Share |

সাবেক প্রধান বিচারপতির প্রকাশিত গ্রন্থ ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ : বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার করুণ চিত্র

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সাম্প্রতিক প্রকাশিত ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ নিয়ে তোলপাড় চলছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধান বিচারপতি তাঁর বইয়ে বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ডে সরকারী হস্তক্ষেপ আর জোর জবরদস্তির বিবরণ নানা উদাহরণ সহকারে তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশের প্রত্যাশিত নির্বাচনের মাত্র মাসকয়েক আগে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অভিযোগ এই বইয়ে আনা হয়েছে তাতে হতবাক বাংলাদেশের মানুষ। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি সাবেক হওয়া এই প্রধান বিচারপতির বইয়ে তাঁর পদত্যাগ থেকে শুরু করে দেশত্যাগ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের বাইরের মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।  
প্রধান বিচারপতির এই বইয়ের বক্তব্য সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে গেছে। আর সরকারের বিভিন্ন মহল এবং ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিশ্বাসযোগ্যতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর ‘ক্রেডিবিলিটি’ নষ্টের চেষ্টা সাথে সাথেই শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অপকর্মের কথা সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছ থেকে দুনিয়ার মানুষ জানলো সরকারের পক্ষ থেকে সেসব অভিযোগ খণ্ডনের চেষ্টা তেমন দেখা যায়নি কেনো। শুধু তাই নয়, বই প্রকাশিত হবার পর থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার চরিত্রহননের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রীনেতাদের কেউ কেউ তাঁকে রাজাকারের দোসর-সমর্থক বানানোর চেষ্টাও করে চলেছেন।
কারোর আচরণ বা বক্তব্য সরকার বা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গেলেই ঐ ব্যক্তি বা সমালোচকদের চরিত্রহনন করে তাদের বক্তব্য সম্পর্কে জনমনে অবিশ্বাস ও সংশয় সৃষ্টির অপচেষ্টা নতুন শক্তিমানদের হাতিয়ার নয়। কিন্তু সম্প্রতি এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশে বিষয়টিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া হলো। অন্যদিকে, কিছু মিডিয়া অতি উৎসাহী হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে পরিস্থিতি আরো ঘোলা করে তোলার চেষ্টাও হয়েছে।  তবে, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এখন যা বলছেন তার সবই যে হুবহু সঠিক তেমনটি নিশ্চিত হওয়া কঠিন। কিন্তু এই সরকারেরই নিযুক্ত প্রধান বিচারপতির সাথে তাদের বর্তমান বৈরী অবস্থান তৈরীর পেছনে যে বড় কারণ আছে, তাতে মানুষের সন্দেহ কম। প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল। তিনি এই বই লেখা এবং এতে প্রকাশিত বক্তব্য বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন মহলে কী প্রতিক্রিয়া তৈরী করবে, তা আঁচ আগে থেকেই করেছেন বলে ধারণা করা যায়। আর তাঁর এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নানা চাপ তাঁর ওপর আসবে, এটা তাঁর অনুমান না করার কথা নয়। তবুও, তিনি এই বই প্রকাশ করে সরকারকে বিপাকে ফেলার সাহস দেখালেন কোন ভরসায়- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে, প্রধান বিচারপতির বইয়ের বক্তব্যের অংশবিশেষও সঠিক হলে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে ভঙ্গুরতা বিরাজ করছে, তা এই ঘটনার মধ্যদিয়ে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।