নির্যাতন ও হত্যা আজও থামেনি। কারণ আমরা ব্যার্থ হয়েছি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়। বাংলাদেশে  কিছু ধর্ম নির্ভরশীল দল ব্ল্যাসফেমি আইনের জন্য আন্দোলন করছে।  তারা জানেনা এ আইন মানবাধিকার ও  শান্তির পরিপন্থী। এটি রাজনৈতিক যন্ত্রাংশ হিসাবে ব্যবহার হবে।  এবং কৌশলে ব্যবহার হবে মুক্তমনা, ও ঈশ্বর অস্বীকৃতিকারি দমনে। ক্ষেত্র বিশেষ তারা ও হতে পারেন এ অনাকাঙ্ক্ষিত আইনের ভিক্টিম।  বাংলাদেশে মাওলানাদের মধ্যে বিভেদ আছে, একে অপরকে দোষারোপ করছেন ধর্মের অপবেখ্যা নিয়ে। ব্ল্যাসফেমির কোনো চিরন্তন সংজ্ঞা নেই। সহজেই এর অপপ্রয়োগ করা যায়।  পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইনের অপপ্রয়োগের অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।  এমন কি সামরিক এবং বেসামরিক শাসকেরা তাদের বিরোধীদের দমনে এবং ভোটের রাজনীতিতে এ আইনটি কৌশলগত ভাবে ব্যবহার করেছেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩৯৯ সালে সক্রেটিসকে দাড় করানো  হয়েছিল ৫০০ জুরীর সামনে।  তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।  মৌলিক দুটি অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ঈশ্বরকে অস্বীকৃতি এবং যুবকদের পথভ্রষ্ট করার। জুরীর মতামত যায় তার বিরুদ্ধে। জুরিরা প্রভাবিত হয়েছিল তৎকালীন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে।  ওই আইন তাকে মিত্যুদণ্ড দিয়েছিলো।  তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল হেমলক নামক বিষ পানের মাধ্যমে। সক্রেটিস অনুকম্পা চাননি রাষ্টের কাছে। তিনি শিকার ছিলেন ধর্মান্ধ বিচার ব্যাবস্থার। বিশ্ব হারিয়েছে এক মহাজ্ঞানীকে। ধর্ম নিরেপক্ষ বিচার ব্যবস্থাই পারে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ফেরাতে। ধর্মীয় বৈষম্য দূর করে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে।  

লেখক : আইনজীবী