Share |

প্রধানমন্ত্রীর সফর : আওয়ামী লীগ-বিএনপির পালটাপালটি সৌাগান

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২৪ সেপ্টেম্বর : নিউইয়র্কে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে দুদিনের যাত্রা বিরতি করেন। আর তাঁর আগমন ঘিরে আবারও লন্ডনে প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশের বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতি। শেখ হাসিনা ওয়েস্ট লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে অবস্থান করেন। আর হোটেলের বাইরে চলে আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতকার্মীদের পালটাপালটি সৌাগান।  যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে লন্ডনে স্বাগত জানিয়ে সৌাগান দিতে থাকে। আর পাশেই শেখ হাসিনাকে বিষোধগার করে সৌাগান দেয় যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা। 
লন্ডনে শেখ হাসিনার কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না। কিন্তু তাঁর লন্ডন আগমনকে ঘিরে এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ বেশ প্রস্তুতি গ্রহণ করে। দফায় দফায় বৈঠক করে হোটেলের সামনে ব্যাপক লোক সমাগমের প্রস্তুতি নেয়। তারা বিএনপির বিক্ষোভ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বিএনপিও এবার বড় ধরণের বিক্ষোভ প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের হুমকি মোকাবেলায় তারাও বড় ধরণের লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামে। বিএনপি নেতা এম এ মালেক বলেছিলেন, তারা কোনো হুমকিকে ভয় পান না। বিক্ষোভ আরও ব্যাপক হবে। শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই লন্ডন ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পালটা-পালটি সৌাগানে সীমাবদ্ধ ছিল দলগুলোর অবস্থান।    তবে লন্ডনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন সৌাগান বরাবরের মত এবারও বাংলাদেশিদের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন  অনেক প্রবাসী। এসব প্রবাসী বলছেন, যুক্তরাজ্যের মত সভ্য দেশে বসবাস করে এসব লোক কি করে লন্ডনের রাস্তায় বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এমন আচরণ করতে পারেন?    গত শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লন্ডন হিথরো বিমান বন্দরে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা।  বিমান থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে। ভিআইপি লাউঞ্জে কিছুক্ষন অবস্থানের পর তিনি সরাসরি চলে যান সেন্ট্রাল লন্ডনের হোটেল ক্ল্যালারিজেসে।
হোটেলের বাইরে অবস্থানকারী শত শত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সৌাগানে সৌাগানে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীকে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক, মহিলালীগের নেত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল দিতে থাকেন।  অন্যদিকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা হিথরো বিমান বন্দরের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আর ক্ল্যারিজেস হোটেলের সামনে বিক্ষোভ করে লন্ডন মহানগর বিএনপি। এখানে লন্ডন মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবেদ রাজা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ চৌধুরীকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয় বিক্ষোভের। তাদের তত্বাবধানে হোটেলের সামনে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন লন্ডন মহানগর বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমেদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, সহ তথ্য বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমদ, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক মো: শাহনেওয়াজ এবং সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আরফিুল হক সহ অন্যারা। শতাধিক বিএনপি সমর্থক এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যঙ্গ করে নানান ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। বাংলাদেশে হত্যা, খুন, গুম এবং গণতন্ত্রকে ধংস করার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে সৌাগান দেয় তারা। পরদিন শনিবার যুক্তরাজ্য বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনগুলো  হোটেল ক্ল্যারিজেসের সামনে আবারও বিক্ষোভ দেখায়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীও পালটা সৌাগান দিতে থাকে।  প্রধানমন্ত্রী তাঁর হোটেলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন।