Share |

এবার বাংলাদেশ দখলের হুমকি বিজেপি নেতার

লন্ডন, ১ অক্টোবর : বাংলাদেশে গায়ের জোরে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত ও মন্দির দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাংসদ সুব্রামাণিয়াম স্বামী। এটা বন্ধ না হলে বাংলাদেশ দখল করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। রোববার সকালে আগরতলায় ত্রিপুরা সরকারের সরকারি অতিথিশালায় সংবাদ সম্মেলনে সুব্রামাণিয়াম এ কথা বলেন। তাঁর সাফ কথা, ‘শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু মুসলিমদের হিন্দুদের গায়ের জোরে ধর্মান্তকরণ ও মন্দির ভাঙার তাণ্ডব বন্ধ করতে হবে।’ সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দুদের বিরুদ্ধে পাগলামি বন্ধ না হলে বাংলাদেশ দখল করতে হবে। আমি সরকারকে সেই পরামর্শই দেব।’ শুধু বাংলাদেশ নয়, এদিন পাকিস্তানের সঙ্গেও যুদ্ধের দামামা বাজানোর চেষ্টা করেন ভারতীয় রাজ্যসভার এই প্রবীণ সদস্য। তিনি পাকিস্তানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘চাপরাসি’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ‘ইমরান বা অন্য কেউ নামেই প্রধানমন্ত্রী। আসলে সবাই সেনাবাহিনী বা আইএসআইয়ের চাপরাসি।’ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীকে শুধু চাপরাসি বলেই থেমে থাকেননি তিনি। বললেন, পাকিস্তানকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে ছেড়ে দিতে হবে। আগে তো দুভাগ হয়েছে। এবার চার ভাগ করতে হবে। বালুচি, সিন্ধি, পোকতোনি ও  পাকিস্তানকে আলাদা করে দিতে হবে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও এদিন ফের বিতর্কিত মন্তব্য শোনা যায় সুব্রামাণিয়ামের মুখে। বললেন, জিনিসপত্রের দাবি বা অর্থনীতি দিয়ে ভোট হয় না। হিন্দুত্ব আর দুর্নীতিই হবে ভোটের মূল ইস্যু। এটাকে কাজে লাগিয়েই জিতবে বিজেপি। বাড়বে আসনও। হিন্দুত্বের প্রশ্নে এদিন তিনি ফের দাবি করেন, ভারতের তিন হিন্দু মন্দির পুনরুদ্ধার করতে হবে। অযোধ্যার রামমন্দির, কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির ও মথুরার কৃষ্ণ মন্দিরের কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, ‘এই তিন মন্দিরসহ ৪০ হাজার মন্দির মুসলিম আগ্রাসনের সময় ধ্বংস হয়েছে। তবে তিনটি মন্দির মুসলিমরা স্বেচ্ছায় দিলে বাকি সব মন্দির ছেড়ে দিতে আমরা প্রস্তুত। না হলে সবই আমরা দখল করে নেব। এটাই হলো হিন্দুদের শ্রীকৃষ্ণ প্যাকেজ।’ এদিন ফের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ‘জালিয়াত’ বলে উল্লেখ করেন সুব্রামাণিয়াম। সোনিয়া গান্ধীকে দুর্নীতির দায়ে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় জেলে পাঠানোরও হুমকি দেন তিনি। তবে রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে ভারতীয় রাজনীতি তোলপাড় হলেও তিনি বিষয়টি জানেন না বলে এড়িয়ে যান। ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রাম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুব্রামাণিয়াম মন্তব্য করেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে চ্চালিন খুন করিয়েছিলেন। বিজেপির সাংসদ হয়েও এদিন তাঁর মুখে শোনা গেছে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির বিরূপ সমালোচনা। এর আগে ভারতে অবস্থানরত কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘ঘুণপোকা’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহ। তাঁদের চি?িত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। রাজস্থানের সাওয়াই মাধোপুর জেলার গঙ্গাপুরে সম্প্রতি এক জনসভায় অমিত শাহ এ কথা বলেন।
আসাম রাজ্যের জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, বিজেপি সরকার এনআরসি করেছে এবং এতে প্রায় ৪০ লাখ অবৈধ অভিবাসী চি?িত হয়েছে। এভাবেই সরকার ভারতে অবস্থানরত প্রত্যেক ‘অনুপ্রবেশকারীকে’ চি?িত করবে।  আসামে গত জুলাই মাসে এনআরসি দ্বিতীয় খসড়া প্রকাশ করা হয়। রাজ্যের ৪০ লাখ বাসিন্দার নাম নেই ওই তালিকায়। তাঁদের অনেকেই কয়েক প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাস করছেন।
এরপর হরিয়ানা ও ওডিশাতেও এনআরসির দাবি উঠেছে। সর্বশেষ ঝাড়খন্ড রাজ্যে এনআরসির দাবি তুলেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। গত সপ্তাহে নিজ বাড়িতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মত পরিষ্কার। আমাদের প্রত্যেক অবৈধ বাংলাদেশিকে খুঁজে বের করে দেশ থেকে এক এক করে বের করে দিতে হবে।’
চলতি মাসের শুরুর দিকে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব এনআরসি নিয়ে দলের নীতি তুলে ধরেন পরিষ্কারভাবে। তিনি বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ ভাগ্য নির্ধারিত হবে তিন ‘ডি’র ভিত্তিতে। প্রথম ডি ‘ডিটেক্ট’ অর্থাৎ শনাক্ত করা, দ্বিতীয় ডি ‘ডিলিট’ অর্থাৎ বাদ দেওয়া এবং শেষ ডি ‘ডিপোর্টেশন’ অর্থাৎ বিতাড়ন করা। তাঁর কথার অর্থ, অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করে ভোটার তালিকাসহ অন্যান্য সেবা তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে। এরপর তাঁদের ভারত থেকে বিতাড়ন করা হবে।