Share |

ডিসিলেকশন আরও সহজ করলো লেবার : করবিন-বিরোধী এমপিরা সাবধান!

পত্রিকা রিপোর্ট
লন্ডন, ২৪ সেপ্টেম্বর : সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার পর দলের স্থানীয় সদস্যদের মতামতকে আর তোয়াক্কা করবেন না, তা কি করে হয়? একবার নির্বাচিত হয়েছেন বলে কোনো আপত্তি ছাড়াই বারবার মনোনয়ন পেতেই থাকবেন, সেটাও বা কোন অধিকারে? ‘আজীবন সংসদ সদস্য’ থাকার ওই সংস্কৃতি বিলোপের পক্ষে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির তৃণমূল সদস্যরা। তারা বলছেন, এমপি পদে মনোনয়ন কারও ‘ঈশ্বর প্রদত্ত অধিকার’ নয়। ঠিকমত কাজ না করলে তাদের ছুড়ে ফেলার অধিকার রয়েছে দলের সদস্যদের।
গত রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) দলীয় বার্ষিক সম্মেলনে লেবার এমপিদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার কাজটি অধিকতর সহজ করার পক্ষে রায় দিয়েছেন সদস্যরা। এর ফলে কোনো আসনের মাত্র ৩৩ শতাংশ সদস্য অনাস্থা ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট এমপি পরবর্তী নির্বাচনে আর সরাসরি মনোনয়ন পাবেন না। উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় নতুন করে তাঁকে মনোনয়নের জন্য লড়তে হবে। আগে মনোনয়ন কেড়ে নিতে ৫০ শতাংশ ভোটের প্রয়োজন হতো। লেবার পার্টির ব্রাডফোর্ড ওয়েস্ট শাখার সদস্য স্টিভ আরলোফ বলেন, লেবার এমপিদের এমন ভাবা উচিত নয়  যে, এমপি পদে আজীবন মনোনয়ন তাদের ‘ঈশ্বর প্রদত্ত অধিকার’। তিনি বলেন, অনেক এমপি স্থানীয় সদস্যদের মতামত তোয়ক্কা না করে টিকে আছেন। অথচ স্থানীয় সদস্যরা নিজেদের জুতা ক্ষয় করে তাদের এমপি বানিয়েছে।
দলের এমপিদের তুমুল বিরোধীতা স্বত্বেও জেরেমি করবিন তৃণমূল সদস্যদের ভোটে লেবার দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। অনেক এমপি এখনও করবিনের বিরুদ্ধাচারণ করছে। এ নিয়ে দলটিতে চলছে অস্থিরতা। লেবারের তৃণমূল সদস্যদের মধ্যে করবিনের আলাদা একটি সমর্থক গোষ্ঠী আছে-‘মোমেন্টাম’। করবিনের দলীয় প্রধানের পদে নির্বাচিত করতেই ‘মোমেন্টাম’ এর আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। দলীয় এমপিদের বিরোধীতার মুখে ‘মোমেন্টাম’ সদস্যরাই করবিনকে টিকিয়ে রেখেছে। দলে বামপন্থী বলে পরিচিত মোমেন্টাম সদস্যদের সংখ্যা এতটা বেড়েছে যে তারাই এখন লেবার দলের নীতি নির্ধারণে মূখ্য ভূমিকা রাখছে। করবিন বিরোধী এমপিদের তৎপরতা বন্ধে মোমেন্টাম সদস্যরা দলীয় এমপিদের মনোনয়ন কেড়ে নিতে (ডিসিলেকশনে) অনাস্থা আনার ওই হাতিয়ার ব্যবহার করতে শুরু করে। করবিন বিরোধী বলে পরিচিত কেইট হোয়ি এবং গেভিন শুকের নামে দুই এমপি সম্প্রতি তাদের স্ব স্ব আসনে অনাস্থা ভোটের শিকার হয়েছেন। আর দুই ডিসিলেকশনের এই প্রচার করবিন বিরোধীদের দমনের জন্য দেখা গেছে। দলের ডানপন্থী ফ্র্যাঙ্ক ফিল্ড এবং জন উডকক দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বুলিয়িং এবং ভয়ভীতির অভিযোগ এনে। এরা অনাস্থা ভোটের শিকার হতে যাচ্ছিলেন। নেতার বিরুদ্ধাচারী এমপিদের মনোনয়ন কেড়ে নিতে চান তৃণমূলের সদস্যরা। মূলত করবিন সমর্থকরাই এমপিদের ডিসিলেকশনের নিয়ম শিথিল করতে ভূমিকা রাখেন।  প্রতিবছর সেপ্টেম্বরে (শরৎকালে) লেবার পার্টির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর লিভারপুল শহরে হচ্ছে সম্মেলন। দলীয় সদস্যদের পাশাপাশি দর্শনার্থী ও অংশিজনদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এটি। প্রায় ১৩ হাজার লোক এতে অংশ নেয়। এখানে দলের তৃণমূল সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দিয়ে দলের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নির্ধারণ করেন। এবার সম্মেলনে ব্রেক্সিট (ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) বিষয়ে মোট ১৫১টি প্রস্তাব জমা পড়েছে। কোনো একক বিষয়ে এত প্রস্তাব উত্থাপনের ঘটনা বিরল। বেশির ভাগ প্রস্তাব ব্রেক্সিট বিষয়ে পুনরায় গণভোটের দাবি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা ও ভোটাভুটি হবে। এবারের দলীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে ব্রেক্সিটবিরোধীরা আগ থেকেই তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। সম্মেলনে তারা পুনরায় গণভোটের প্রস্তাব পাশ করিয়ে নিতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, দলের সদস্যরা যে মতামত দেবেন সেটিই তিনি করবেন।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে কনজারভেটিভ দলের সম্মেলন। সেখানেও এবার ব্রেক্সিট বিষয়ে পুনরায় গণভোটের বিষয়টি মূখ্য হয়ে উঠবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।